সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং লেবাননের সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত তীব্রতর হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজ সোমবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের (ডব্লিউটিআই) মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৬২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৬৫ ডলারে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৩ দশমিক ১৭ ডলারে পৌঁছেছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা ধূসর হয়ে ওঠার ফলে এ উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা সত্ত্বেও পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় সমাধানের আশা কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্র রোববার ইরানের গোরুক ও কেশম দ্বীপের রাডার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, এটি তেহরানের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) সোমবার জানিয়েছে, তারা সিরিক দ্বীপের একটি বিমান ঘাঁটির লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন, এপ্রিলের শুরুতে ঘোষিত ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের প্রস্তাবিত চুক্তি দ্রুত মূল্যায়ন করবেন। চুক্তি কার্যকর হলে বিরোধপূর্ণ বিষয়ের স্থায়ী সমাধান ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য সময় বাড়ানো যাবে।
বিশ্লেষকরা হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগও প্রকাশ করছেন। এই নৌপথে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলে। ইরান ইতিমধ্যেই নৌপথটি কার্যত বন্ধ করেছে, এবং কয়েকটি নতুন সামুদ্রিক মাইন বসানোর খবর এসেছে। ফলে নৌপথ পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া ধীর হবে এবং তেলের বাজারে স্বস্তি আসবে দেরিতে।
























