ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

যুদ্ধ থামাতে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের পরও ইরানে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন। পাশাপাশি তিনি জানান, ধমক ও জবরদস্তিই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল চরিত্র।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার পক্ষ থেকে একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করা হয়। এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

‘গ্রেট শয়তানের’ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘গ্রেট শয়তান’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অবৈধতা আবারও প্রমাণ করেছে। এছাড়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ধমক, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

খামেনির ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রকৃত রূপ প্রকাশ করে ফেলেছে। ফলে তাদের প্রতারণা, অযৌক্তিকতা ও অবিশ্বস্ততা এখন সবার সামনে স্পষ্ট।

‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি

সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে খামেনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই অবিস্মরণীয় শিক্ষা পেতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।

তার মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা। পাশাপাশি অপরাধী ও ধূর্ত মার্কিন শত্রুর বিরুদ্ধে ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

পেজেশকিয়ানের ঐক্যের আহ্বান

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিজয়ের চাবিকাঠি হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং বিভেদ এড়িয়ে চলা।

সমঝোতা স্মারকের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করা। চুক্তিতে সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তবে তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর থেকেই চুক্তিটিকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্ডানে ২ মার্কিন সেনা নিহত

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

যুদ্ধ থামাতে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের পরও ইরানে মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর সম্পূর্ণ মূল্যহীন। পাশাপাশি তিনি জানান, ধমক ও জবরদস্তিই মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির মূল চরিত্র।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার পক্ষ থেকে একটি লিখিত বিবৃতি পাঠ করা হয়। এই তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

‘গ্রেট শয়তানের’ চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘গ্রেট শয়তান’ আখ্যা দিয়ে বলা হয়, বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা আমেরিকার প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের অবৈধতা আবারও প্রমাণ করেছে। এছাড়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ধমক, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

খামেনির ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র নিজের প্রকৃত রূপ প্রকাশ করে ফেলেছে। ফলে তাদের প্রতারণা, অযৌক্তিকতা ও অবিশ্বস্ততা এখন সবার সামনে স্পষ্ট।

‘অবিস্মরণীয় শিক্ষা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি

সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে খামেনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই অবিস্মরণীয় শিক্ষা পেতে হবে। তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’ যুক্তরাষ্ট্রকে এমন এক শিক্ষা দেবে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।

তার মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা। পাশাপাশি অপরাধী ও ধূর্ত মার্কিন শত্রুর বিরুদ্ধে ইরানের মর্যাদা ও স্বাধীনতা রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

পেজেশকিয়ানের ঐক্যের আহ্বান

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিজয়ের চাবিকাঠি হলো জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং বিভেদ এড়িয়ে চলা।

সমঝোতা স্মারকের প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। এর লক্ষ্য ছিল স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের পরিস্থিতি তৈরি করা। চুক্তিতে সই করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

তবে তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার পর থেকেই চুক্তিটিকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।