গাজীপুরের কোনাবাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোররাতে কোনাবাড়ির পারিজাত এলাকায় হাফিজুর রহমানের ভাড়া বাসা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিচয়
নিহত গৃহবধূর নাম রোকেয়া (২৪)। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল থানার হরিয়াগুনি গ্রামে। তিনি তারা মিয়ার মেয়ে।
রোকেয়া স্বামী আরিফের (২৭) সঙ্গে কোনাবাড়ি থানাধীন পারিজাত এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। এদিকে তার স্বামী রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এই দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলছিল। রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সেই বাগবিতণ্ডার জেরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে যেকোনো সময় স্বামী তার স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর তিনি পালিয়ে যান।
রাত ১০টার দিকে রোকেয়া রুম থেকে বের না হওয়ায় আশপাশের ভাড়াটিয়াদের সন্দেহ হয়। তখন তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুমের ভেতরে গৃহবধূর মরদেহ দেখতে পায়।
মরদেহ ময়নাতদন্তে
সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পরিবারের সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে এই দম্পতি প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ে করেছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না।
পুলিশের বক্তব্য
গাজীপুর মেট্রোপলিটন কোনাবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইফতেখার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটিকে শ্বাসরোধজনিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়া নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


























