পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছড়ানো খবরটিকে সম্পূর্ণ অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌ-পরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি স্পষ্ট করেছেন, পূর্বের প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই চুক্তির শর্ত মেনে এই মাটি সরানো হচ্ছে। এতে ভায়াডাক্টের কোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
আজ (বৃহস্পতিবার) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার আলীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা রেল সেতু ও সংলগ্ন ভায়াডাক্টের নিচের অংশ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
অপপ্রচার বনাম প্রকৃত সত্য
রেলমন্ত্রী বলেন, অতি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে যে, বুড়িগঙ্গা রেল সেতুর ভায়াডাক্টের নিচের মাটি কোনো এক প্রভাবশালী চক্র বিক্রি করে দিচ্ছে, যার ফলে পিলারসহ পুরো সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা হলো, এখানে কোনো মাটি বিক্রি করা হচ্ছে না এবং ভায়াডাক্টের ক্ষতির কোনো কারণই তৈরি হয়নি।
তিনি জানান, প্রকল্প শুরুর আগের প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তিবদ্ধ থাকে। নিয়ম অনুযায়ী, কাজ শেষে যেকোনো অস্থায়ী অবকাঠামো বা ভরাট করা মাটি অপসারণ করা নির্মাণকারী সংস্থার দায়িত্ব। এই কাজের জন্য প্রকল্পের নির্দিষ্ট খাতে অর্থ বরাদ্দও রয়েছে।
প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ
২০১৫ সালের স্যাটেলাইট চিত্র ও ওয়েটল্যান্ড সার্ভের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নির্মাণকাজ শুরুর আগে এই প্রকল্প এলাকাটি একটি স্থায়ী জলাশয় ছিল। প্রকল্প শেষ হওয়ার পর সেই জলাশয়টিকে আগের রূপ দিতেই অস্থায়ীভাবে ভরাট করা মাটি এখন অপসারণ করা হচ্ছে।
ভায়াডাক্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত
মাটি কাটার গভীরতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, একটি সুনির্দিষ্ট চেইনেজ বা পরিমাপ মেনে গড়ে সাড়ে পাঁচ ফুট গভীরতায় এই মাটি সরানো হচ্ছে। মাটি অপসারণের পর যে ভূমিস্তর তৈরি হবে, সেখান থেকে মূল পাইল ক্যাপের অবস্থান থাকবে আরও ৮ ফুট নিচে।
এই পাইল ক্যাপটি ৬ ফুট পুরু এবং এর ঠিক নিচেই ভায়াডাক্টের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ ৮টি পাইল মাটির গভীরে পোঁতা রয়েছে, যা কাঠামোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ফলে সাড়ে পাঁচ ফুট মাটি সরালে সেতুর সুরক্ষায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
মন্ত্রী এ সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার থেকে বিরত থেকে প্রকৃত সত্য তুলে ধরার জন্য গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ফাহিমুল ইসলামসহ পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



























