ঢাকা ১১:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন নিয়মেই সর্বনাশ, লাল কার্ডের ফাঁদে বিদায় সুইজারল্যান্ডের

নতুন নিয়মেই সর্বনাশ, লাল কার্ডের ফাঁদে বিদায় সুইজারল্যান্ডের

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফিফার নতুন ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মের শিকার হয়ে লাল কার্ড দেখেছেন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। এই টুর্নামেন্টে এটিই এই নিয়মে প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের বহিষ্কারের ঘটনা, আর এটিই বদলে দিয়েছে ম্যাচের পুরো চিত্র।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ড শিবির। দলের কোচ মুরাত ইয়াকিনের সরাসরি অভিযোগ, এই একটি সিদ্ধান্তেই তাদের ম্যাচ ভেস্তে গেছে।

অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তুষ্টি জানান তিনি।

গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইয়াকিনের দাবি অনুযায়ী লাল কার্ড দেখানোর আগ পর্যন্ত ম্যাচের রাশ ছিল তাদের হাতেই, আর বিতর্কিত ওই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ।

কী বলেছেন কোচ ইয়াকিন
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এম্বোলোর লাল কার্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইয়াকিন বলেন, এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন। রেফারিদের পক্ষে ফিফা সবসময় দাঁড়াবে জেনেও তিনি বলেন, এই নিয়মের কারণেই দিনের ম্যাচটি নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, পুরো ম্যাচ দেখলে যে কেউ বুঝবে তার দল প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তা কোনো কাজেই আসেনি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দল ও কোচিং স্টাফের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি গর্ব প্রকাশ করেন এবং জানান, দশজন খেলোয়াড় নিয়েও তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন, তবে ভাগ্য সহায় হয়নি। এভাবে বিদায় নেওয়াটা তার কাছে সত্যিই কষ্টের।

লাল কার্ডের আগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল, সে প্রসঙ্গে ইয়াকিন বলেন, লাল কার্ডের আগ পর্যন্ত ম্যাচের ছন্দ পুরোপুরি তাদের অনুকূলে ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার আগেই জয়ের লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা ছিল তাদের, কিন্তু তারপরই সব উলটপালট হয়ে যায়।

ভিএআর নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন
এবারের বিশ্বকাপে চালু হওয়া নতুন ভিএআর নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুইস কোচ। তিনি বলেন, এই নিয়মের উৎস সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই, তবে নিয়ম যখন বলবৎ আছে, তখন তা বদলানোর সুযোগ নেই।

সবশেষে রেফারির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতিতে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এর আগেও এমন বহু মুহূর্ত এসেছে যেখানে ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, অথচ হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই নিয়মের কোনো জায়গা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। রেফারিকে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ কেন দেওয়া হবে, আর সেই সুযোগের মাশুল কেন তাদের দলকে দিতে হবে এই প্রশ্নই তুলে ধরেন কোচ।

ম্যাচের সারসংক্ষেপ
সুইজারল্যান্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তের জেরেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রিল এম্বোলোকে। এরপর দশজনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, ত্রাণ-চিকিৎসায় গুরুত্বারোপ

নতুন নিয়মেই সর্বনাশ, লাল কার্ডের ফাঁদে বিদায় সুইজারল্যান্ডের

আপডেট সময় : ০১:৫৩:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফিফার নতুন ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়মের শিকার হয়ে লাল কার্ড দেখেছেন সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলো। এই টুর্নামেন্টে এটিই এই নিয়মে প্রথম কোনো খেলোয়াড়ের বহিষ্কারের ঘটনা, আর এটিই বদলে দিয়েছে ম্যাচের পুরো চিত্র।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ড শিবির। দলের কোচ মুরাত ইয়াকিনের সরাসরি অভিযোগ, এই একটি সিদ্ধান্তেই তাদের ম্যাচ ভেস্তে গেছে।

অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ভিএআরের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তুষ্টি জানান তিনি।

গার্ডিয়ানের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইয়াকিনের দাবি অনুযায়ী লাল কার্ড দেখানোর আগ পর্যন্ত ম্যাচের রাশ ছিল তাদের হাতেই, আর বিতর্কিত ওই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় ম্যাচের গতিপথ।

কী বলেছেন কোচ ইয়াকিন
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এম্বোলোর লাল কার্ড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইয়াকিন বলেন, এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া কঠিন। রেফারিদের পক্ষে ফিফা সবসময় দাঁড়াবে জেনেও তিনি বলেন, এই নিয়মের কারণেই দিনের ম্যাচটি নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, পুরো ম্যাচ দেখলে যে কেউ বুঝবে তার দল প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো ফুটবল খেলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত তা কোনো কাজেই আসেনি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দল ও কোচিং স্টাফের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি গর্ব প্রকাশ করেন এবং জানান, দশজন খেলোয়াড় নিয়েও তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন, তবে ভাগ্য সহায় হয়নি। এভাবে বিদায় নেওয়াটা তার কাছে সত্যিই কষ্টের।

লাল কার্ডের আগে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল, সে প্রসঙ্গে ইয়াকিন বলেন, লাল কার্ডের আগ পর্যন্ত ম্যাচের ছন্দ পুরোপুরি তাদের অনুকূলে ছিল। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার আগেই জয়ের লক্ষ্যে আক্রমণাত্মক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা ছিল তাদের, কিন্তু তারপরই সব উলটপালট হয়ে যায়।

ভিএআর নিয়ম নিয়ে প্রশ্ন
এবারের বিশ্বকাপে চালু হওয়া নতুন ভিএআর নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুইস কোচ। তিনি বলেন, এই নিয়মের উৎস সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই, তবে নিয়ম যখন বলবৎ আছে, তখন তা বদলানোর সুযোগ নেই।

সবশেষে রেফারির সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতিতে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো প্রয়োজনই ছিল না। এর আগেও এমন বহু মুহূর্ত এসেছে যেখানে ভিএআরের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন ছিল, অথচ হয়নি। কোয়ার্টার ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই নিয়মের কোনো জায়গা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। রেফারিকে নিজের ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ কেন দেওয়া হবে, আর সেই সুযোগের মাশুল কেন তাদের দলকে দিতে হবে এই প্রশ্নই তুলে ধরেন কোচ।

ম্যাচের সারসংক্ষেপ
সুইজারল্যান্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্তের জেরেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রিল এম্বোলোকে। এরপর দশজনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ড অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল হজম করে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।