ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্কুলের টিফিনের রুটিতে মিললো ব্লেড, তদন্তে উঠে এলো ভিন্ন চিত্র

স্কুলের টিফিনের রুটিতে মিললো ব্লেড, তদন্তে উঠে এলো ভিন্ন চিত্র

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় হরিসেনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সরকারি টিফিনের রুটির মধ্যে ধারালো ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্তে এ ঘটনায় রুটি প্রস্তুত বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি বা সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রুটির মধ্যে ব্লেড নিয়ে আলোচিত এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

বুধবার (২৯ জুলাই) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম।

এদিকে, সত্যতা যাচাই ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ওই ঘটনার ছবি ছড়ানোর অভিযোগে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক নাসরিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।

ইউএনও মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘গত ২২ জুলাই ওই বিদ্যালয়টির প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মিড ডে মিলের বনরুটির মধ্যে এই ব্লেড পাওয়ার কথা জানায় তার শ্রেণিশিক্ষক শারমিন জাহানকে। কাউকে কিছু না জানিয়ে ওই শিক্ষিকা এই ঘটনার ছবি বিভিন্ন গ্রুপে সরবরাহ করেন।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে গত বৃহস্পতিবার আমি বিদ্যালয় পরিদর্শন করি। পরে আরও তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিই। আমি নিজেই গাজীপুরের কোকোলা ফ্যাক্টরিতে রুটি তৈরির প্রক্রিয়া পরিদর্শন করি। সেখানে নিশ্চিত হই-এই রুটির মধ্যে ব্লেড থাকার কোনো সুযোগ নেই।’

পরে এক স্কুল শিক্ষিকাকে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ হতে পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়ে ইউএনও বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন উপহার কিনে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী নিজেই বিদ্যালয়ে ব্লেড নিয়ে আসার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, ভয়ে ও শিক্ষিকার নজর এড়াতে বনরুটির মধ্যে ব্লেডটি লুকিয়ে রেখেছিল। শিক্ষার্থীর বাবা-মা এ বিষয়টি আগেই জানতেন বলে স্বীকার করেন।’

বিদ্যালয়টিতে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান বলেন, ‘প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রুটি তৈরি করা হয়। এছাড়া প্যাকেজিংয়ের সময় প্রতিটি রুটি মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাই রুটিতে কোনো ধাতব পদার্থ থাকার সুযোগ নেই।’

এদিকে স্কুলশিক্ষিকাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা সারমিন জাহানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আলমতাজ টিফিনের রুটি খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পাওয়ার কথা শ্রেণিশিক্ষক সারমিন জাহানকে জানায়, যা পরবর্তীতে দেশব্যাপী আলোচিত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়ামালের কার্ড বিক্রি হলো পেলে-মেসিকেও ছাড়িয়ে

স্কুলের টিফিনের রুটিতে মিললো ব্লেড, তদন্তে উঠে এলো ভিন্ন চিত্র

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় হরিসেনা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সরকারি টিফিনের রুটির মধ্যে ধারালো ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। তদন্তে এ ঘটনায় রুটি প্রস্তুত বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কোনো গাফিলতি বা সম্পৃক্ততার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। রুটির মধ্যে ব্লেড নিয়ে আলোচিত এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

বুধবার (২৯ জুলাই) এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম।

এদিকে, সত্যতা যাচাই ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ওই ঘটনার ছবি ছড়ানোর অভিযোগে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক নাসরিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।

ইউএনও মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘গত ২২ জুলাই ওই বিদ্যালয়টির প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মিড ডে মিলের বনরুটির মধ্যে এই ব্লেড পাওয়ার কথা জানায় তার শ্রেণিশিক্ষক শারমিন জাহানকে। কাউকে কিছু না জানিয়ে ওই শিক্ষিকা এই ঘটনার ছবি বিভিন্ন গ্রুপে সরবরাহ করেন।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে গত বৃহস্পতিবার আমি বিদ্যালয় পরিদর্শন করি। পরে আরও তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিই। আমি নিজেই গাজীপুরের কোকোলা ফ্যাক্টরিতে রুটি তৈরির প্রক্রিয়া পরিদর্শন করি। সেখানে নিশ্চিত হই-এই রুটির মধ্যে ব্লেড থাকার কোনো সুযোগ নেই।’

পরে এক স্কুল শিক্ষিকাকে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ হতে পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়ে ইউএনও বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন উপহার কিনে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী নিজেই বিদ্যালয়ে ব্লেড নিয়ে আসার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, ভয়ে ও শিক্ষিকার নজর এড়াতে বনরুটির মধ্যে ব্লেডটি লুকিয়ে রেখেছিল। শিক্ষার্থীর বাবা-মা এ বিষয়টি আগেই জানতেন বলে স্বীকার করেন।’

বিদ্যালয়টিতে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান বলেন, ‘প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রুটি তৈরি করা হয়। এছাড়া প্যাকেজিংয়ের সময় প্রতিটি রুটি মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাই রুটিতে কোনো ধাতব পদার্থ থাকার সুযোগ নেই।’

এদিকে স্কুলশিক্ষিকাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, সরকারি বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা সারমিন জাহানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী আলমতাজ টিফিনের রুটি খাওয়ার সময় রুটি ছিঁড়ে তার ভেতরে একটি ব্লেড দেখতে পাওয়ার কথা শ্রেণিশিক্ষক সারমিন জাহানকে জানায়, যা পরবর্তীতে দেশব্যাপী আলোচিত হয়।