নেত্রকোণার দুর্গাপুরে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে কমরেড মণি সিংহের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের এই সংগ্রামী নেতা টঙ্ক আন্দোলনেরও অন্যতম রূপকার ছিলেন।
কমরেড মণি সিংহ মেলা উদ্যাপন কমিটি এই আয়োজনের নেতৃত্ব দেয়। মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কর্মসূচি। উদ্বোধন করেন সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ। এরপর কমরেড মণি সিংহের প্রতিকৃতিতে ফুল দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা, যেখানে মহান এই নেতার জীবন ও কর্ম নিয়ে কথা বলেন বক্তারা।
আলোচকরা বলেন, কমরেড মণি সিংহ ছিলেন মেহনতি মানুষের মুক্তিসংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানবিরোধী গণসংগ্রাম—সবখানেই তাঁর ভূমিকা ছিল উজ্জ্বল। এছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
কৃষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। টঙ্ক আন্দোলন তারই একটি বড় দৃষ্টান্ত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনদর্শন গড়ে উঠেছিল শোষণমুক্ত ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নকে ঘিরে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে শোষণমুক্ত সমাজ গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিপ্লবী চেতনা ছড়িয়ে দিতে কমরেড মণি সিংহের আদর্শ অনুসরণ করা প্রয়োজন।
আলোচনা পর্ব শেষে মঞ্চে ওঠে শিল্পকলা একাডেমি ও উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। তারা একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কমরেড দিবালোক সিংহ। সঞ্চালনায় ছিলেন সিপিবি উপজেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুপন কুমার সরকার। বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার, মেলা উদ্যাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অজয় সাহা, সিপিবি জেলা কমিটির সম্পাদক আলকাছ উদ্দিন মীর, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল-মামুন মুকুল প্রমুখ।
এছাড়া বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মানেশ চন্দ্র সাহা, এম রফিকুল ইসলাম রফিক, তোবারক হোসেন খোকন, দিলোয়ার হোসেন তালুকদার, মোরশেদ আলম, শামছুল আলম খান, সফিউল আলম স্বপন, জাহাঙ্গীর আলম রিপন ও তাসলিমা বেগম।
কমরেড মণি সিংহ ১৯০১ সালের ২৮ জুলাই কলকাতার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা। ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
























