সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে জাল জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে আদালতে শিশু পরিচয় দিয়ে জামিন নেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযুক্তের প্রকৃত বয়স ২২ বছর হলেও আদালতে দাখিল করা কাগজপত্রে তাকে মাত্র ১৭ বছরের শিশু হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাহিরপুর থানার একটি প্রতিবেদন থেকেই এই গরমিল ধরা পড়ে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্তের নামে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। এই পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম অলক ব্রহ্ম, পিতা প্রদীপ চন্দ্র ব্রহ্ম এবং মাতা অঞ্জনা পাল। এতে জন্মতারিখ উল্লেখ আছে ১ জানুয়ারি ২০০৫, যা অনুযায়ী তার বয়স প্রায় ২২ বছর।
এর বিপরীতে সুনামগঞ্জ পৌরসভা থেকে ইস্যু করা আরেকটি জন্ম নিবন্ধনে তার বয়স উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখানো হয়েছে। সেখানে জন্মতারিখ দেখানো হয় ১৮ মে ২০০৯, যা অনুযায়ী বর্তমান বয়স দাঁড়ায় মাত্র ১৬ বছর। এই দ্বিতীয় নথিটি ব্যবহার করেই তিনি আদালতে শিশু হিসেবে জামিন লাভ করেন।
পুলিশি তদন্তে কী উঠে এসেছে
তাহিরপুর থানার এফআইআর অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ প্রতিবেশীর ঘরে ঢুকে লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়। পরে ২৬ জুলাই রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী আদালতে যে প্রতিবেদন জমা দেন, তাতে অভিযুক্তকে ধারাবাহিকভাবে “শিশু” হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ তার নামে যে ভোটার আইডি রয়েছে, সে তথ্য প্রতিবেদনে উঠে আসেনি।
পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী বলেন, গ্রেপ্তারের সময় আসামিপক্ষ যে জন্ম নিবন্ধনের কপি দিয়েছিল, তা অনলাইনে যাচাই করেই শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তিনি জানান, পরবর্তীতে আসামির নামে ভোটার আইডির তথ্য জানতে পারার পর এখন চার্জশিটে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে উল্লেখ করা হবে।
জন্ম নিবন্ধনটি ইস্যুর সময়কার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সম্পর্কে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান ৫নং ওয়ার্ডের সনাক্তকারী স্টাফ লিটন রায় জানান, ২০১৯ সালের ১৭ এপ্রিল যখন এই নিবন্ধন ইস্যু করা হয়, তখন তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। এ বিষয়ে সাবেক পৌর মেয়র নাদের বখ্ত বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
অভিযুক্তের শহরের ঠিকানায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



















