ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিএসইতে চাকরি অবসান: তদন্তের নির্দেশ দিল অর্থ মন্ত্রণালয়

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসইতে) চাকরি অবসান ইস্যুতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) চার কর্মকর্তার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসিকে তদন্তপূর্বক কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের বিষয়টি বিধি অনুযায়ী দেখতে বলা হয়েছে। এর আগে অন্য এক সাবেক কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়।

গণহারে অব্যাহতি ও বিএসইসির হস্তক্ষেপ

গত দুই মাসে তিন দফায় মোট ২৮ জনের চাকরি শেষ করেছে ডিএসই। এর মধ্যে ১১ আগস্ট একদিনেই ১১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া গত ২৫ জুন আটজন এবং ২৯ জুলাই নয়জন কর্মকর্তা চাকরি হারান।

গত মঙ্গলবার এফআইডির উপসচিব ফারজানা জাহান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে বলা হয়, চার কর্মকর্তা গত ২৬ জুলাই মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, বেআইনি ও একতরফাভাবে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী সাবেক কর্মকর্তারা হলেন—আব্দুর রাজ্জাক, শাহীন সরওয়ার হোসেন, হোসনে আরা পারভীন এবং মমতাজুল হক চৌধুরী। সঠিক প্রক্রিয়া না মেনেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

পূর্ববর্তী অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি

একইভাবে পূর্বে আবেদন করেছিলেন সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ। কোনো পূর্বনোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাঁকে বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ছিল।

ফলে গত ২৩ জুলাই বিএসইসিকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেয় এফআইডি। বর্তমানে সেই আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বিএসইসি।

ডিএসইর ব্যাখ্যা ও কর্মকর্তাদের অসন্তোষ

ডিএসইতে চাকরি অবসান হওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তাঁদের কোনো পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। ১১ আগস্টের অব্যাহতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

তবে প্রথম দফায় ১৭ জনের অব্যাহতির বিষয়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কথা জানিয়েছিল ডিএসই। শ্রম আইন ও নিজস্ব বিধিমালা মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে চাকরি হারানো কর্মকর্তারা এই ব্যাখ্যা মেনে নেননি। তাই তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে বিএসইসি শুধু ডিএসইতে চাকরি অবসান নয়, আরও নানা বিষয়ে খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে রয়েছে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিএসই দরপতনের শীর্ষে জিবিবি পাওয়ার, দাম কমেছে ৯%

ডিএসইতে চাকরি অবসান: তদন্তের নির্দেশ দিল অর্থ মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসইতে) চাকরি অবসান ইস্যুতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) চার কর্মকর্তার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসিকে তদন্তপূর্বক কর্মকর্তাদের পুনর্বহালের বিষয়টি বিধি অনুযায়ী দেখতে বলা হয়েছে। এর আগে অন্য এক সাবেক কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়।

গণহারে অব্যাহতি ও বিএসইসির হস্তক্ষেপ

গত দুই মাসে তিন দফায় মোট ২৮ জনের চাকরি শেষ করেছে ডিএসই। এর মধ্যে ১১ আগস্ট একদিনেই ১১ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া গত ২৫ জুন আটজন এবং ২৯ জুলাই নয়জন কর্মকর্তা চাকরি হারান।

গত মঙ্গলবার এফআইডির উপসচিব ফারজানা জাহান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি বিএসইসি চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে বলা হয়, চার কর্মকর্তা গত ২৬ জুলাই মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, বেআইনি ও একতরফাভাবে তাঁদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

অভিযোগকারী সাবেক কর্মকর্তারা হলেন—আব্দুর রাজ্জাক, শাহীন সরওয়ার হোসেন, হোসনে আরা পারভীন এবং মমতাজুল হক চৌধুরী। সঠিক প্রক্রিয়া না মেনেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।

পূর্ববর্তী অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি

একইভাবে পূর্বে আবেদন করেছিলেন সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক আব্দুল লতিফ। কোনো পূর্বনোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাঁকে বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ছিল।

ফলে গত ২৩ জুলাই বিএসইসিকে ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেয় এফআইডি। বর্তমানে সেই আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে বিএসইসি।

ডিএসইর ব্যাখ্যা ও কর্মকর্তাদের অসন্তোষ

ডিএসইতে চাকরি অবসান হওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তাঁদের কোনো পূর্ব নোটিশ দেওয়া হয়নি। ১১ আগস্টের অব্যাহতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।

তবে প্রথম দফায় ১৭ জনের অব্যাহতির বিষয়ে সাংগঠনিক পুনর্গঠনের কথা জানিয়েছিল ডিএসই। শ্রম আইন ও নিজস্ব বিধিমালা মেনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে চাকরি হারানো কর্মকর্তারা এই ব্যাখ্যা মেনে নেননি। তাই তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে বিএসইসি শুধু ডিএসইতে চাকরি অবসান নয়, আরও নানা বিষয়ে খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে রয়েছে শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, আর্থিক লেনদেন এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।