১৭ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লা ১০০ কিমি আল্ট্রা রান সম্পন্ন করেছেন দুই তরুণ রানার। গত ১৫ আগস্ট শনিবার ভোর ৪টায় রাজধানীর ঢাকা জিরো পয়েন্ট থেকে তাদের এই দৌড় শুরু হয়। এরপর অদম্য মানসিক শক্তি নিয়ে তারা কুমিল্লা জিরো পয়েন্টে পৌঁছে লক্ষ্য পূরণ করেন। সফল এই দুই রানার হলেন মো. মেহেদী হাসান তুষার ও মোহাম্মদ আল-আমিন।
সুস্থ জীবনের বার্তায় ব্যতিক্রমী আয়োজন ‘প্রতিটি পদক্ষেপই পরিবর্তনের জন্য’—এই মূল বার্তাকে সামনে রেখে পুরো দৌড়টি আয়োজিত হয়। এর ফলে তরুণ সমাজ সুস্থ জীবনযাপনে উৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া দেশের মানুষের কাছে দীর্ঘদূরত্বের দৌড়ের একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়াও ছিল তাদের উদ্দেশ্য।
ব্যতিক্রমী এই আল্ট্রা রানের মূল আয়োজক ছিল ‘Road to Record’। পাশাপাশি সহযোগী সংগঠক হিসেবে যুক্ত ছিল ‘FitRun’। অন্যদিকে এই যাত্রায় প্রধান স্পন্সর হিসেবে কাজ করেছে ‘Run Mate’। এছাড়া হাইড্রেশন পার্টনার ‘Fuel Hydration Powder’ ও জেল পার্টনার ‘First Move’ তাদের সাহায্য করে।
প্রতিকূল পথ ও হাইড্রেশন সাপোর্ট দৌড়ের পুরো পথজুড়ে রানারদের নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে তীব্র গরম ও রোদ তাদের জন্য বড় পরীক্ষা ছিল। তবে পানিশূন্যতা কাটাতে তারা পথিমধ্যে পানি ও ফল গ্রহণ করেন। উপরন্তু শরীর ঠান্ডা রাখতে তারা নিয়মিত পানি ব্যবহার করে সামনে এগিয়ে যান।
এই দীর্ঘ যাত্রায় তাদের সঙ্গে কোনো বড় সাপোর্ট টিম ছিল না। কিন্তু নিজেদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অদম্য ইচ্ছা তাদের শক্তি জুগিয়েছে। ফলে শারীরিক ক্লান্তি সত্ত্বেও তারা একে অপরকে সাহস দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছান।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংবর্ধনা লক্ষ্য অর্জনের পর রানাররা জানান, এটি কেবল তাদের সক্ষমতা প্রমাণের দৌড় ছিল না। বরং ইতিবাচক বার্তা দেওয়াই ছিল আসল উদ্দেশ্য। তাই পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে চান।
অবশেষে কুমিল্লার স্থানীয় রানাররা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন জানান। ফলে দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি মুহূর্তে দূর হয়ে যায়। তাই কুমিল্লার সকল রানারের প্রতি তারা বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


























