ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার দুই রুটে মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বেড়ে ২ লাখ কোটি টাকা পার

ঢাকার দুই রুটে মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বেড়ে ২ লাখ কোটি টাকা পার

ঢাকায় নতুন দুটি রুটে মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়তে যাচ্ছে। শুরুতে এই প্রজেক্ট দুটির প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এই বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।

ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বাড়ার পেছনে একাধিক প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানায়, বিস্তারিত নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। এর পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর দর বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়েছে। ফলে প্রজেক্টের কাজের গতিও কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে বাজেটে এই বড় ধরনের সংশোধনী আনা হয়েছে।

প্রকল্প দুটির বর্তমান অবস্থা

মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প দুটি ২০১৯ সালে অনুমোদিত হয়। বর্তমানে ডিপো উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষের পথে রয়েছে। এছাড়া মূল কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও বেশ জোরেশোরে চলছে।

এমআরটি লাইন-১ কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাতাল এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথে নির্মিত হবে। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ সাভার থেকে গাবতলী ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।

কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন

সরকার গঠিত সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটি এই বর্ধিত ব্যয় নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়ার নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করে।

কমিটি সম্প্রতি তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল বাজেটের তুলনায় এই দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবটি যৌক্তিক।

ব্যয় বিশ্লেষণের কিছু চিত্র

  • লাইন-১ বাজেট: প্রাথমিক বাজেট ছিল ৫২,৫৬১ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১,২০,৭৯৪ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • লাইন-৫ (উত্তর) বাজেট: প্রাথমিক ব্যয় ৪১,২৩৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৩,১৯১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

  • ডলারের মান: ২০১৯ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ধরা হয়েছিল ৮৪.৫০ টাকা, যা ২০২৫ সালের প্রাক্কলনে প্রায় ১২২ টাকা দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক মনে করেন, প্রজেক্টে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না করলে সার্বিক খরচ কমানো সম্ভব নয়। প্রধান ঋণদাতা সংস্থা জাইকার নির্দিষ্ট কিছু কঠিন শর্তের কারণে দরপত্রে কাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতা হচ্ছে না।

সরকার যদি আলোচনা করে জাইকার শর্তগুলো শিথিল করতে পারে, তবে কেনাকাটার ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়া সময়মত কাজ শেষ করতে না পারলে ভবিষ্যতে এই প্রজেক্টের বাজেট আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

ঢাকার দুই রুটে মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বেড়ে ২ লাখ কোটি টাকা পার

আপডেট সময় : ০৩:০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকায় নতুন দুটি রুটে মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বাড়তে যাচ্ছে। শুরুতে এই প্রজেক্ট দুটির প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে নতুন সংশোধিত প্রস্তাবে মোট খরচ ধরা হয়েছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। বর্তমানে এই বাড়তি ব্যয়ের প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে।

ব্যয় বৃদ্ধির মূল কারণ

ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ব্যয় বাড়ার পেছনে একাধিক প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানায়, বিস্তারিত নকশায় বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। এর পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর দর বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন হয়েছে। ফলে প্রজেক্টের কাজের গতিও কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে বাজেটে এই বড় ধরনের সংশোধনী আনা হয়েছে।

প্রকল্প দুটির বর্তমান অবস্থা

মেট্রোরেলের এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্প দুটি ২০১৯ সালে অনুমোদিত হয়। বর্তমানে ডিপো উন্নয়নের কাজ প্রায় শেষের পথে রয়েছে। এছাড়া মূল কাজের ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও বেশ জোরেশোরে চলছে।

এমআরটি লাইন-১ কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পাতাল এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত উড়ালপথে নির্মিত হবে। অন্যদিকে এমআরটি লাইন-৫ সাভার থেকে গাবতলী ও গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে।

কারিগরি কমিটির মূল্যায়ন

সরকার গঠিত সাত সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কারিগরি কমিটি এই বর্ধিত ব্যয় নিয়ে পর্যালোচনা করেছে। বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক শামীম জেড বসুনিয়ার নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করে।

কমিটি সম্প্রতি তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল বাজেটের তুলনায় এই দ্বিগুণেরও বেশি ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাবটি যৌক্তিক।

ব্যয় বিশ্লেষণের কিছু চিত্র

  • লাইন-১ বাজেট: প্রাথমিক বাজেট ছিল ৫২,৫৬১ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১,২০,৭৯৪ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

  • লাইন-৫ (উত্তর) বাজেট: প্রাথমিক ব্যয় ৪১,২৩৯ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৩,১৯১ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।

  • ডলারের মান: ২০১৯ সালে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ধরা হয়েছিল ৮৪.৫০ টাকা, যা ২০২৫ সালের প্রাক্কলনে প্রায় ১২২ টাকা দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সামছুল হক মনে করেন, প্রজেক্টে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না করলে সার্বিক খরচ কমানো সম্ভব নয়। প্রধান ঋণদাতা সংস্থা জাইকার নির্দিষ্ট কিছু কঠিন শর্তের কারণে দরপত্রে কাঙ্ক্ষিত প্রতিযোগিতা হচ্ছে না।

সরকার যদি আলোচনা করে জাইকার শর্তগুলো শিথিল করতে পারে, তবে কেনাকাটার ব্যয় অনেকটাই কমে আসবে। এছাড়া সময়মত কাজ শেষ করতে না পারলে ভবিষ্যতে এই প্রজেক্টের বাজেট আরও বাড়তে পারে।