মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্তে ইরানে সামরিক অভিযান চালানো বন্ধ করতে একটি ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ বা যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব পাশ করেছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ।
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্প যেন আর স্বাধীনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে না পারেন, সে জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটি নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এমন প্রস্তাব পাশ করল প্রতিনিধি পরিষদ।
গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ২২০-২০৪ ভোটে পাস হয়। এতে সব ডেমোক্র্যাট সদস্যের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান সদস্যও সমর্থন জানান।
আইওয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান জ্যাক নান বলেন, আলোচনার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন বড় ধরনের কোনো সামরিক অভিযান চালাতে হলে কংগ্রেসের অনুমতি নেওয়া জরুরি। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন যে তিনি কোনো অন্তহীন যুদ্ধের পক্ষে নন।
তবে ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ব্রায়ান মাস্টার এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেন, ইরান আমেরিকার জন্য এখনো বড় হুমকি এবং ট্রাম্প এই দীর্ঘদিনের শত্রুতার অবসান ঘটাতে চান।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিনিধি পরিষদে এটিই হয়তো ইরান যুদ্ধ নিয়ে শেষ ভোট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন, যা প্রায় সাত মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
কংগ্রেসের বাজেট অফিসের (সিবিও) তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে এই যুদ্ধের পেছনে খরচ হয়েছে ৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা প্রতি মাসে আরও ৩ বিলিয়ন ডলার করে বাড়ছে। তাছাড়া এই যুদ্ধের কারণে আগামীতে পণ্যের দাম ও মুদ্রাস্ফীতি আরও বেড়ে যেতে পারে।
চলতি বছরের জুলাই মাসের একটি জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মার্কিনিই মনে করেন এই যুদ্ধ কোনো কাজের নয়।
যদিও মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের হাতে, তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কিছু বিশেষ সামরিক ক্ষমতা রয়েছে।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর তৈরি হওয়া আইন অনুযায়ী, ৬০ থেকে ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে কোনো বড় সামরিক অভিযান চালাতে হলে প্রেসিডেন্টের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।


























