ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি ব্রিটিশ-ইসরাইলি তেল প্রকল্প সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন আর্জেন্টিনার এক বিচারক। তবে এই আদেশের বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ খুবই সীমিত। মূলত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও জোরালো করার প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবেই এটি দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আর্জেন্টিনার সর্বদক্ষিণের প্রদেশ তিয়েরা দেল ফুয়েগোর একটি আদালত এই অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। চলতি মাসের শুরুতে ১৯৮২ সালের যুদ্ধে অংশ নেওয়া কয়েকজন সাবেক সেনা এবং পরিবেশবিষয়ক আইনজীবী মামলা করার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
মামলায় ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার এক্সপ্লোরেশন এবং ইসরাইলি কোম্পানি নাভিটাস পেট্রোলিয়াম পরিচালিত ‘সি লায়ন’ তেলক্ষেত্রের কাজ বন্ধ করার আবেদন করা হয়েছিল। তেলক্ষেত্রটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, কোম্পানিগুলোকে সেখানে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বা উত্তোলনের জন্য খনন, অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম শুরু, চালিয়ে যাওয়া বা করানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে।
বিচারক সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ১০ দিনের মধ্যে প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা, ঠিকাদার এবং অর্থায়নকারীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইর সরকারও এই তেল প্রকল্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের যুক্তি, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত একতরফাভাবে কোনো কার্যক্রম না চালানোর আহ্বান জানানো জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবের সঙ্গে এই প্রকল্প সাংঘর্ষিক।
আদালতের এই আদেশের মাত্র এক দিন আগে আর্জেন্টিনা জানিয়েছিল, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল অনুসন্ধানকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তারা আরও আইনি ব্যবস্থা নেবে। এর ফলে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলে ব্যবসা করা কোম্পানিগুলোর ওপর আর্জেন্টিনার চাপ আরও বাড়ছে।


























