ঢাকা ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে আত্মনির্ভরতা ও দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান জিয়াউর রহমান

প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে আত্মনির্ভরতা ও দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান জিয়াউর রহমান

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের স্বনির্ভর উন্নয়নের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ভাষণে জিয়াউর রহমান জনসংখ্যার চাপ, বেকারত্ব, ভূমিহীনতা ও ও নিম্ন মাথাপিছু আয়সহ বাংলাদেশের উন্নয়নের কঠিন চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে আরও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান।

তিনি বলেন, বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই বাংলাদেশের। এদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব জাপান ও নেদারল্যান্ডসের চেয়ে দ্বিগুণ। বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ হয় বেকার, নয় ভূমিহীন কৃষক। তাদের অনেকেই কেবল মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ২০ লাখ মানুষের খাদ্য-সংস্থান করতে হয়।

এত কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান তিনি। জিয়াউর রহমান বলেন, ‘তবুও আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাইনি এবং হবোও না।’

প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রপতি। ১৯৮৫ সালের মধ্যে জন্মহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বিদ্যালয় ও হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যের কথাও জানান। সেই সঙ্গে ‘কোনো নারী, পুরুষ বা শিশু যাতে খাদ্য, আশ্রয় ও পোশাক থেকে বঞ্চিত না হয়’ তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন।’ দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষকে উন্নয়নকাজে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।

জিয়াউর রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কোনোমতেই নড়চড় হবে না।’ স্বনির্ভরতাকে তিনি দেশের মূলমন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সফল হতেই হবে, কারণ ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই।’

ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি। আঞ্চলিক শান্তির সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার সম্পর্ক তুলে ধরে জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের কাছে কিংবা দূরে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।’

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একটি শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে উঠলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে এখনো তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য হবে একত্রিত হওয়া এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক কল্যাণের জন্য সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করা।’

অন্য অঞ্চলের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা উত্তেজনা কমাতে এবং অভিন্ন স্বার্থে পরস্পরের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর অবস্থান নমনীয় করতে সহায়তা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় এখন আমাদেরও শুরু করার সময় এসেছে।’

জিয়াউর রহমান বিশ্বের উন্নত উত্তর ও উন্নয়নশীল দক্ষিণের মধ্যে বর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। বিশ্বের বড় একটি অংশ দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্যে থাকলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, ‘শান্তিকে যেমন খণ্ডিত করা যায় না, তেমনি বিশ্বকে ধনী ও দরিদ্র- এভাবে পৃথক অংশে বিভক্ত করেও রাখা যায় না। এটি করা হলে বিশ্বশান্তি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।’

তিনি ব্রান্ডট কমিশনের সুপারিশের প্রতি সমর্থন জানান। একইসঙ্গে উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধি, সম্পদ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বাড়ানো, ন্যায্যতর বাণিজ্য এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী সহায়তার ভিত্তিতে নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি উন্নত দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সহায়তা দ্বিগুণ করতে এবং শর্তহীনভাবে তা অনুদান হিসেবে দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে স্বল্পমূল্যে তেল সরবরাহ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সহায়তায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভুমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রযুক্তি বিশ্বে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা ও প্রার্থনা করি, আমরা যেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এ কারণে জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ভাষণটি নতুন করে তাৎপর্য বহন করছে।

তারেক রহমান তার ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। এরপর তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তারেক রহমানের আসন্ন ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় যোগ করবে। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ব সংস্থাটির সামনে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে দেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন।

প্রথম জাতিসংঘ ভাষণে আত্মনির্ভরতা ও দক্ষিণ এশীয় সহযোগিতার আহ্বান জানান জিয়াউর রহমান

আপডেট সময় : ১০:২১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের স্বনির্ভর উন্নয়নের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ভাষণে জিয়াউর রহমান জনসংখ্যার চাপ, বেকারত্ব, ভূমিহীনতা ও ও নিম্ন মাথাপিছু আয়সহ বাংলাদেশের উন্নয়নের কঠিন চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন। পাশাপাশি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে আরও স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা জানান।

তিনি বলেন, বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই বাংলাদেশের। এদেশের জনসংখ্যার ঘনত্ব জাপান ও নেদারল্যান্ডসের চেয়ে দ্বিগুণ। বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ হয় বেকার, নয় ভূমিহীন কৃষক। তাদের অনেকেই কেবল মৌসুমি কাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রতি বছর নতুন করে প্রায় ২০ লাখ মানুষের খাদ্য-সংস্থান করতে হয়।

এত কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে জানান তিনি। জিয়াউর রহমান বলেন, ‘তবুও আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাইনি এবং হবোও না।’

প্রায় পাঁচ বছরের মধ্যে খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রপতি। ১৯৮৫ সালের মধ্যে জন্মহার ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং বিদ্যালয় ও হাসপাতালের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যের কথাও জানান। সেই সঙ্গে ‘কোনো নারী, পুরুষ বা শিশু যাতে খাদ্য, আশ্রয় ও পোশাক থেকে বঞ্চিত না হয়’ তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও দেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন।’ দেশের প্রায় ৯ কোটি মানুষকে উন্নয়নকাজে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।

জিয়াউর রহমান বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আমাদের অঙ্গীকার কোনোমতেই নড়চড় হবে না।’ স্বনির্ভরতাকে তিনি দেশের মূলমন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সফল হতেই হবে, কারণ ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ আমাদের নেই।’

ভাষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশজুড়ে ছিল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি। আঞ্চলিক শান্তির সঙ্গে জাতীয় উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার সম্পর্ক তুলে ধরে জিয়াউর রহমান এ অঞ্চলে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলের কাছে কিংবা দূরে বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের কারণে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির অবনতি নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।’

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একটি শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তাব দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে উঠলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক ভিত্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে এখনো তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রথম লক্ষ্য হবে একত্রিত হওয়া এবং এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক কল্যাণের জন্য সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো খুঁজে বের করা।’

অন্য অঞ্চলের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা উত্তেজনা কমাতে এবং অভিন্ন স্বার্থে পরস্পরের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর অবস্থান নমনীয় করতে সহায়তা করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় এখন আমাদেরও শুরু করার সময় এসেছে।’

জিয়াউর রহমান বিশ্বের উন্নত উত্তর ও উন্নয়নশীল দক্ষিণের মধ্যে বর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন। বিশ্বের বড় একটি অংশ দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্যে থাকলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মত দেন।

তিনি বলেন, ‘শান্তিকে যেমন খণ্ডিত করা যায় না, তেমনি বিশ্বকে ধনী ও দরিদ্র- এভাবে পৃথক অংশে বিভক্ত করেও রাখা যায় না। এটি করা হলে বিশ্বশান্তি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।’

তিনি ব্রান্ডট কমিশনের সুপারিশের প্রতি সমর্থন জানান। একইসঙ্গে উন্নয়ন সহায়তা বৃদ্ধি, সম্পদ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বাড়ানো, ন্যায্যতর বাণিজ্য এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী সহায়তার ভিত্তিতে নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

তিনি উন্নত দেশগুলোকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য সহায়তা দ্বিগুণ করতে এবং শর্তহীনভাবে তা অনুদান হিসেবে দেওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে স্বল্পমূল্যে তেল সরবরাহ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জ্বালানি সম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রস্তাব দেন।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সহায়তায় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ভুমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণের শেষ পর্যায়ে জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রযুক্তি বিশ্বে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে আশা ও প্রার্থনা করি, আমরা যেন সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন। এ কারণে জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ভাষণটি নতুন করে তাৎপর্য বহন করছে।

তারেক রহমান তার ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং রোহিঙ্গা ইস্যু তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। এরপর তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তারেক রহমানের আসন্ন ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় যোগ করবে। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্ব সংস্থাটির সামনে বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে দেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন।