ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান তারেকের

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান তারেকের

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের কনটেইনার জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এসব প্রবাসী কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স তাদের পরিবার এবং দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের কয়েকটি কনটেইনার জাহাজ আটকে রয়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে গেলে এসব জাহাজ যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বের হতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এতে বাংলাদেশ যেন বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে দেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের এসব উদ্বেগ ইরানের প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নোট করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘ একটি ‘নিরপেক্ষ পরিসর’। এই পরিসরে সংঘাতের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশীদারও বাংলাদেশকে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে শান্তির পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ তার নিরপেক্ষ অবস্থান কাজে লাগিয়ে একটি ‘নরম কূটনৈতিক প্রভাব’ তৈরি করতে চায়। এর উদ্দেশ্য কোনো পক্ষ নেওয়া নয়; বরং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা।

বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান তারেকের

আপডেট সময় : ০১:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের কনটেইনার জাহাজগুলো নিরাপদে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী রয়েছেন। চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। এসব প্রবাসী কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স তাদের পরিবার এবং দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের কয়েকটি কনটেইনার জাহাজ আটকে রয়েছে। যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে গেলে এসব জাহাজ যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে বের হতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। এতে বাংলাদেশ যেন বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে না পড়ে, সে বিষয়ে দেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের এসব উদ্বেগ ইরানের প্রেসিডেন্ট মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং সংশ্লিষ্টরা বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নোট করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে বাংলাদেশের অবস্থানও তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘ একটি ‘নিরপেক্ষ পরিসর’। এই পরিসরে সংঘাতের বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অংশীদারও বাংলাদেশকে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে শান্তির পক্ষে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশ তার নিরপেক্ষ অবস্থান কাজে লাগিয়ে একটি ‘নরম কূটনৈতিক প্রভাব’ তৈরি করতে চায়। এর উদ্দেশ্য কোনো পক্ষ নেওয়া নয়; বরং কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করা।

বৈঠকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। প্রয়োজনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে সংলাপের সুযোগ তৈরিতে বাংলাদেশ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। সংঘাতের কারণে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।