ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, নতুন স্টেডিয়ামে খরচ ৬৩৫ কোটি টাকা

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মোট ঋণের পরিমাণ এখনো ১০০ কোটি পাউন্ডের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। ক্লাবটির সহমালিক স্যার জিম র‌্যাটক্লিফ ব্যাপক ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিলেও ঋণের বোঝা কমেনি। 

এর মধ্যেই নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য জমি কিনতে ৬ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা খরচের কথা জানিয়েছে ক্লাবটি।

সমর্থকদের বিক্ষোভ এবং মৌসুমের হতাশাজনক শুরুর মধ্যেই ইউনাইটেড তাদের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। প্রিমিয়ার লিগে দলটি বর্তমানে ১২তম অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে ইএফএল কাপ থেকেও বিদায় নিয়েছে তারা।

ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতায় না খেলেও গত অর্থবছরে রেকর্ড ৬৭ কোটি ৭৬ লাখ পাউন্ড। একই সময়ে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ পাউন্ড। ২০২৩-২৪ মৌসুমে যেখানে ক্লাবটির লোকসান ছিল ১১ কোটি ৩২ লাখ পাউন্ড, সেখানে এবার বড় পরিবর্তন এসেছে।

তবে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের পরও কিছু খাতে খরচ বেড়েছে। এসি মিলানে যোগ দিতে যাওয়া সাবেক কোচ রুবেন আমোরিমকে ক্ষতিপূরণ বাবদ সম্ভাব্য ১ কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড দেওয়ার কথা থাকলেও ৮৫ লাখ পাউন্ড সাশ্রয় করেছে ক্লাবটি।

অন্যদিকে, বছরে নিট অর্থায়ন ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৯৬ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ২২৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ক্লাবটি জানিয়েছে, এর বড় কারণ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত লোকসান।

ফুটবল অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ কিয়েরান ম্যাগুয়ারের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সালে গ্লেজার পরিবারের ঋণনির্ভর মালিকানা গ্রহণের পর থেকে শুধু নিট অর্থায়ন ব্যয়ই ১০০ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়েছে।

নতুন স্টেডিয়ামের জমি কিনতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে ইউনাইটেড। গ্রীষ্মকালীন পুনঃঅর্থায়নের সময় ঐতিহাসিক ঋণের সঙ্গে অতিরিক্ত ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৬ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড জমি কেনায় ব্যয় হয়েছে। বাকি অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা জানায়নি ক্লাবটি। নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণে ২০০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ হতে পারে।

ডিসেম্বরের শেষে ইউনাইটেডের মোট ঋণ ছিল প্রায় ১৩০ কোটি পাউন্ড । তা কমলেও এখনো ১০০ কোটি পাউন্ডের বেশি। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ঋণ ৫৭ কোটি ৭৬ লাখ পাউন্ড এবং রিভলভিং ক্রেডিট সুবিধার বিপরীতে বকেয়া ১১ কোটি ১৪ লাখ পাউন্ড । এ ছাড়া খেলোয়াড়দের ট্রান্সফার বাবদ বকেয়া অর্থও রয়েছে।

দল গঠনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করায় সমর্থকদের ক্ষোভও বাড়ছে। গ্রীষ্মে কার্লোস বালেবা, আন্দ্রে সান্তোস ও ইউরি তিলেমান্সকে কিনতে ইউনাইটেড খরচ করেছে ১৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ২ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। বিপরীতে ম্যানচেস্টার সিটি খেলোয়াড় কিনতে ব্যয় করেছে ৪৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৭ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা বলেন, আমরা রেকর্ড আয় করতে পেরে আনন্দিত। এটি আমাদের ব্যবসার শক্ত ভিতের প্রমাণ এবং গত দুই বছরে করা কাজের সরাসরি ফল।

ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে দুই দফায় ৪৫০ কর্মী ছাঁটাই করেছে ইউনাইটেড। সর্বশেষ হিসাবে বেতন বাবদ ব্যয়ও ১ কোটি ১৩ লাখ পাউন্ড কমে ৩০ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের ভাষ্য, পুরুষ দলের খেলোয়াড় কাঠামোর পরিবর্তন এবং গত দুই অর্থবছরে কর্মী কমানোর ফলে এ সাশ্রয় হয়েছে।

এশিয়ান গেমসে স্বর্ণপদক জেতার প্রত্যাশা লিটনের

১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, নতুন স্টেডিয়ামে খরচ ৬৩৫ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ০১:৫৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মোট ঋণের পরিমাণ এখনো ১০০ কোটি পাউন্ডের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। ক্লাবটির সহমালিক স্যার জিম র‌্যাটক্লিফ ব্যাপক ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিলেও ঋণের বোঝা কমেনি। 

এর মধ্যেই নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য জমি কিনতে ৬ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৬৩৫ কোটি টাকা খরচের কথা জানিয়েছে ক্লাবটি।

সমর্থকদের বিক্ষোভ এবং মৌসুমের হতাশাজনক শুরুর মধ্যেই ইউনাইটেড তাদের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করেছে। প্রিমিয়ার লিগে দলটি বর্তমানে ১২তম অবস্থানে রয়েছে। এরই মধ্যে ইএফএল কাপ থেকেও বিদায় নিয়েছে তারা।

ইউরোপীয় কোনো প্রতিযোগিতায় না খেলেও গত অর্থবছরে রেকর্ড ৬৭ কোটি ৭৬ লাখ পাউন্ড। একই সময়ে পরিচালন মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ পাউন্ড। ২০২৩-২৪ মৌসুমে যেখানে ক্লাবটির লোকসান ছিল ১১ কোটি ৩২ লাখ পাউন্ড, সেখানে এবার বড় পরিবর্তন এসেছে।

তবে ব্যয় কমানোর উদ্যোগের পরও কিছু খাতে খরচ বেড়েছে। এসি মিলানে যোগ দিতে যাওয়া সাবেক কোচ রুবেন আমোরিমকে ক্ষতিপূরণ বাবদ সম্ভাব্য ১ কোটি ৬৫ লাখ পাউন্ড দেওয়ার কথা থাকলেও ৮৫ লাখ পাউন্ড সাশ্রয় করেছে ক্লাবটি।

অন্যদিকে, বছরে নিট অর্থায়ন ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৬ কোটি ৯৬ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ১ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। আগের বছরের তুলনায় এই ব্যয় বেড়েছে ২২৮ দশমিক ৩ শতাংশ। ক্লাবটি জানিয়েছে, এর বড় কারণ বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত লোকসান।

ফুটবল অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ কিয়েরান ম্যাগুয়ারের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৫ সালে গ্লেজার পরিবারের ঋণনির্ভর মালিকানা গ্রহণের পর থেকে শুধু নিট অর্থায়ন ব্যয়ই ১০০ কোটি পাউন্ড ছাড়িয়েছে।

নতুন স্টেডিয়ামের জমি কিনতেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে ইউনাইটেড। গ্রীষ্মকালীন পুনঃঅর্থায়নের সময় ঐতিহাসিক ঋণের সঙ্গে অতিরিক্ত ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৬ কোটি ৩৫ লাখ পাউন্ড জমি কেনায় ব্যয় হয়েছে। বাকি অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা জানায়নি ক্লাবটি। নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণে ২০০ কোটি পাউন্ডের বেশি খরচ হতে পারে।

ডিসেম্বরের শেষে ইউনাইটেডের মোট ঋণ ছিল প্রায় ১৩০ কোটি পাউন্ড । তা কমলেও এখনো ১০০ কোটি পাউন্ডের বেশি। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ঋণ ৫৭ কোটি ৭৬ লাখ পাউন্ড এবং রিভলভিং ক্রেডিট সুবিধার বিপরীতে বকেয়া ১১ কোটি ১৪ লাখ পাউন্ড । এ ছাড়া খেলোয়াড়দের ট্রান্সফার বাবদ বকেয়া অর্থও রয়েছে।

দল গঠনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করায় সমর্থকদের ক্ষোভও বাড়ছে। গ্রীষ্মে কার্লোস বালেবা, আন্দ্রে সান্তোস ও ইউরি তিলেমান্সকে কিনতে ইউনাইটেড খরচ করেছে ১৪ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ২ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। বিপরীতে ম্যানচেস্টার সিটি খেলোয়াড় কিনতে ব্যয় করেছে ৪৫ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড বা প্রায় ৭ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা।

ক্লাবটির প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা বলেন, আমরা রেকর্ড আয় করতে পেরে আনন্দিত। এটি আমাদের ব্যবসার শক্ত ভিতের প্রমাণ এবং গত দুই বছরে করা কাজের সরাসরি ফল।

ব্যয় কমানোর অংশ হিসেবে দুই দফায় ৪৫০ কর্মী ছাঁটাই করেছে ইউনাইটেড। সর্বশেষ হিসাবে বেতন বাবদ ব্যয়ও ১ কোটি ১৩ লাখ পাউন্ড কমে ৩০ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডে দাঁড়িয়েছে। ক্লাবের ভাষ্য, পুরুষ দলের খেলোয়াড় কাঠামোর পরিবর্তন এবং গত দুই অর্থবছরে কর্মী কমানোর ফলে এ সাশ্রয় হয়েছে।