ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়, জানালো ইউপিএল

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়, জানালো ইউপিএল

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়ার ঘটনার পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউপিএল জানিয়েছে, বইটি নিষিদ্ধ নয়। প্রকাশিত প্রতিটি বই তারা ধারণ করে এবং দায়িত্ব নিয়ে প্রকাশ করে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইউপিএলের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে ইউপিএল জানায়, প্রশ্নকারীদের তারা জানিয়েছে, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়। কোনো বই নিষিদ্ধ করতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ, সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বইটির ক্ষেত্রে সরকার বা আদালতের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাদের জানা নেই। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়ায় বইটি নিষিদ্ধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রকাশনা সংস্থাটি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ বই দাবি করে এর বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানান। একপর্যায়ে দোকানের শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুই বিক্রয়কর্মীকে হয়রানি করা হয়। পরে তাঁদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটক রাখা হয় এবং একপর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটিকে জাতির জন্য লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে ইউপিএল জানায়, বিভিন্ন সরকারের আমলে বই প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিকে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। সরকার, ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো কোনো বই নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে প্রকাশক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি যথাসম্ভব এসব চাপ উপেক্ষা করে পেশাদারত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা থেকে ইউপিএল প্রকাশিত একটি বইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। একই সময়ে মওদুদ আহমেদের গ্রন্থাবলি নিয়ে একাধিকবার চাপের মুখে পড়তে হয়। অধ্যাপক আসিফ নজরুলের গঙ্গাচুক্তিবিষয়ক বইটিও পর্যালোচকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানায় সংস্থাটি।

এ ছাড়া কিছু পাণ্ডুলিপি প্রকাশে অসম্মতি জানানোর পর সংশ্লিষ্টদের সরকারি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। এসব চাপের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রকাশনার মৌলিক মানদণ্ড থেকে সরে আসেনি বলে উল্লেখ করেছে ইউপিএল।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে ইউপিএল বলেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ। বাংলাদেশের সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট বইটিতে পাওয়া যায়।

প্রকাশনা সংস্থাটি জানায়, প্রকাশক হিসেবে তারা প্রতিটি বইয়ের দায়িত্ব নিয়েই প্রকাশ করে। তবে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়মে বইটি নিষিদ্ধ করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে ইউপিএল আরও বলেছে, কোনো বইয়ে ফৌজদারি অপরাধে উসকানি না থাকলে সেটির প্রকাশনা ও বিপণনে হস্তক্ষেপ জ্ঞানচর্চা এবং সংস্কৃতির সামগ্রিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। অতীতেও আদর্শ প্রকাশনীর তিনটি বই আইনগতভাবে নিষিদ্ধ না করেই বইমেলায় তাদের স্টল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একই পেশাদার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ইউপিএল।

প্রকাশনা সংস্থাটি জানায়, এ ক্ষেত্রেও তাদের অবস্থান দৃঢ় ও অবিচল থাকবে। রাষ্ট্র ও সমাজের বিকাশের স্বার্থে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার মুক্তচিন্তা ও বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার পরিসরে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা এবং এ ধরনের হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা উচিত বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকাশনার মতো জ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম আইনবহির্ভূত চাপ ও হুমকির মুখে পড়লে দেশের সামগ্রিক সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ পরিস্থিতিতে লেখক, পাঠক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সহপ্রকাশক, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা, সরকারের বিবেচক অংশ এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইউপিএল।

একই সঙ্গে প্রকাশনা শিল্পে সহিংসতা ও অবৈধ চাপের বিস্তার ঠেকাতে রাষ্ট্র ও সমাজের সংশ্লিষ্ট সবার কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়, জানালো ইউপিএল

আপডেট সময় : ০২:৩৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বই বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা সংস্থা দ্য ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে তালা দেওয়ার ঘটনার পর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ইউপিএল জানিয়েছে, বইটি নিষিদ্ধ নয়। প্রকাশিত প্রতিটি বই তারা ধারণ করে এবং দায়িত্ব নিয়ে প্রকাশ করে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ইউপিএলের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে ইউপিএল জানায়, প্রশ্নকারীদের তারা জানিয়েছে, ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ নয়। কোনো বই নিষিদ্ধ করতে হলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ, সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বইটির ক্ষেত্রে সরকার বা আদালতের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তাদের জানা নেই। দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যথাযথ প্রক্রিয়ায় বইটি নিষিদ্ধ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রকাশনা সংস্থাটি।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ইউপিএলের বাংলাবাজার বিক্রয়কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে গিয়ে আক্রমণাত্মক আচরণ করেন এবং ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ নিষিদ্ধ বই দাবি করে এর বিক্রি বন্ধের আহ্বান জানান। একপর্যায়ে দোকানের শাটার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুই বিক্রয়কর্মীকে হয়রানি করা হয়। পরে তাঁদের ফরিদাবাদ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটক রাখা হয় এবং একপর্যায়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটিকে জাতির জন্য লজ্জাজনক ও দুর্ভাগ্যজনক উল্লেখ করে ইউপিএল জানায়, বিভিন্ন সরকারের আমলে বই প্রকাশকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটিকে নানা ধরনের চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। সরকার, ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো কোনো বই নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। তবে প্রকাশক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি যথাসম্ভব এসব চাপ উপেক্ষা করে পেশাদারত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিগত সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভা থেকে ইউপিএল প্রকাশিত একটি বইয়ের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। একই সময়ে মওদুদ আহমেদের গ্রন্থাবলি নিয়ে একাধিকবার চাপের মুখে পড়তে হয়। অধ্যাপক আসিফ নজরুলের গঙ্গাচুক্তিবিষয়ক বইটিও পর্যালোচকদের মতামতের ভিত্তিতে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রকাশ করা হয়েছিল বলে জানায় সংস্থাটি।

এ ছাড়া কিছু পাণ্ডুলিপি প্রকাশে অসম্মতি জানানোর পর সংশ্লিষ্টদের সরকারি হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। এসব চাপের কারণে প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রকাশনার মৌলিক মানদণ্ড থেকে সরে আসেনি বলে উল্লেখ করেছে ইউপিএল।

‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির গুরুত্ব তুলে ধরে ইউপিএল বলেছে, বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ। বাংলাদেশের সৃষ্টি ও মুক্তিযুদ্ধের সূত্রপাতের সঙ্গে সম্পর্কিত অনেক প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট বইটিতে পাওয়া যায়।

প্রকাশনা সংস্থাটি জানায়, প্রকাশক হিসেবে তারা প্রতিটি বইয়ের দায়িত্ব নিয়েই প্রকাশ করে। তবে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ যথাযথ নিয়মে বইটি নিষিদ্ধ করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিবৃতিতে ইউপিএল আরও বলেছে, কোনো বইয়ে ফৌজদারি অপরাধে উসকানি না থাকলে সেটির প্রকাশনা ও বিপণনে হস্তক্ষেপ জ্ঞানচর্চা এবং সংস্কৃতির সামগ্রিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। অতীতেও আদর্শ প্রকাশনীর তিনটি বই আইনগতভাবে নিষিদ্ধ না করেই বইমেলায় তাদের স্টল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একই পেশাদার অবস্থান থেকে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ইউপিএল।

প্রকাশনা সংস্থাটি জানায়, এ ক্ষেত্রেও তাদের অবস্থান দৃঢ় ও অবিচল থাকবে। রাষ্ট্র ও সমাজের বিকাশের স্বার্থে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবার মুক্তচিন্তা ও বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার পরিসরে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকা এবং এ ধরনের হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা উচিত বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রকাশনার মতো জ্ঞানচর্চার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম আইনবহির্ভূত চাপ ও হুমকির মুখে পড়লে দেশের সামগ্রিক সৃজনশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ পরিস্থিতিতে লেখক, পাঠক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সহপ্রকাশক, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাসম্পন্ন রাজনৈতিক নেতা, সরকারের বিবেচক অংশ এবং শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইউপিএল।

একই সঙ্গে প্রকাশনা শিল্পে সহিংসতা ও অবৈধ চাপের বিস্তার ঠেকাতে রাষ্ট্র ও সমাজের সংশ্লিষ্ট সবার কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।