ঢাকা ০৫:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বড় লাভের পাঁয়তারা, গোয়েন্দা রিপোর্ট

এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিপুল লাভের পাঁয়তারা, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধি ও জাহাজ ভাড়াকে অজুহাত করে দেশে রান্নার গ্যাসের এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে কতিপয় অসাধু অপারেটর। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে এলপিজি আমদানি হলেও বাজারে তা না ছেড়ে কৃত্রিমভাবে যোগান কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে চাপ দিয়ে গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে বিপুল মুনাফা তুলে নেওয়া। সরকারের দুটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই অসাধু পাঁয়তারার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সংস্থাদ্বয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানোর পর শনিবার সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মতো সেপ্টেম্বর মাসেও চাহিদামতো প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি দেশে এসেছে। পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও কেন বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি হলো এবং নির্দিষ্ট ১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, লোটাব নেতাদের কাছে তার কড়া জবাব চাওয়া হয়।

তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা দাবি করেন, বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। গোয়েন্দা তথ্যে প্রকাশ পায়, কোনো কোনো কোম্পানি বাজারে না ছেড়ে বঙ্গোপসাগরের কাছে এলপিজিবাহী জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে কিংবা আগেভাগেই নিজেদের ট্যাংকারে মজুত বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি এলপিজি আমদানি করা ইউনাইটেড আইগ্যাজ, যমুনা স্পেসটেক, বিএম এনার্জি ও ওমেরা পেট্রোলিয়ামের মতো কোম্পানিগুলোর কাছে সেপ্টেম্বর মাসের দৈনিক বিক্রয় হিসাব তলব করেছে বিইআরসি।

এদিকে মেঘনা গ্রুপ ও ওমেরা পেট্রোলিয়ামের কর্ণধাররা মজুতের খবর অস্বীকার করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দর বৃদ্ধির প্রভাব সরবরাহ শৃঙ্খলে পড়েছে। বর্তমান বাজারে ৬৮ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে মাত্র চারটি বড় কোম্পানি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিগগিরই অক্টোবরের নতুন দর নির্ধারণ করবে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারির পর অসাধু চক্রের এমন কৃত্তিম সংকট তৈরির চক্রান্ত ভেস্তে দিতে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইমরান খানের সুচিকিৎসা ও মুক্তি: পিটিআইয়ের লংমার্চ শুরু

এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বড় লাভের পাঁয়তারা, গোয়েন্দা রিপোর্ট

আপডেট সময় : ০৪:০২:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিপুল লাভের পাঁয়তারা, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য

আন্তর্জাতিক বাজারে দর বৃদ্ধি ও জাহাজ ভাড়াকে অজুহাত করে দেশে রান্নার গ্যাসের এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে কতিপয় অসাধু অপারেটর। দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে এলপিজি আমদানি হলেও বাজারে তা না ছেড়ে কৃত্রিমভাবে যোগান কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই—নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে চাপ দিয়ে গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে বিপুল মুনাফা তুলে নেওয়া। সরকারের দুটি শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই অসাধু পাঁয়তারার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সংস্থাদ্বয়ের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়টি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানোর পর শনিবার সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগস্টের মতো সেপ্টেম্বর মাসেও চাহিদামতো প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এলপিজি দেশে এসেছে। পর্যাপ্ত আমদানি থাকা সত্ত্বেও কেন বাজারে এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি হলো এবং নির্দিষ্ট ১,৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, লোটাব নেতাদের কাছে তার কড়া জবাব চাওয়া হয়।

তবে সিন্ডিকেটের অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা দাবি করেন, বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক মূল্য ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেলেই বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। গোয়েন্দা তথ্যে প্রকাশ পায়, কোনো কোনো কোম্পানি বাজারে না ছেড়ে বঙ্গোপসাগরের কাছে এলপিজিবাহী জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে কিংবা আগেভাগেই নিজেদের ট্যাংকারে মজুত বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি এলপিজি আমদানি করা ইউনাইটেড আইগ্যাজ, যমুনা স্পেসটেক, বিএম এনার্জি ও ওমেরা পেট্রোলিয়ামের মতো কোম্পানিগুলোর কাছে সেপ্টেম্বর মাসের দৈনিক বিক্রয় হিসাব তলব করেছে বিইআরসি।

এদিকে মেঘনা গ্রুপ ও ওমেরা পেট্রোলিয়ামের কর্ণধাররা মজুতের খবর অস্বীকার করে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দর বৃদ্ধির প্রভাব সরবরাহ শৃঙ্খলে পড়েছে। বর্তমান বাজারে ৬৮ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে মাত্র চারটি বড় কোম্পানি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিগগিরই অক্টোবরের নতুন দর নির্ধারণ করবে। তবে গোয়েন্দা সংস্থার কড়া নজরদারির পর অসাধু চক্রের এমন কৃত্তিম সংকট তৈরির চক্রান্ত ভেস্তে দিতে সরকার কঠোর আইনি ব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছে।