পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার চোরবাগান পূজামণ্ডপে পদদলিত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এই বিপর্যয়ের পর কলকাতার নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে সতর্ক হয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তর ও মধ্য কলকাতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) থেকে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা এ বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। তবে বিজ্ঞপ্তিতে চোরবাগান পূজামণ্ডপের দুর্ঘটনার কথা সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা এলাকাগুলো যদিও ওই পূজামণ্ডপের কাছাকাছি।
কোন কোন সড়কে বিধিনিষেধ
পুলিশের নির্দেশিকা অনুযায়ী, চারটি সড়কের নির্দিষ্ট অংশে এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
প্রথমত, কলেজ স্ট্রিটের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ। দ্বিতীয়ত, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের কলুটোলা স্ট্রিট থেকে ইডেন হাসপাতাল রোড পর্যন্ত অংশ। তৃতীয়ত, কলুটোলা স্ট্রিটের কলেজ স্ট্রিট থেকে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ। চতুর্থত, ইডেন হাসপাতাল রোডের চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ।
এই নির্দেশিকার আওতায় থাকা এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের বেআইনি জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাঠি কিংবা শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কোনো বস্তু বা অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
পুলিশের এই নির্দেশ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে, বিধিনিষেধ পুরো বৌবাজার থানা এলাকায় কার্যকর হচ্ছে না। নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা চারটি সড়কের নির্ধারিত অংশেই এই ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।
গত শনিবার চোরবাগান দুর্গাপূজা মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ব্যাপক ভিড় জমেছিল। সেই সময় বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর একটি ঘোষণা ঘিরে দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয় বলে প্রাথমিক খবরে জানা গেছে। এর জেরে পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনায় শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হন।
দুর্গাপূজার বাকি দিনগুলোতে যাতে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। তবে শুধু রাস্তা বন্ধ বা জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করাই যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। উৎসবের সময়ে দর্শনার্থীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ, জরুরি নির্গমনপথ খোলা রাখা এবং ঘোষণার মাধ্যমে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সম্ভাব্য শান্তিভঙ্গ ঠেকানো এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত বিধিনিষেধ কার্যকর থাকায় ওই এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় পুলিশের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।





















