ঢাকা ০৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাইগার শ্রফকে ঘিরে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হামলার ছক ফাঁস!



ফটোকার্ড ডাউনলোড

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর আগে প্রায় ১০ দিন ধরে তার গতিবিধি ও দৈনন্দিন রুটিনের ওপর নজর রেখেছিল তিন হামলাকারী। অভিনেতার বাড়ি ও জিমে রেকিও করেছিল তারা। এমনকি মলার পর পালানোর জন্যও আগে থেকেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে রেখেছিল অভিযুক্তরা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

তদন্তকারীদের দাবি, ফুটবল খেলে বাড়ি ফেরার পথে টাইগারের গাড়িতে মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গাড়ির সামনের কাচ ও পাশের জানালা লক্ষ্য করে চালানো গুলির মধ্যে পাঁচটি গাড়িতে লাগে, বাকি দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, পঞ্চম গুলি চালানোর পর গাড়ির যাত্রীর পাশের জানালার কাছে থাকা এক হামলাকারী আরও কাছে গিয়ে টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। তবে ওই সময় পিস্তলটি আটকে যাওয়ায় সে আর গুলি ছুড়তে পারেনি।

পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করেছিল। ঘটনার পর ট্রেনে করে পালানোর সময় রাজস্থানের কোটা রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রায় ১০ দিন ধরে টাইগারের চলাফেরা ও সময়সূচি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিল। অভিনেতা সাধারণত যেসব জায়গায় যেতেন, সেসব স্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আলোকচিত্রীদের ভিডিও ও ব্লগারদের কনটেন্ট ব্যবহার করেছিল তারা বলে অভিযোগ।

অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মাধ্যমে তাদের কথিত নির্দেশদাতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। হামলার স্থান সম্পর্কিত তথ্যও এসব অ্যাপের মাধ্যমে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিন অভিযুক্তের মধ্যে দুজন সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ। তৃতীয়জন হামলার পর তাদের পালাতে সহায়তা করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ১৭ বছর বয়সি  কিশোর। তার বাড়ি হরিয়ানার সোনিপতে। বাকি দুজন হলেন বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সি হৃতিক কুমার ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার সোনিপতের ১৮ বছর বয়সি রেহান।

রোশন বর্তমানে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি পশ্চিম এলাকায় থাকতেন এবং র‍্যাপিডোতে চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা আগে থেকে ঠিক করে রাখা পথ ধরে পালায়। তারা ভিলে পার্লে ও আন্ধেরি হয়ে এসভি রোড দিয়ে এগিয়ে যায়।

পরে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে ট্রেনে করে বোরিভলির দিকে রওনা হয় বলে অভিযোগ।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে অভিযুক্তরা পরে মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী গুজরাটে প্রবেশ করেছিল।

ঘটনার পেছনে কারা নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছে, হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল এবং লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের ধরন কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

জনপ্রিয় সংবাদ

টাইগার শ্রফকে ঘিরে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হামলার ছক ফাঁস!

আপডেট সময় : ০২:৩১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর আগে প্রায় ১০ দিন ধরে তার গতিবিধি ও দৈনন্দিন রুটিনের ওপর নজর রেখেছিল তিন হামলাকারী। অভিনেতার বাড়ি ও জিমে রেকিও করেছিল তারা। এমনকি মলার পর পালানোর জন্যও আগে থেকেই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে রেখেছিল অভিযুক্তরা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম।

তদন্তকারীদের দাবি, ফুটবল খেলে বাড়ি ফেরার পথে টাইগারের গাড়িতে মোটরসাইকেলে আসা তিন ব্যক্তি সাত রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গাড়ির সামনের কাচ ও পাশের জানালা লক্ষ্য করে চালানো গুলির মধ্যে পাঁচটি গাড়িতে লাগে, বাকি দুটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, পঞ্চম গুলি চালানোর পর গাড়ির যাত্রীর পাশের জানালার কাছে থাকা এক হামলাকারী আরও কাছে গিয়ে টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। তবে ওই সময় পিস্তলটি আটকে যাওয়ায় সে আর গুলি ছুড়তে পারেনি।

পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের হয়ে কাজ করেছিল। ঘটনার পর ট্রেনে করে পালানোর সময় রাজস্থানের কোটা রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রায় ১০ দিন ধরে টাইগারের চলাফেরা ও সময়সূচি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছিল। অভিনেতা সাধারণত যেসব জায়গায় যেতেন, সেসব স্থান সম্পর্কে ধারণা পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত আলোকচিত্রীদের ভিডিও ও ব্লগারদের কনটেন্ট ব্যবহার করেছিল তারা বলে অভিযোগ।

অভিযুক্তরা হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মাধ্যমে তাদের কথিত নির্দেশদাতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত। হামলার স্থান সম্পর্কিত তথ্যও এসব অ্যাপের মাধ্যমে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিন অভিযুক্তের মধ্যে দুজন সরাসরি হামলায় অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ। তৃতীয়জন হামলার পর তাদের পালাতে সহায়তা করেছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে একজন ১৭ বছর বয়সি  কিশোর। তার বাড়ি হরিয়ানার সোনিপতে। বাকি দুজন হলেন বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা ২২ বছর বয়সি হৃতিক কুমার ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার সোনিপতের ১৮ বছর বয়সি রেহান।

রোশন বর্তমানে মুম্বাইয়ের আন্ধেরি পশ্চিম এলাকায় থাকতেন এবং র‍্যাপিডোতে চালক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা আগে থেকে ঠিক করে রাখা পথ ধরে পালায়। তারা ভিলে পার্লে ও আন্ধেরি হয়ে এসভি রোড দিয়ে এগিয়ে যায়।

পরে আন্ধেরি পশ্চিম রেলস্টেশনের কাছে মোটরসাইকেলটি ফেলে রেখে ট্রেনে করে বোরিভলির দিকে রওনা হয় বলে অভিযোগ।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক গোয়েন্দা তথ্যে ইঙ্গিত মিলেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে অভিযুক্তরা পরে মহারাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে প্রতিবেশী গুজরাটে প্রবেশ করেছিল।

ঘটনার পেছনে কারা নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেছে, হামলার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল এবং লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের ধরন কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি