ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেলে ফিক্সেশনের পর এবার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর

পে-স্কেলে ফিক্সেশনের পর এবার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর



ফটোকার্ড ডাউনলোড

নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন, আগের বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী তিন মাসের বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের।

আইবাস প্লাস প্লাসের পাইলটিং কার্যক্রমের তথ্যমতে, জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা সাবমিট না করা পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন মাসের বকেয়া অর্থও পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের।

তবে গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন ও কার্যকর হওয়ার সময়ের ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণ ভিন্ন হবে। দীর্ঘদিন নতুন বেতনকাঠামো না আসায় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বেতনবৈষম্য নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। আদেশটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।

২০২৬ সালের নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মে প্রচলিত মূল বেতনের ভিত্তিতে ভাতা দেওয়া হবে। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে সরকার। তখন জানানো হয়েছিল, নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকরের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ১ জুলাই থেকে এই কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও বেতন ও ভাতার সব সুবিধা একসঙ্গে চালু হচ্ছে না। কয়েকটি ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে, সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি।

এদিকে মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রচলিত যেসব ভাতা মূল বেতনের শতাংশ ভিত্তিতে দেওয়া হয়, সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শাহরুখ থেকে সালমান, ভারতে কার নিরাপত্তা কেমন

পে-স্কেলে ফিক্সেশনের পর এবার সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর

আপডেট সময় : ০২:৪২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন মূল বেতন নির্ধারণ বা ‘পে ফিক্সেশন’ কার্যক্রমের নির্ধারিত সময়সীমা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এ প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন, আগের বেতনের সঙ্গে পার্থক্য এবং বকেয়া পাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

এ কার্যক্রম সম্পন্ন হলে অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী তিন মাসের বেতন-ভাতা পাওয়ার কথা রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের।

আইবাস প্লাস প্লাসের পাইলটিং কার্যক্রমের তথ্যমতে, জাতীয় বেতনস্কেল-২০১৫ অনুযায়ী জুন ২০২৬ মাসের বেতন-ভাতা উত্তোলন এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা সাবমিট না করা পর্যন্ত জাতীয় বেতনস্কেল-২০২৬ অনুযায়ী বেতন নির্ধারণ করা যাবে না।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের বেতনের সঙ্গে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় তিন মাসের বকেয়া অর্থও পাওয়ার কথা সরকারি চাকরিজীবীদের।

তবে গ্রেড, আগের মূল বেতন, নতুন নির্ধারিত বেতন ও কার্যকর হওয়ার সময়ের ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণ ভিন্ন হবে। দীর্ঘদিন নতুন বেতনকাঠামো না আসায় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও বেতনবৈষম্য নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর অর্থ বিভাগ থেকে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ প্রকাশ করা হয়। আদেশটি ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে।

২০২৬ সালের নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আগের নিয়মে প্রচলিত মূল বেতনের ভিত্তিতে ভাতা দেওয়া হবে। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে সরকার। তখন জানানো হয়েছিল, নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকরের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ মূল বেতন হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত ১ জুলাই থেকে এই কাঠামো কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও বেতন ও ভাতার সব সুবিধা একসঙ্গে চালু হচ্ছে না। কয়েকটি ধাপে নতুন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত এবং তৃতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন কাঠামোর মূল বেতন কার্যকর করা হবে। অন্যদিকে, সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী ভাতা কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সময় ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি।

এদিকে মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রচলিত যেসব ভাতা মূল বেতনের শতাংশ ভিত্তিতে দেওয়া হয়, সেগুলো ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও প্রদান করতে হবে।