টম ক্রুজের সিনেমা নিয়ে দর্শকের প্রত্যাশা সাধারণত নির্দিষ্ট ধরনের। কিন্তু ‘ডিগার’-এর প্রচারণা সেই প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি করতে পারেনি। ফলে ছবিটি ঠিক কোন ধরনের দর্শকের জন্য, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বড় বাজেটের সিনেমার ক্ষেত্রে এমন বিভ্রান্তি দর্শক আগ্রহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
‘মিশন: ইমপসিবল’ কিংবা ‘টপ গান’-এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজিতে টম ক্রুজকে দেখা গেছে দুর্ধর্ষ অ্যাকশন আর রোমাঞ্চকর সব দৃশ্যে। তবে ‘ডিগার’-এ সেই পরিচিত রূপ থেকে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। ছবিটিতে ‘ডিগার রকওয়েল’ নামের এক খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন এই তারকা। চরিত্রটির প্রয়োজনে কৃত্রিম প্রসাধন ব্যবহার করে তার চেহারাতেও আনা হয়েছে বড় ধরনের পরিবর্তন।
ছবিটি মূলত গাঢ় রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক ঘরানার। ভিন্নধর্মী চরিত্রে টম ক্রুজের অভিনয়ের চেষ্টা প্রশংসা পেলেও তা মূলধারার দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। যাঁরা তাঁর সিনেমায় পরিচিত অ্যাকশন ও বিনোদনের স্বাদ খোঁজেন, তাঁদের বড় একটি অংশের কাছে ছবিটির উপস্থাপনা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেনি।
মুক্তির পর ‘ডিগার’ নিয়ে সমালোচক ও দর্শকদের প্রতিক্রিয়া একরকম ছিল না। সিনেমাস্কোরে ছবিটির রেটিং নেমে এসেছে ‘সি প্লাস’-এ। অন্যদিকে আইএমডিবিতে এর রেটিং ৭.৫। অর্থাৎ, মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পার্থক্য থাকলেও বক্স অফিসে ছবিটির দুর্বলতা কাটেনি।
বিশেষ করে বড় বাজেটের সিনেমার সাফল্যে দর্শকের মুখে মুখে ইতিবাচক প্রচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দর্শকের ভালো লাগা নতুন দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে যেতে উৎসাহিত করে। কিন্তু ‘ডিগার’-এর ক্ষেত্রে সেই ইতিবাচক প্রচার প্রত্যাশিত মাত্রায় তৈরি হয়নি। বরং মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছবিটির ব্যবসায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ‘ডিগার’-এর মোট আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। নির্মাণ ও প্রচারণায় বিপুল অর্থ ব্যয়ের তুলনায় এই আয় অত্যন্ত হতাশাজনক। যদিও ওটিটি, স্যাটেলাইটসহ অন্যান্য স্বত্ব বিক্রি থেকে প্রযোজনা সংস্থা কিছু অর্থ ফিরে পেতে পারে, তবু প্রেক্ষাগৃহের ব্যবসায় ছবিটির ব্যর্থতা স্পষ্ট।
টম ক্রুজের মতো বক্স অফিসে নির্ভরযোগ্য তারকার সিনেমা ঘিরেও যে বড় ধরনের বাণিজ্যিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, ‘ডিগার’ যেন তারই উদাহরণ। পরিচিত ঘরানা থেকে বেরিয়ে নতুন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের চেষ্টা প্রশংসা পেলেও শেষ পর্যন্ত দর্শকের আগ্রহ ও বক্স অফিসের হিসাব মেলাতে পারেনি সিনেমাটি। এখন দেখার বিষয়, প্রেক্ষাগৃহের বাইরের স্বত্ব বিক্রি থেকে ক্ষতির কতটা পুষিয়ে নিতে পারে প্রযোজনা সংস্থা।























