ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ফিরিয়ে আনা
প্রথম দফার নির্বাচনে ২১ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দিতে যাননি। বিষয়টি অনুধাবন করে লুলা ও তার দল রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার আগের তিন সপ্তাহে সেই বিশাল ভোটার গোষ্ঠীকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালান।
প্রতিপক্ষ বলসোনারো পরিবারকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সমর্থন করায়, লুলা এর বিপরীতে দেশের স্বাধীনতা ও মর্যাদার বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরেন। ব্রাজিলের রাজনীতিতে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে তিনি সাধারণ মানুষের মনে দেশপ্রেমের জোয়ার তোলেন, যা ভোটারদের সিদ্ধান্ত লুলার পক্ষেই নিয়ে যায়। এ ছাড়া শ্রমিক-শ্রেণির মানুষের জন্য সপ্তাহান্তে বিনামূল্যে গণপরিবহন চালুর প্রতিশ্রুতিও বড় ভূমিকা রাখে।
প্রচারণার শেষ মুহূর্তে লুলা সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গাগুলোতে নজর দেন। পারিবারিক ঋণগ্রস্ততা ও অনলাইন জুয়ার প্রসার রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদের আয়সীমা বাড়ানো এবং অপরাধ দমনে কঠোর আইন আনার ঘোষণা দিয়ে তিনি সাধারণ ভোটারদের আস্থার জায়গাটি পুরোপুরি পোক্ত করেন।
সঠিক ভূরাজনৈতিক কৌশল ও বড় শহরগুলোতে জয়
ব্রাজিলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য মিনাস জেরাইসে শুরুতে পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন লুলা। এ ছাড়া উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চিরায়ত শক্ত ঘাঁটি তো বটেই, সাও পাওলো ও রিও ডি জেনেইরোর মতো প্রধান প্রধান বড় শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণও তিনি নিজের হাতে নিয়ে নেন।
সব মিলিয়ে, প্রথম রাউন্ডের ব্যবধান ঘুচিয়ে এবং নানা বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫১ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে ব্রাজিলের মসনদে ফিরেছেন বর্ষীয়ান এই নেতা। ঐতিহাসিক এই জয় লুলাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখলেও তার পরবর্তী পথ খুব একটা মসৃণ নয়। কংগ্রেসে ডানপন্থী দলগুলোর শক্তিশালী অবস্থান এবং অর্থনৈতিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আগামী দিনগুলোতে বেশ বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে এই প্রবীণ নেতাকে।

























