ঢাকা ০৪:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে প্রবেশ বন্ধ, শেরপুর সীমান্তে আটকে ১৩০ হাতি



ফটোকার্ড ডাউনলোড

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হাতির চলাচলের পুরনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি আটকে পড়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকরা। ভারতের মেঘালয় অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং হাতির বিচরণক্ষেত্রে কৃষিকাজ সম্প্রসারণকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সংকট নিরসনে ভারতকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানোর কথাও জানিয়েছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধানের তথ্য পাওয়া যায়নি।বিবিসি বাংলা জানায়, বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় একসময় হাতি চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়াপথ ব্যবহৃত হতো। এসব পথ দিয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করত বন্য এশীয় হাতির দল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের একাধিক চলাচলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতিগুলোর স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এই অঞ্চলে হাতির সংখ্যা ছিল ৫০টির কাছাকাছি। বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন কর্মকর্তা ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, আগে হাতিগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশে আসত এবং অধিকাংশ সময় ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে বিচরণ করত।

কিন্তু এখন অনেক হাতিকে সারা বছর বাংলাদেশের অংশেই অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে।গবেষকদের মতে, সীমান্তে বেড়া ও গেট নির্মাণের পাশাপাশি ভারতের কিছু পুরনো বিচরণক্ষেত্রে কাজুবাদামের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় হাতির চলাচল এবং খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের গারো পাহাড়সংলগ্ন বনাঞ্চলেও কৃষিজমি ও বসতি বেড়েছে। এতে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

খাদ্যসংকটে লোকালয়ে হাতির বিচরণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ধ্যার পর হাতির দলকে বন থেকে বেরিয়ে ফসলি জমি ও লোকালয়ের দিকে যেতে দেখা যায়।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে খাবার ও পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে হাতি বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করে।ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিমের তথ্য অনুযায়ী, একটি এশীয় বন্য হাতির দৈনিক প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে হাতিকে বিস্তৃত এলাকায় বিচরণ করতে হয়। কিন্তু বনভূমি কমে যাওয়া এবং সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় তাদের খাদ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, হাতির আক্রমণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক কৃষক জমির চারপাশে তারের বেড়া বসাচ্ছেন। কোথাও কোথাও এসব বেড়ায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাতি তাড়াতে পটকা ফোটানো, মশাল জ্বালানো এবং অন্যান্য পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতকে আরো বিপজ্জনক করে তুলছে।

বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত এক যুগে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো ঘটনাও এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে।

আবাসস্থল সংকোচনে বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত

প্রকৃতি সংরক্ষণবিদদের মতে, গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল একসময় হাতির বিস্তৃত বিচরণক্ষেত্র ছিল। সময়ের সঙ্গে সেখানে কৃষিজমি, বসতি ও গবাদি পশুর বিচরণ বেড়েছে। ফলে হাতির চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে তাদের সংঘাত বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করেছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, স্থানীয়দের সতর্ক করা এবং সংঘাত কমাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। হাতির কারণে মানুষের প্রাণহানি কিংবা ফসলের ক্ষতির ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাতি তাড়ানো বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। হাতির স্বাভাবিক বিচরণপথ পুনরুদ্ধার, বনভূমি সংরক্ষণ এবং নিরাপদে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সমাধানে ভারতের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

সীমান্তবর্তী হাতিগুলো বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের বাস্তুতন্ত্রের অংশ। এ কারণে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাতির চলাচল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে হাতির অবাধ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সীমান্তে হাতির চলাচলের পথ পুনরায় সচল করা এবং দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোতে হাতির খাদ্যসংকট, লোকালয়ে অনুপ্রবেশ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। ফলে সংকট নিরসনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বন সংরক্ষণ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তিন মাসে কোনো উন্নয়ন করেনি তিন প্রতিষ্ঠান

ভারতে প্রবেশ বন্ধ, শেরপুর সীমান্তে আটকে ১৩০ হাতি

আপডেট সময় : ০৩:৫২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হাতির চলাচলের পুরনো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শেরপুর, জামালপুর ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৩০টিরও বেশি বন্য হাতি আটকে পড়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ ও বন্যপ্রাণী গবেষকরা। ভারতের মেঘালয় অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং হাতির বিচরণক্ষেত্রে কৃষিকাজ সম্প্রসারণকে এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

সংকট নিরসনে ভারতকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানোর কথাও জানিয়েছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। তবে এখনো কোনো কার্যকর সমাধানের তথ্য পাওয়া যায়নি।বিবিসি বাংলা জানায়, বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় একসময় হাতি চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট এবং ১১টি নদী বা ছড়াপথ ব্যবহৃত হতো। এসব পথ দিয়েই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করত বন্য এশীয় হাতির দল।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তের একাধিক চলাচলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতিগুলোর স্বাভাবিক বিচরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশক আগে এই অঞ্চলে হাতির সংখ্যা ছিল ৫০টির কাছাকাছি। বর্তমানে তা বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫টিতে পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বন কর্মকর্তা ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, আগে হাতিগুলো বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশে আসত এবং অধিকাংশ সময় ভারতের মেঘালয় অঞ্চলে বিচরণ করত।

কিন্তু এখন অনেক হাতিকে সারা বছর বাংলাদেশের অংশেই অবস্থান করতে দেখা যাচ্ছে।গবেষকদের মতে, সীমান্তে বেড়া ও গেট নির্মাণের পাশাপাশি ভারতের কিছু পুরনো বিচরণক্ষেত্রে কাজুবাদামের চাষ সম্প্রসারিত হওয়ায় হাতির চলাচল এবং খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের গারো পাহাড়সংলগ্ন বনাঞ্চলেও কৃষিজমি ও বসতি বেড়েছে। এতে হাতির আবাসস্থল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

খাদ্যসংকটে লোকালয়ে হাতির বিচরণ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ধ্যার পর হাতির দলকে বন থেকে বেরিয়ে ফসলি জমি ও লোকালয়ের দিকে যেতে দেখা যায়।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, শুষ্ক মৌসুমে বনের ভেতরে খাবার ও পানির প্রাপ্যতা কমে গেলে হাতি বিকল্প খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে প্রবেশ করে।ময়মনসিংহের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী নুরুল করিমের তথ্য অনুযায়ী, একটি এশীয় বন্য হাতির দৈনিক প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। এ চাহিদা পূরণে হাতিকে বিস্তৃত এলাকায় বিচরণ করতে হয়। কিন্তু বনভূমি কমে যাওয়া এবং সীমান্তপথ বন্ধ থাকায় তাদের খাদ্য সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে, হাতির আক্রমণে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক কৃষক জমির চারপাশে তারের বেড়া বসাচ্ছেন। কোথাও কোথাও এসব বেড়ায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাতি তাড়াতে পটকা ফোটানো, মশাল জ্বালানো এবং অন্যান্য পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি হাতির সঙ্গে মানুষের সংঘাতকে আরো বিপজ্জনক করে তুলছে।

বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, গত এক যুগে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মৃত্যু হয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতের মতো ঘটনাও এসব মৃত্যুর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে হাতির আক্রমণে মানুষের প্রাণহানি ও ফসলের ক্ষতির ঘটনাও ঘটছে।

আবাসস্থল সংকোচনে বাড়ছে মানুষ-হাতি সংঘাত

প্রকৃতি সংরক্ষণবিদদের মতে, গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল একসময় হাতির বিস্তৃত বিচরণক্ষেত্র ছিল। সময়ের সঙ্গে সেখানে কৃষিজমি, বসতি ও গবাদি পশুর বিচরণ বেড়েছে। ফলে হাতির চলাচলের জায়গা কমে গিয়ে মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকার সঙ্গে তাদের সংঘাত বাড়ছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন বিভাগ স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম গঠন করেছে। হাতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, স্থানীয়দের সতর্ক করা এবং সংঘাত কমাতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে। হাতির কারণে মানুষের প্রাণহানি কিংবা ফসলের ক্ষতির ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের পরও সংকট উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাতি তাড়ানো বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়। হাতির স্বাভাবিক বিচরণপথ পুনরুদ্ধার, বনভূমি সংরক্ষণ এবং নিরাপদে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সমাধানে ভারতের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

সীমান্তবর্তী হাতিগুলো বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশের বাস্তুতন্ত্রের অংশ। এ কারণে তাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের প্রশ্ন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, হাতির চলাচল নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সম্পর্কে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে হাতির অবাধ চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বন বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সীমান্তে হাতির চলাচলের পথ পুনরায় সচল করা এবং দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত সংরক্ষণ উদ্যোগ নেওয়া না হলে আগামী বছরগুলোতে হাতির খাদ্যসংকট, লোকালয়ে অনুপ্রবেশ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে। ফলে সংকট নিরসনে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বন সংরক্ষণ ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।