ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের শেষ দুই বছর কঠিন করে দিল ডেমোক্র্যাটরা



ফটোকার্ড ডাউনলোড

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পেছনে ফেলে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর কঠিন করে তুলতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা, মূল্যস্ফীতি, আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে এই জয় পেয়েছে দলটি।

সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় শুধু প্রতিনিধি পরিষদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সিনেটেও বড় পরিবর্তন এসেছে। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যেও জয় পেয়েছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, ওহাইও, কানসাস ও আইওয়া।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, টেক্সাসে ১৯৯৪ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি। কানসাসেও সর্বশেষ ১৯৩২ সালে ডেমোক্র্যাটদের কোনো প্রার্থী সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সিএনএনের ভোটার জরিপে দেখা গেছে, ১০ জনের ছয়জনের বেশি ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তুষ্ট। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবনতি হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দলটির প্রয়োজন ছিল মাত্র তিনটি আসন বাড়ানো। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে নির্বাচনের বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই জয় পেতে ট্রাম্পের জেতা একাধিক রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের আসন দখল করতে হয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এত দিন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে তার প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়েছে। কিন্তু এখন ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ পাবে। এসব তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করতে সমন জারির ক্ষমতাও থাকবে তাদের।

এ ছাড়া সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়াও আটকে দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে কোনো বিচারকের পদ শূন্য হলে সেখানে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তির নিয়োগ নিয়েও বাধা তৈরি করতে পারবে তারা।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিজেদের সব নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটে অধিকাংশ আইন পাসের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন। ফলে আগামী দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত বিরোধ বাড়তে পারে।

গত ৫০ বছরে মাত্র দুবার একই নির্বাচনি চক্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে অন্য দলের হাতে গেছে।

বর্তমানে কত বেতন পান দেশের পোশাক শ্রমিকরা?

ট্রাম্পের শেষ দুই বছর কঠিন করে দিল ডেমোক্র্যাটরা

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত মিলেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পেছনে ফেলে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর ফলে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছর কঠিন করে তুলতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটদের এই জয়।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্পের অজনপ্রিয়তা, মূল্যস্ফীতি, আমদানি পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে এই জয় পেয়েছে দলটি।

সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় শুধু প্রতিনিধি পরিষদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, সিনেটেও বড় পরিবর্তন এসেছে। রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি রাজ্যেও জয় পেয়েছে তারা। এর মধ্যে রয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস, ওহাইও, কানসাস ও আইওয়া।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সাউথ ক্যারোলাইনায় ১৮ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন ট্রাম্প। অন্যদিকে, টেক্সাসে ১৯৯৪ সালের পর কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয় পাননি। কানসাসেও সর্বশেষ ১৯৩২ সালে ডেমোক্র্যাটদের কোনো প্রার্থী সিনেটর নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সিএনএনের ভোটার জরিপে দেখা গেছে, ১০ জনের ছয়জনের বেশি ভোটার ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তুষ্ট। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছেন। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্পের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির অবনতি হয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে দলটির প্রয়োজন ছিল মাত্র তিনটি আসন বাড়ানো। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে নির্বাচনের বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এই জয় পেতে ট্রাম্পের জেতা একাধিক রাজ্যে ডেমোক্র্যাটদের আসন দখল করতে হয়েছে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্পের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এত দিন রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেসে তার প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলো তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়েছে। কিন্তু এখন ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তদন্তের সুযোগ পাবে। এসব তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব করতে সমন জারির ক্ষমতাও থাকবে তাদের।

এ ছাড়া সিনেটের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়াও আটকে দিতে পারবে ডেমোক্র্যাটরা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টে কোনো বিচারকের পদ শূন্য হলে সেখানে ট্রাম্পের মনোনীত ব্যক্তির নিয়োগ নিয়েও বাধা তৈরি করতে পারবে তারা।

তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের জন্য নিজেদের সব নীতি বাস্তবায়ন সহজ হবে না। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কোনো বিলে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, সিনেটে অধিকাংশ আইন পাসের জন্য ৬০ ভোট প্রয়োজন। ফলে আগামী দুই বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক ও আইন প্রণয়নসংক্রান্ত বিরোধ বাড়তে পারে।

গত ৫০ বছরে মাত্র দুবার একই নির্বাচনি চক্রে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ এক দল থেকে অন্য দলের হাতে গেছে।