জিজ্ঞাসাবাদে নোরা জানিয়েছিলেন, একটি অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার বিনিময়ে তাকে নগদ অর্থের পরিবর্তে দামি উপহার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। উপহারের তালিকায় ছিল একটি বিএমডব্লিউ গাড়ি, গুচির ব্যাগসহ বিভিন্ন বিলাসবহুল সামগ্রী। তবে সুকেশের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক ছিল না বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলেও জানান নোরা।
তদন্তের অংশ হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নোরার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার চার্জশিটে তাকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নোরার বক্তব্যের বিপরীতে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। কারাগার থেকে লেখা এক চিঠিতে তার দাবি, মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কায় বাড়ি কেনার জন্য নোরাকে কোটি কোটি রুপি দিয়েছিলেন তিনি। অভিনেত্রীকে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন না করার কথাও বলেছেন সুকেশ।
এখানেই শেষ নয়, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নোরা ঈর্ষান্বিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন সুকেশ। তার অভিযোগ, নিয়মিত ফোন করে জ্যাকুলিনের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন নোরা। তবে এগুলো সুকেশের ব্যক্তিগত অভিযোগ। এসব দাবির সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য নেই।
উল্লেখ্য, দিল্লির রোহিণী কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কোটিপতি ব্যবসায়ী শিবিন্দার সিং ও মলবিন্দার সিংয়ের স্ত্রীদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কোটি রুপি চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে সুকেশের বিরুদ্ধে। তদন্তকারী সংস্থাগুলোর দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে পাওয়া অর্থ দিয়ে বিলাসবহুল গাড়ি ও দামি উপহার কেনা হয়েছিল। এসব উপহার নোরা ফাতেহি ও জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজসহ বলিউডের কয়েকজন তারকার কাছে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা মকোকা আইনে মামলা করে।
সব মিলিয়ে আলোচিত এই মামলায় নোরার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও তার আইনি দলের দাবি, অভিনেত্রী অভিযুক্ত নন, বরং তদন্তে সহায়তার জন্য একজন সাক্ষী। আগামী ৬ নভেম্বর আদালতে তার উপস্থিতি ও পরবর্তী শুনানির দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।
























