ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইস্তাম্বুলে এবার ‘মিরাকেল’ নয়, উল্টো দুঃস্বপ্ন দেখল লিভারপুল



ফটোকার্ড ডাউনলোড

যখন ঘুরে দাঁড়ানোর কথা আসে, ইস্তাম্বুল ও লিভারপুলের ইতিহাস বেশ পুরনো—তবে এবার আন্দোনি ইরাওলার দল ভুল ইতিহাসের জন্ম দিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে তুরস্কের ক্লাব ফেনারবাচের কাছে ধরাশীয়া হয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল।

ম্যাচে দুই দুইবার লিড নিয়ে শেষমেষ হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে আন্দোনি ইরাওলার শিষ্যরা।ম্যাচের ৬৯ মিনিটে আলেকজান্ডার ইসাক গোল করে যখন লিভারপুলকে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে নিলেন, তখন মনে হচ্ছিল তারা দারুণ এক অ্যাওয়ে জয় তুলে নেওয়ার পথেই আছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিন্তু এরপরই ফেনারবাচের ঘরের মাঠের উত্তপ্ত ও মারমুখী গ্যালারির সামনে ভেঙে পড়ে ইরাওলার শিষ্যরা। সাবেক লিভারপুল তারকা ও ফেনারবাচের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ডির্ক কুইটের অধীনে এক অবিশ্বাস্য কামব্যাক করে চমকপ্রদ জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।

তুরস্কের শুকরু সারাসোগ্লু স্টেডিয়ামে ৩-২ গোলে হেরে ইরাওলার দল এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের জন্ম দিল। ইউরোপের বড় কোনো প্রতিযোগিতায় ম্যাচের এত দেরিতে এগিয়ে গিয়েও হেরে যাওয়ার ঘটনা লিভারপুলের ইতিহাসে এটাই প্রথম।

অন্যদিকে ১৮ বছরের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ফেনেরবাচ। ইউরোপ সেরার মঞ্চে তুর্কির দলটির সবশেষ জয়টিও ছিল ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে, ২০০৮ সালে একই মাঠে চেলসির বিপক্ষে ২-১ গোলে।

ম্যাচ শেষে ইরাওলা তাদের হজম করা গোলগুলোকে ‘সস্তা’ এবং ‘গোলমেলে’ বলে বর্ণনা করেছেন।

লিভারপুলের হাত থেকে ৩ পয়েন্ট ফসকে যাওয়ার পর কুইট জানান, তিনি কীভাবে ফেনারবাচের খেলোয়াড়দের সেই ‘কখনও হার না মানা’ মানসিকতা ধরে রাখতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যা অতীতে লিভারপুলকে ইউরোপের মঞ্চে বহু গৌরব এনে দিয়েছিল।

২০০৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের ঐতিহাসিক ‘মিরাকেল অব ইস্তাম্বুল’ জয়ের ঠিক এক বছর পর, ২০০৬ সালে কুইট এই ক্লাবে যোগ দেন এবং টানা ছয় বছর মূল দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন।

কুইট বলেন, “আমরা একে অপরকে বলেছিলাম একসঙ্গে থাকতে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে। এটা আমি লিভারপুলের কাছ থেকেই শিখেছি, যাদের বিপক্ষে আজ আমরা খেললাম।

আজ রাতে আমরা এক অলৌকিক কাণ্ড (মিরাকেল) ঘটিয়েছি—খুব কম মানুষই আমাদের জয়ের আশা করেছিল।”তিনি এবং ফেনারবাচে এই রাতটি দীর্ঘদিন মনে রাখবেন। অন্যদিকে, লিভারপুল চাইবে এটি দ্রুত ভুলে যেতে।

টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর, ইরাওলার দল মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি ম্যাচ হারল। গত রোববার আর্সেনালের কাছে হারের পর এবার এই পরাজয়।

ইস্তাম্বুল থেকে ফেরার ফ্লাইটে লিভারপুল শিবিরের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই চরম হতাশা কাজ করবে। কারণ ম্যাচটি যেভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত ছিল, তারা তা করতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করে ইরাওলা বলেন, ‘এটি চরম হতাশার, কারণ এই মাঠে এসে খেলা খুবই কঠিন। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই আমরা ভাবছিলাম যে আমরা ম্যাচটি জিততে যাচ্ছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হলো না।’

৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় আপাতত পাঁচ নম্বরে আছে লিভারপুল। দুই ড্র ও এক জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৯ নম্বরে ফেনেরবাচ।

১০ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে পরীমনি

ইস্তাম্বুলে এবার ‘মিরাকেল’ নয়, উল্টো দুঃস্বপ্ন দেখল লিভারপুল

আপডেট সময় : ১০:২৮:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

যখন ঘুরে দাঁড়ানোর কথা আসে, ইস্তাম্বুল ও লিভারপুলের ইতিহাস বেশ পুরনো—তবে এবার আন্দোনি ইরাওলার দল ভুল ইতিহাসের জন্ম দিল। চ্যাম্পিয়নস লিগে তুরস্কের ক্লাব ফেনারবাচের কাছে ধরাশীয়া হয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনাল।

ম্যাচে দুই দুইবার লিড নিয়ে শেষমেষ হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে আন্দোনি ইরাওলার শিষ্যরা।ম্যাচের ৬৯ মিনিটে আলেকজান্ডার ইসাক গোল করে যখন লিভারপুলকে দ্বিতীয়বারের মতো এগিয়ে নিলেন, তখন মনে হচ্ছিল তারা দারুণ এক অ্যাওয়ে জয় তুলে নেওয়ার পথেই আছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিন্তু এরপরই ফেনারবাচের ঘরের মাঠের উত্তপ্ত ও মারমুখী গ্যালারির সামনে ভেঙে পড়ে ইরাওলার শিষ্যরা। সাবেক লিভারপুল তারকা ও ফেনারবাচের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ডির্ক কুইটের অধীনে এক অবিশ্বাস্য কামব্যাক করে চমকপ্রদ জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা।

তুরস্কের শুকরু সারাসোগ্লু স্টেডিয়ামে ৩-২ গোলে হেরে ইরাওলার দল এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের জন্ম দিল। ইউরোপের বড় কোনো প্রতিযোগিতায় ম্যাচের এত দেরিতে এগিয়ে গিয়েও হেরে যাওয়ার ঘটনা লিভারপুলের ইতিহাসে এটাই প্রথম।

অন্যদিকে ১৮ বছরের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল ফেনেরবাচ। ইউরোপ সেরার মঞ্চে তুর্কির দলটির সবশেষ জয়টিও ছিল ইংলিশ ক্লাবের বিপক্ষে, ২০০৮ সালে একই মাঠে চেলসির বিপক্ষে ২-১ গোলে।

ম্যাচ শেষে ইরাওলা তাদের হজম করা গোলগুলোকে ‘সস্তা’ এবং ‘গোলমেলে’ বলে বর্ণনা করেছেন।

লিভারপুলের হাত থেকে ৩ পয়েন্ট ফসকে যাওয়ার পর কুইট জানান, তিনি কীভাবে ফেনারবাচের খেলোয়াড়দের সেই ‘কখনও হার না মানা’ মানসিকতা ধরে রাখতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন, যা অতীতে লিভারপুলকে ইউরোপের মঞ্চে বহু গৌরব এনে দিয়েছিল।

২০০৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলের ঐতিহাসিক ‘মিরাকেল অব ইস্তাম্বুল’ জয়ের ঠিক এক বছর পর, ২০০৬ সালে কুইট এই ক্লাবে যোগ দেন এবং টানা ছয় বছর মূল দলের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন।

কুইট বলেন, “আমরা একে অপরকে বলেছিলাম একসঙ্গে থাকতে এবং ঐক্যবদ্ধ হতে। এটা আমি লিভারপুলের কাছ থেকেই শিখেছি, যাদের বিপক্ষে আজ আমরা খেললাম।

আজ রাতে আমরা এক অলৌকিক কাণ্ড (মিরাকেল) ঘটিয়েছি—খুব কম মানুষই আমাদের জয়ের আশা করেছিল।”তিনি এবং ফেনারবাচে এই রাতটি দীর্ঘদিন মনে রাখবেন। অন্যদিকে, লিভারপুল চাইবে এটি দ্রুত ভুলে যেতে।

টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের পর, ইরাওলার দল মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি ম্যাচ হারল। গত রোববার আর্সেনালের কাছে হারের পর এবার এই পরাজয়।

ইস্তাম্বুল থেকে ফেরার ফ্লাইটে লিভারপুল শিবিরের মধ্যে নিশ্চিতভাবেই চরম হতাশা কাজ করবে। কারণ ম্যাচটি যেভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত ছিল, তারা তা করতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে আক্ষেপ করে ইরাওলা বলেন, ‘এটি চরম হতাশার, কারণ এই মাঠে এসে খেলা খুবই কঠিন। ম্যাচের বেশিরভাগ সময়ই আমরা ভাবছিলাম যে আমরা ম্যাচটি জিততে যাচ্ছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হলো না।’

৯ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় আপাতত পাঁচ নম্বরে আছে লিভারপুল। দুই ড্র ও এক জয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে ১৯ নম্বরে ফেনেরবাচ।