ঢাকা ০১:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১০ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে পরীমনি



ফটোকার্ড ডাউনলোড

আলোচিত বোটক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনির ১০ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি সাদা গাড়ি করে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে আসেন পরীমনি। এরপর শুনানি শুরু না হওয়ায় গাড়ির ভিতরেই অবস্থান করছেন তিনি। তার গাড়ি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কালো পোশাক পরিহিত ১০ বডিগার্ড। মামলার শুনানি শুরু হলে নিরাপত্তা দিয়ে তারা আদালতে নিবেন।

এর আগে গতকাল বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান শুনানি শেষে আসামির জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিন মামলাটি সাক্ষীর জন্য ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। এ আইনজীবী আবেদনে উল্লেখ করেন, অ্যালার্জিজনিত কারণে আসামি পরীমনি অসুস্থ। এ কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

তবে আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। পরে আদালত সময়ের আবেদনটি নাকচ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে নাসির উদ্দিন এ মামলা করেন। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তার দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনি আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন পরীমনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। ২০২১ সালের ৮ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন। এরপর নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করাসহ মদের বোতল বিনামূল্যে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু না দিতে চাইলে ক্লাব ভাঙচুর করেন পরীমনি। এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ডাক দেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি গালমন্দ করেন। তাদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে পরীমনি ঢাকার সাভার থানায় মামলা করেন। পরীমনির বিরুদ্ধেও মাদক মামলা হয়।

১০ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে পরীমনি

১০ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে পরীমনি

আপডেট সময় : ১১:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

আলোচিত বোটক্লাব ভাঙচুর, ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর ঢাকাই চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী পরীমনির ১০ বডিগার্ড নিয়ে আদালতে এসেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি সাদা গাড়ি করে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে আসেন পরীমনি। এরপর শুনানি শুরু না হওয়ায় গাড়ির ভিতরেই অবস্থান করছেন তিনি। তার গাড়ি ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কালো পোশাক পরিহিত ১০ বডিগার্ড। মামলার শুনানি শুরু হলে নিরাপত্তা দিয়ে তারা আদালতে নিবেন।

এর আগে গতকাল বুধবার ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান শুনানি শেষে আসামির জামিন নামঞ্জুর করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এদিন মামলাটি সাক্ষীর জন্য ধার্য ছিল। তবে পরীমনি আদালতে হাজির না হয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন। এ আইনজীবী আবেদনে উল্লেখ করেন, অ্যালার্জিজনিত কারণে আসামি পরীমনি অসুস্থ। এ কারণে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি।

তবে আসামির আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে বলেন, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতে না এসে সময়ের আবেদন দাখিল করছেন। এতে আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে। পরে আদালত সময়ের আবেদনটি নাকচ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৩ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

এর আগে ২০২২ সালের ৬ জুলাই আদালতে নাসির উদ্দিন এ মামলা করেন। মামলায় পরীমনি ছাড়াও তার দুই সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে ২০২৫ সালের ২৬ জুন অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওইদিন পরীমনি আদালতে হাজির না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরদিন পরীমনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহলসেবী। ২০২১ সালের ৮ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন। এরপর নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করাসহ মদের বোতল বিনামূল্যে নিয়ে যেতে চান। কিন্তু না দিতে চাইলে ক্লাব ভাঙচুর করেন পরীমনি। এরপর রাত সোয়া ১টার দিকে বাদী নাসির ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে ডাক দেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসির উদ্দিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনামূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন।

বাদী এতে রাজি না হওয়ায় পরীমনি গালমন্দ করেন। তাদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনটিও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির উদ্দিন মাথায় এবং বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে পরীমনি ঢাকার সাভার থানায় মামলা করেন। পরীমনির বিরুদ্ধেও মাদক মামলা হয়।