ঢাকায় অনুষ্ঠেয় এশিয়ান কাপ আরচ্যারিতে বাংলাদেশ কম্পাউন্ড মিশ্র বিভাগে হিমু বাছাড় ও বন্যা আক্তার রৌপ্য জিতেছিলেন। কম্পাউন্ড নারী এককে কুলসুম আক্তার ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন। তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া এশিয়ান কাপ আরচ্যারির সমাপনী অনুষ্ঠানে পদকজয়ী এই তিন আরচ্যারকে ১০ লাখ টাকা করে প্রদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুত অর্থ পাননি আরচ্যাররা এবং উপদেষ্টা দায়িত্ব ছাড়ায় তাদের পুরস্কার অনেকটা অনিশ্চয়তার মধ্যেও রয়েছে।
কম্পাউন্ড আরচ্যার হিমু বাছাড় ১০ লাখ টাকা পুরস্কার নিয়ে বলেন, ‘এই পুরস্কারটি পেলে আমাদের পরিবারের জন্য অনেক উপকার হবে। আমরা এখনো আশা ও অপেক্ষায় রয়েছি এই পুরস্কারটি পাওয়ার।’ আরেক আরচ্যার বন্যা আক্তার মন্ত্রণালয় ও ফেডারেশন উভয় পক্ষের আন্তরিকতার ঘাটতি দেখিয়ে বলেন, ‘আমাদের পুরস্কার ঘোষণার পরে ফুটবলের ম্যাচ হয়েছে। সেই ম্যাচ জয়ের পর ঘোষণাকৃত পুরস্কার ঠিকই ফুটবলাররা পেয়েছে অথচ আমরা এখনো পেলাম না। এশিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায়ে আমরা দেশকে পদক এনে দিয়েছিলাম, সেটার স্বীকৃতি এখনো অপেক্ষামান।’
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া ১৪ নভেম্বর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আরচ্যারদের পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন। চার দিন পর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ফুটবল দল ১-০ গোলে ভারতকে হারায়। ২২ বছর পর ভারতকে হারানোয় ঐ দিনই ১ কোটি টাকা বোনাস ঘোষণা দেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। সেই পুরস্কার ১০ ডিসেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বাংলাদেশ দলের ম্যানেজার আমের খান ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে হস্তান্তর করে। ঐ দিনই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া পদত্যাগ করেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া পদত্যাগের পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেন ড. আসিফ নজরুল। তিনি মাস দুয়েক ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক ছিলেন। নির্বাচনের পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় প্রথমবারের মতো টেকনোক্রেট মন্ত্রী পায়। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হন। পাঁচ মাসে ক্রীড়াঙ্গন তিন জন অভিভাবক পেয়েছে। এরপরও আরচ্যাররা প্রতিশ্রুত অর্থ পাননি। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ এই বিষয়ে বলেন, ‘তৎকালীন উপদেষ্টা মহোদয় ঘোষণার পরই আমরা ফেডারেশনের পক্ষ থেকে মন্ত্রণালয় ও এনএসসি’র সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেই ঘোষণার কিছু দিনের মধ্যেই তিনি দায়িত্ব ত্যাগ করেন। এরপর দায়িত্বে আসা উপদেষ্টার সঙ্গেও আমরা এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। তিনিও এটি দিয়ে যেতে পারেননি। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আমি ও সভাপতি এই বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছি।’
আরচ্যার বন্যা আক্তারের সঙ্গে দিন চারেক আগে বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের দেখা হয়েছিল। তিনি তখন এই পুরস্কারের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন, ‘বর্তমান প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে দেখা হওয়ার পর আমাদের পুরস্কারের বিষয়টি জানাই। তিনি এটি দেখবেন বলেছেন। আমরা এখনো আশায় রয়েছি।’
এশিয়া কাপে পদকজয়ী আরচ্যাররা তো অন্তত পুরস্কারের ঘোষণা পেয়েছিলেন। যুব হকিতে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছে বাংলাদেশ। সেই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ প্লেট পর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়। বাংলাদেশের ডিফেন্ডার আমিরুল হক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পেয়েছিলেন। আমিরুল যুব বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করলেও মন্ত্রণালয়-এনএসসি থেকে কোনো পুরস্কার পাননি। কারণ হকি দল যখন ভারতে যায় তখন উপদেষ্টা ছিলেন সজীব ভূইয়া আবার যখন ফিরে দেশে তখন আসিফ নজরুল। নভেম্বরে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে বাংলাদেশের টেবিল টেনিসের ইতিহাসে প্রথম পদক এনেছিলেন খৈ খৈ মারমা ও জাভেদ আহমেদ। তারাও এনএসসি-মন্ত্রণালয় থেকে পুরস্কৃত হননি। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের গেমস ভেদে দলীয়-ব্যক্তিগত পদকে পুরস্কারের নীতিমালা থাকলেও এনএসসি-মন্ত্রণালয়ের এমন কিছু নেই। মন্ত্রী/উপদেষ্টার ইচ্ছায় মূলত ক্রীড়াবিদরা পুরস্কৃত হন।




















