নারায়ণগঞ্জের বন্দর ও মদনপুর এলাকার সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক, শীর্ষ সন্ত্রাসী সোহেল ওরফে ‘ক্যাডার সোহেল’কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং মাদক ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকারী এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৪টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-১১-এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ০৯ মে ২০২৬ তারিখ রাত ১২:৩০ মিনিটে বন্দর থানার মদনপুর আন্দিরপাড় এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে দীর্ঘদিনের পলাতক ও দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসীকে তার নিজ এলাকা থেকেই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় বাহিনীটি। সে ওই এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল ও তার বাহিনী বন্দর এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। বিশেষ করে শীতলক্ষ্যা নদীর তীরের পণ্যবাহী ট্রলার ও বাল্কহেড থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত তার ক্যাডাররা। কোনো ব্যবসায়ী নতুন স্থাপনা নির্মাণ করতে গেলেই সোহেল বাহিনীকে দিতে হতো মোটা অঙ্কের টাকা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং মারধর করা ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ।
সোহেলের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পৈতৃক ভিটেমাটি দখলের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। পেশিশক্তি ব্যবহার করে নামমাত্র মূল্যে জমি লিখে নেওয়া অথবা সরাসরি উচ্ছেদ করে জমি কবজা করার মাধ্যমে সে এলাকায় কুখ্যাত হয়ে ওঠে। এছাড়া মদনপুর ও বন্দর এলাকায় তার সরাসরি তত্ত্বাবধানে গাঁজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছিল।
র্যাব জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে সোহেলের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



















