ঢাকা ০৯:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৬ বছরের পরিসংখ্যান এসএসসিতে কোন বছর কতজন জিপিএ-৫ পেয়েছে

২৬ বছরের পরিসংখ্যান এসএসসিতে কোন বছর কতজন জিপিএ-৫ পেয়েছে

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গতকাল (১০ আগস্ট)। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা দুটিই কমেছে।

তবে গত ২৫ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একসময় হাতে গোনা শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে প্রতিবছরই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাখের ঘর ছাড়িয়েছে।

চলতি বছরের ফলাফলে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৭ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর প্রথম বছর ২০০১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। পরের বছর ২০০২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩০ জনে। ২০০৩ সালে তা আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৯২ জন।

১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এসএসসির পাসের হার

এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০০৪ সালে ৮ হাজার ৫৯৭ জন, ২০০৫ সালে ১৭ হাজার ৬৩১ জন এবং ২০০৬ সালে ২৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে।

২০০৭ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৭৩২ জন। ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৯১৭ জনে এবং ২০০৯ সালে ৪৫ হাজার ৯৩৪ জনে পৌঁছায়।

২০১০ সালে প্রথমবারের মতো এই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর জিপিএ-৫ পায় ৫২ হাজার ১৩৪ জন শিক্ষার্থী। ২০১১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৬২ হাজার ২৪৪ জন।

২০১২ সালে ৮২ হাজার ২১২ জন এবং ২০১৩ সালে ৯১ হাজার ১২২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

এরপর ২০১৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী।

পরবর্তী বছরগুলোতে সংখ্যাটি এক লাখের আশপাশে ওঠানামা করে। ২০১৫ সালে জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন। ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন, ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন এবং ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন।

করোনা মহামারির বছরে ২০২০ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জনে। ২০২১ সালে অটোপাশের কারণে এই সংখ্যা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন।

এসএসসির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড ২০২২ সালে। ওই বছর ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করে।

এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

গত ২৫ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কয়েক দশকের ব্যবধানে কয়েকশ থেকে কয়েক লাখে পৌঁছালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবারও কমতির দিকে রয়েছে এই সংখ্যা।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৬ বছরের পরিসংখ্যান এসএসসিতে কোন বছর কতজন জিপিএ-৫ পেয়েছে

২৬ বছরের পরিসংখ্যান এসএসসিতে কোন বছর কতজন জিপিএ-৫ পেয়েছে

আপডেট সময় : ০৭:০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে গতকাল (১০ আগস্ট)। প্রকাশিত ফলে দেখা গেছে, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা দুটিই কমেছে।

তবে গত ২৫ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একসময় হাতে গোনা শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০১৪ সালের পর থেকে প্রতিবছরই জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাখের ঘর ছাড়িয়েছে।

চলতি বছরের ফলাফলে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০০৭ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় সম্মিলিত পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গ্রেডিং পদ্ধতি চালুর প্রথম বছর ২০০১ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মাত্র ৭৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। পরের বছর ২০০২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩০ জনে। ২০০৩ সালে তা আরও বেড়ে হয় ১ হাজার ৩৯২ জন।

১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এসএসসির পাসের হার

এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০০৪ সালে ৮ হাজার ৫৯৭ জন, ২০০৫ সালে ১৭ হাজার ৬৩১ জন এবং ২০০৬ সালে ২৪ হাজার ৩৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করে।

২০০৭ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৭৩২ জন। ২০০৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৯১৭ জনে এবং ২০০৯ সালে ৪৫ হাজার ৯৩৪ জনে পৌঁছায়।

২০১০ সালে প্রথমবারের মতো এই সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর জিপিএ-৫ পায় ৫২ হাজার ১৩৪ জন শিক্ষার্থী। ২০১১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে হয় ৬২ হাজার ২৪৪ জন।

২০১২ সালে ৮২ হাজার ২১২ জন এবং ২০১৩ সালে ৯১ হাজার ১২২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

এরপর ২০১৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। ওই বছর সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করে ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৬ জন শিক্ষার্থী।

পরবর্তী বছরগুলোতে সংখ্যাটি এক লাখের আশপাশে ওঠানামা করে। ২০১৫ সালে জিপিএ-৫ পায় ১ লাখ ১১ হাজার ৯০১ জন, ২০১৬ সালে ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬১ জন। ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৬১ জন, ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন এবং ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন।

করোনা মহামারির বছরে ২০২০ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৯৮ জনে। ২০২১ সালে অটোপাশের কারণে এই সংখ্যা আরও বেড়ে হয় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪০ জন।

এসএসসির ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পাওয়ার রেকর্ড ২০২২ সালে। ওই বছর ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জন করে।

এরপর থেকে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কমতে শুরু করে। ২০২৩ সালে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮ জন, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯ জন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়।

চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী।

গত ২৫ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা কয়েক দশকের ব্যবধানে কয়েকশ থেকে কয়েক লাখে পৌঁছালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবারও কমতির দিকে রয়েছে এই সংখ্যা।