ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একাদশে ভর্তিতে একবারই আবেদন, কলেজ পছন্দে সতর্ক হতে হবে

একাদশে ভর্তিতে একবারই আবেদন, কলেজ পছন্দে সতর্ক হতে হবে

একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম এবার এগিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে পারে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া। এই আবেদন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শেই এই সংশোধিত সময়সূচি পাঠানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন এবং ১২ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় সেই সময়সূচিতে সম্মতি না দেওয়ায় নতুন প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

এসএসসি ফলাফলের ভিত্তিতেই হবে ভর্তি

এবারও কোনো ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন আবেদন গ্রহণের পর শিক্ষার্থীর ফল, কলেজ পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনা করে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এবার একবারই আবেদনের সুযোগ, মাইগ্রেশন থাকছে না

আবেদন প্রক্রিয়ায় এবার বড় পরিবর্তন আসছে। আগে একাধিক ধাপে আবেদনের সুযোগ থাকলেও এবার প্রথম পর্যায়ে মাত্র একবারই আবেদন করা যাবে। ফলে আগের মতো মাইগ্রেশনের সুবিধাও পাবে না শিক্ষার্থীরা।

তাই আবেদনের সময় কলেজ পছন্দক্রম নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একবার আবেদন করলে পরে সহজে তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।

তবে ব্যতিক্রম থাকছে কয়েকটি ক্ষেত্রে। খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর কারও ফল বদলালে সে নতুন করে আবেদন করতে পারবে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে বাদ পড়া, মনোনয়ন পেয়েও নিশ্চিত না করা, বা কোনো কলেজে মনোনয়ন না পাওয়া শিক্ষার্থীরাও পরবর্তীতে পুনরায় আবেদনের সুযোগ পাবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের প্রাথমিক প্রস্তাব ও পরিবর্তনের কারণ

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি প্রাথমিকভাবে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ক্লাস শুরুর তারিখ ধরা হয়েছিল ১২ নভেম্বর। তবে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর পুরো সময়সূচিই এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে এবং মাসের শেষ সপ্তাহে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। যারা পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন আবেদন করে কলেজ পরিবর্তন করবে, তাদের ক্লাস ১ অক্টোবরের মধ্যে শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে এবং সংশোধিত প্রস্তাব ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়ই। তিনি আরও জানান, একাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতেই ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কেন এগিয়ে আনা হচ্ছে সময়সূচি

একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ১ জুলাই থেকে। তবে বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছর নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু করা যায়নি।

গত বছর এসএসসির ফল প্রকাশিত হয়েছিল ১০ জুলাই, আর ক্লাস শুরু হয়েছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। এবার ফল প্রকাশ হয়েছে আরও আগে, ১০ আগস্ট। তাই গত বছরের তুলনায় ভর্তি ও ক্লাস কার্যক্রম এগিয়ে আনতে চাইছে মন্ত্রণালয়।

আসনের তুলনায় শিক্ষার্থী কম, তবু আছে চ্যালেঞ্জ

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।

অন্যদিকে দেশের কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে একাদশে ভর্তির আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে মোট আসনের অর্ধেকের বেশিই এবার খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ জনপ্রিয় ও ভালো ফলাফলের কলেজগুলোতে আসনসংখ্যা তুলনামূলক সীমিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

নৌ-বিমানবাহিনীর পদোন্নতিতে যোগ্যতাই মানদণ্ড: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

একাদশে ভর্তিতে একবারই আবেদন, কলেজ পছন্দে সতর্ক হতে হবে

আপডেট সময় : ০১:১৯:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম এবার এগিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ডগুলোর সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে পারে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া। এই আবেদন চলবে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শেই এই সংশোধিত সময়সূচি পাঠানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই ভর্তি নীতিমালা প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন এবং ১২ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয় সেই সময়সূচিতে সম্মতি না দেওয়ায় নতুন প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

এসএসসি ফলাফলের ভিত্তিতেই হবে ভর্তি

এবারও কোনো ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন আবেদন গ্রহণের পর শিক্ষার্থীর ফল, কলেজ পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনা করে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

এবার একবারই আবেদনের সুযোগ, মাইগ্রেশন থাকছে না

আবেদন প্রক্রিয়ায় এবার বড় পরিবর্তন আসছে। আগে একাধিক ধাপে আবেদনের সুযোগ থাকলেও এবার প্রথম পর্যায়ে মাত্র একবারই আবেদন করা যাবে। ফলে আগের মতো মাইগ্রেশনের সুবিধাও পাবে না শিক্ষার্থীরা।

তাই আবেদনের সময় কলেজ পছন্দক্রম নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একবার আবেদন করলে পরে সহজে তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।

তবে ব্যতিক্রম থাকছে কয়েকটি ক্ষেত্রে। খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পর কারও ফল বদলালে সে নতুন করে আবেদন করতে পারবে। এছাড়া প্রথম পর্যায়ে বাদ পড়া, মনোনয়ন পেয়েও নিশ্চিত না করা, বা কোনো কলেজে মনোনয়ন না পাওয়া শিক্ষার্থীরাও পরবর্তীতে পুনরায় আবেদনের সুযোগ পাবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের প্রাথমিক প্রস্তাব ও পরিবর্তনের কারণ

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি প্রাথমিকভাবে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু এবং ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। ক্লাস শুরুর তারিখ ধরা হয়েছিল ১২ নভেম্বর। তবে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার পর পুরো সময়সূচিই এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের শুরুতেই আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে এবং মাসের শেষ সপ্তাহে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে। যারা পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন আবেদন করে কলেজ পরিবর্তন করবে, তাদের ক্লাস ১ অক্টোবরের মধ্যে শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে এবং সংশোধিত প্রস্তাব ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়ই। তিনি আরও জানান, একাডেমিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফেরাতেই ভর্তি ও ক্লাস শুরুর সময় এগিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কেন এগিয়ে আনা হচ্ছে সময়সূচি

একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ১ জুলাই থেকে। তবে বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছর নির্ধারিত সময়ে ক্লাস শুরু করা যায়নি।

গত বছর এসএসসির ফল প্রকাশিত হয়েছিল ১০ জুলাই, আর ক্লাস শুরু হয়েছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। এবার ফল প্রকাশ হয়েছে আরও আগে, ১০ আগস্ট। তাই গত বছরের তুলনায় ভর্তি ও ক্লাস কার্যক্রম এগিয়ে আনতে চাইছে মন্ত্রণালয়।

আসনের তুলনায় শিক্ষার্থী কম, তবু আছে চ্যালেঞ্জ

এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।

অন্যদিকে দেশের কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে একাদশে ভর্তির আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। ফলে মোট আসনের অর্ধেকের বেশিই এবার খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে আসন বেশি থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়া সব শিক্ষার্থী পছন্দের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে না। কারণ জনপ্রিয় ও ভালো ফলাফলের কলেজগুলোতে আসনসংখ্যা তুলনামূলক সীমিত।