ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্ক আরোপ: ব্যর্থ কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্ক আরোপ: ব্যর্থ কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা

আমেরিকার সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি গঠনে ব্যর্থ হয়েছে অটোয়া। ফলে মার্কিন বাজারে ঢুকতে যাওয়া বিপুল পরিমাণ কানাডীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হয়েছে নতুন টানাপোড়েন।

অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত ও বিপুল অঙ্কের শুল্ক

দীর্ঘদিনের সহাবস্থান সত্ত্বেও ভেস্তে গেছে বহুল আলোচিত কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা। ওয়াশিংটন ডিসিতে টানা তিন দিন দরকষাকষি চলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই।

এর ফলে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাচ্ছে ওয়াশিংটন। স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাত থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। মূলত প্লাইউড, অ্যালকোহল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং হকি সামগ্রীর মতো শত শত পণ্য এর আওতায় পড়বে।

পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি অটোয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে তাঁর দেশ।

এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ভালো সুবিধার লক্ষ্যে আগের সপ্তাহে আলোচনায় কিছু উন্নতি হয়েছিল। তবে কানাডাবাসীদের মূল স্বার্থ রক্ষায় তা যথেষ্ট ছিল না। বাণিজ্য যুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত নতুন সহায়তা প্যাকেজ আসবে।

পরস্পরকে দোষারোপ

অন্যদিকে এই সমঝোতা না হওয়ার জন্য সরাসরি কানাডাকেই অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। তাঁর দাবি, চলতি সপ্তাহের নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে কানাডা হঠাৎ সরে দাঁড়িয়েছে।

গ্রিয়ার বলেন, অন্যান্য শীর্ষ রপ্তানিকারকদের চেয়ে কানাডাকে আমরা সবচেয়ে ভালো সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের বাড়তি দাবি আলোচনার ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে।

বাণিজ্য খাতের ভয়াবহ ক্ষতি

নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স, শিল্পযন্ত্র ও দুগ্ধজাত পণ্যে নতুন করে শুল্ক যুক্ত হলো। তবে ইস্পাত, কাঠ ও অটোমোবাইল খাতে আগের শুল্ক আগের মতোই বহাল থাকবে।

আগের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামে ২৫ শতাংশ এবং গাড়িতে শুল্ক ১৫ শতাংশে নামানোর কথা ছিল। বিনিময়ে কানাডাকেও তাদের পুরোনো পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ওয়াশিংটন বাড়তি কিছু সুবিধা দাবি করে। তারা মার্কিন গাড়ির ওপর থাকা কানাডীয় শুল্ক এবং আমেরিকান মদ বিক্রির ওপর প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞা তোলার চাপ দেয়।

কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এবং মার্কিন প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মধ্যকার তিন দিনের বৈঠক শেষ পর্যন্ত চরম ব্যর্থতায় রূপ নেয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিপুল এ শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে কানাডার বহু পণ্যের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্ক আরোপ: ব্যর্থ কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০% শুল্ক আরোপ: ব্যর্থ কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা

আপডেট সময় : ০২:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

আমেরিকার সাথে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি গঠনে ব্যর্থ হয়েছে অটোয়া। ফলে মার্কিন বাজারে ঢুকতে যাওয়া বিপুল পরিমাণ কানাডীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বসছে। এতে দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হয়েছে নতুন টানাপোড়েন।

অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত ও বিপুল অঙ্কের শুল্ক

দীর্ঘদিনের সহাবস্থান সত্ত্বেও ভেস্তে গেছে বহুল আলোচিত কানাডা-আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা। ওয়াশিংটন ডিসিতে টানা তিন দিন দরকষাকষি চলেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই।

এর ফলে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসাচ্ছে ওয়াশিংটন। স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাত থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। মূলত প্লাইউড, অ্যালকোহল, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং হকি সামগ্রীর মতো শত শত পণ্য এর আওতায় পড়বে।

পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি অটোয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে তাঁর দেশ।

এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ভালো সুবিধার লক্ষ্যে আগের সপ্তাহে আলোচনায় কিছু উন্নতি হয়েছিল। তবে কানাডাবাসীদের মূল স্বার্থ রক্ষায় তা যথেষ্ট ছিল না। বাণিজ্য যুদ্ধে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতে দ্রুত নতুন সহায়তা প্যাকেজ আসবে।

পরস্পরকে দোষারোপ

অন্যদিকে এই সমঝোতা না হওয়ার জন্য সরাসরি কানাডাকেই অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। তাঁর দাবি, চলতি সপ্তাহের নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে কানাডা হঠাৎ সরে দাঁড়িয়েছে।

গ্রিয়ার বলেন, অন্যান্য শীর্ষ রপ্তানিকারকদের চেয়ে কানাডাকে আমরা সবচেয়ে ভালো সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের বাড়তি দাবি আলোচনার ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে।

বাণিজ্য খাতের ভয়াবহ ক্ষতি

নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক্স, শিল্পযন্ত্র ও দুগ্ধজাত পণ্যে নতুন করে শুল্ক যুক্ত হলো। তবে ইস্পাত, কাঠ ও অটোমোবাইল খাতে আগের শুল্ক আগের মতোই বহাল থাকবে।

আগের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামে ২৫ শতাংশ এবং গাড়িতে শুল্ক ১৫ শতাংশে নামানোর কথা ছিল। বিনিময়ে কানাডাকেও তাদের পুরোনো পাল্টা শুল্ক প্রত্যাহার করার শর্ত দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু ওয়াশিংটন বাড়তি কিছু সুবিধা দাবি করে। তারা মার্কিন গাড়ির ওপর থাকা কানাডীয় শুল্ক এবং আমেরিকান মদ বিক্রির ওপর প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞা তোলার চাপ দেয়।

কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক এবং মার্কিন প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের মধ্যকার তিন দিনের বৈঠক শেষ পর্যন্ত চরম ব্যর্থতায় রূপ নেয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিপুল এ শুল্কের কারণে মার্কিন বাজারে কানাডার বহু পণ্যের প্রতিযোগিতা করার ক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে।