দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সার্বিক সূচকে বড় ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সপ্তাহজুড়ে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ডিএসইএক্স সূচক দেড় শতাংশেরও বেশি কমেছে। এর পাশাপাশি চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের পতন লক্ষ্য করা গেছে।
সূচক ও দরপতনের চিত্র
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গত সপ্তাহে ৯৮ পয়েন্ট কমেছে। ফলে এটি ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে নেমে এসেছে। আগের সপ্তাহে যা ছিল ৫ হাজার ৮৮৪ পয়েন্ট।
পাশাপাশি ডিএস-৩০ সূচক দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এছাড়া শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ২১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে ৩৮৪টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ৫২টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে। তবে ৩১৪টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে এবং ১৮টি অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া ২৭টি প্রতিষ্ঠানের কোনো লেনদেন হয়নি।
শেয়ার পতন ও খাতের প্রভাব
গত সপ্তাহে সূচকের পতন ঘটাতে কয়েকটি ব্যাংক ও কোম্পানি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংক, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ, ইসলামী ব্যাংক ও এলএইচবির শেয়ার অন্যতম।
তবে দরপতনের মধ্যেও বস্ত্র খাতের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। মোট লেনদেনের ২১.২ শতাংশ দখলে নিয়ে এই খাত শীর্ষে অবস্থান করছে।
এর পর ১৭.৯ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাধারণ বীমা খাত। এছাড়া প্রকৌশল খাত ৯.৬ শতাংশ, ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯.১ শতাংশ এবং ব্যাংক খাত ৭.১ শতাংশ লেনদেন করেছে।
রিটার্নে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
গত সপ্তাহে খাতভিত্তিক রিটার্নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল পাট খাতের। এই খাত থেকে সর্বোচ্চ ৪.৬ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
এছাড়া কাগজ, মিউচুয়াল ফান্ড, সিরামিক ও বস্ত্র খাতেও নেতিবাচক রিটার্ন ছিল। তবে সার্বিক মন্দার মধ্যেও সেবা খাতে দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন পাওয়া গেছে।
সিএসইর বাজার পরিস্থিতি
অন্য পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের বড় পতন হয়েছে। গত সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই প্রায় ২ শতাংশ কমে ১৫ হাজার ৪৯১ পয়েন্টে নেমেছে।
সিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩১০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। সেখানে ৩২১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৮টির এবং কমেছে ২৪১টির শেয়ারদর।




















