ঢাকা ০৭:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিনবার অবতরণের চেষ্টায় তীব্র ঝাঁকুনিতে বিমানে আতঙ্ক, অতঃপর….

তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে প্রবল ঝড়ের মধ্যে অবতরণের সময় তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বারবার অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটিতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভত হয়। একপর্যায়ে যাত্রীরা মনে করেন, বিমানটি যেন হঠাৎ নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ওই ফ্লাইটের যাত্রী মারিনা মাইস্কায়া। ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যে যাত্রীরা নিজেদের আসন শক্ত করে ধরে আছেন। পুরো কেবিনে আতঙ্কের চিৎকার শোনা যায়। এক যাত্রীকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মারা যাব, আমরা মারা যাব।’

ইস্তাম্বুল থেকে তিউনিসের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া তুর্কিশ এয়ারলাইনসের  টিকে ৬৬১ ফ্লাইটটি গত সপ্তাহে তিউনিস-কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছানোর পর খারাপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে।

মাইস্কায়া জানান, যাত্রার বেশিরভাগ সময় বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু অবতরণের প্রস্তুতি শুরু হতেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, জীবনে এর আগে কখনো নিজের জীবন নিয়ে এতটা ভয় পাননি। তার সঙ্গে তার মাও ছিলেন।

মাইস্কায়ার দাবি, পাইলট একই বিমানবন্দরে তিনবার অবতরণের চেষ্টা করেন। প্রতিবারই বিমানটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনির মধ্যে পড়ে।তার ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নামতে শুরু করে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

একপর্যায়ে চতুর্থবার একই বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় যাত্রীরা চিৎকার করে অন্য কোনো বিমানবন্দরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়,  পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইটটি তিউনিস-কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এনফিধা-হাম্মামেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখানেই বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার পর মাইস্কায়া বলেন, ‘আমরা নিরাপদে বেঁচে ফিরেছি—সম্ভবত তুর্কিশ এয়ারলাইনসের পাইলটদের কারণেই।’

ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে বিমান পরিচালনা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

জনপ্রিয় সংবাদ

তিনবার অবতরণের চেষ্টায় তীব্র ঝাঁকুনিতে বিমানে আতঙ্ক, অতঃপর….

আপডেট সময় : ১১:২৯:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে প্রবল ঝড়ের মধ্যে অবতরণের সময় তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বারবার অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর বিমানটিতে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভত হয়। একপর্যায়ে যাত্রীরা মনে করেন, বিমানটি যেন হঠাৎ নিচের দিকে পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন ওই ফ্লাইটের যাত্রী মারিনা মাইস্কায়া। ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র ঝাঁকুনির মধ্যে যাত্রীরা নিজেদের আসন শক্ত করে ধরে আছেন। পুরো কেবিনে আতঙ্কের চিৎকার শোনা যায়। এক যাত্রীকে বারবার বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মারা যাব, আমরা মারা যাব।’

ইস্তাম্বুল থেকে তিউনিসের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া তুর্কিশ এয়ারলাইনসের  টিকে ৬৬১ ফ্লাইটটি গত সপ্তাহে তিউনিস-কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছানোর পর খারাপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে।

মাইস্কায়া জানান, যাত্রার বেশিরভাগ সময় বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু অবতরণের প্রস্তুতি শুরু হতেই পরিস্থিতি বদলে যায়।

ইনস্টাগ্রামে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, জীবনে এর আগে কখনো নিজের জীবন নিয়ে এতটা ভয় পাননি। তার সঙ্গে তার মাও ছিলেন।

মাইস্কায়ার দাবি, পাইলট একই বিমানবন্দরে তিনবার অবতরণের চেষ্টা করেন। প্রতিবারই বিমানটি প্রচণ্ড ঝাঁকুনির মধ্যে পড়ে।তার ভাষ্য অনুযায়ী, তৃতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিমানটি হঠাৎ নিচের দিকে নামতে শুরু করে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

একপর্যায়ে চতুর্থবার একই বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় যাত্রীরা চিৎকার করে অন্য কোনো বিমানবন্দরে যাওয়ার অনুরোধ করেন।

গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়,  পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইটটি তিউনিস-কার্থেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরিয়ে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত এনফিধা-হাম্মামেত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। সেখানেই বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার পর মাইস্কায়া বলেন, ‘আমরা নিরাপদে বেঁচে ফিরেছি—সম্ভবত তুর্কিশ এয়ারলাইনসের পাইলটদের কারণেই।’

ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঝড়ো আবহাওয়ার মধ্যে বিমান পরিচালনা ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি