ঢাকা ০৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে দ্রুত কাজের তাগিদ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম ও কলেজ তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহকে এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তার হাতে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সাত মাসে সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে উদ্যোগ ও কাজের গতি দেখা দরকার। উপাচার্যের নেতৃত্বে যে দল দেওয়া হয়েছে, তাদের উৎপাদনশীলতা ও কাজের ফলাফল সরকার দেখতে চায়।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ২ হাজার ৩০৭টি কলেজ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব। কোন কলেজে কোন শিক্ষক কীভাবে পড়াচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন— এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষার হল নয়, শ্রেণিকক্ষেও ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোন শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন, ক্লাসে উপস্থিতি কেমন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক যোগাযোগ কেমন— এসব বিষয় সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পরে প্রয়োজন হলে সেগুলো পর্যালোচনা করা যাবে।

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়ে আমি এমন কিছু বিষয় দেখেছি, যা আমাকে হতাশ করেছে। পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করতে হবে।

এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি ছিল কি না। এ ঘটনায় পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং খাতা মূল্যায়নে ভুল হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১০০ জন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করালে ৯০ জনের প্রশ্নের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। গাইড ও নোটবইয়ের সঙ্গে প্রশ্নের মিলও দেখা যায়। এ ধরনের পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়টি ভাবতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেধাবী, শিক্ষকেরাও মেধাবী। মূল সমস্যা ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব। তাই শিক্ষকদের উৎসাহ ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে দ্রুত কাজের তাগিদ দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম ও কলেজ তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহকে এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তার হাতে এখনো অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সাত মাসে সব পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে উদ্যোগ ও কাজের গতি দেখা দরকার। উপাচার্যের নেতৃত্বে যে দল দেওয়া হয়েছে, তাদের উৎপাদনশীলতা ও কাজের ফলাফল সরকার দেখতে চায়।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাজারের চাহিদাভিত্তিক কোর্স চালু, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, কারিকুলাম আধুনিকীকরণ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রায় ২ হাজার ৩০৭টি কলেজ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করা সম্ভব। কোন কলেজে কোন শিক্ষক কীভাবে পড়াচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন— এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষার হল নয়, শ্রেণিকক্ষেও ক্যামেরা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কোন শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন, ক্লাসে উপস্থিতি কেমন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক যোগাযোগ কেমন— এসব বিষয় সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পরে প্রয়োজন হলে সেগুলো পর্যালোচনা করা যাবে।

পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করতে গিয়ে আমি এমন কিছু বিষয় দেখেছি, যা আমাকে হতাশ করেছে। পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা আরও কঠোর করতে হবে।

এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফলের প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার পুনর্নিরীক্ষণে ৩ হাজার ৭৯ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে প্রশ্ন উঠছে, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো ত্রুটি ছিল কি না। এ ঘটনায় পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং খাতা মূল্যায়নে ভুল হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষককে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে প্রশ্ন প্রণয়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১০০ জন শিক্ষককে দিয়ে প্রশ্ন তৈরি করালে ৯০ জনের প্রশ্নের মধ্যে মিল পাওয়া যায়। গাইড ও নোটবইয়ের সঙ্গে প্রশ্নের মিলও দেখা যায়। এ ধরনের পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রশ্ন প্রণয়নের বিষয়টি ভাবতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। শিক্ষার্থীরা মেধাবী, শিক্ষকেরাও মেধাবী। মূল সমস্যা ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাব। তাই শিক্ষকদের উৎসাহ ও পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।