ঢাকা ০৭:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে ব্যাংক

২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে ব্যাংক

উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ ও সমপরিমাণ অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। থাকছে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ব্যবসা নিবন্ধন ও বাজারসংযোগের সহায়তাও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে অর্থায়ন করা হবে। কর্মসূচির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ অনুদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন ও ব্যয় পরিকল্পনা যাচাই করে।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে ব্যাংকের ভূমিকা শুধু ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্ট উপজেলার সব তফসিলি ব্যাংকের শাখাকে স্থানীয়ভাবে প্রচার চালিয়ে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও ব্যাংকগুলো যুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি উপজেলায় একটি তফসিলি ব্যাংককে লিড ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব দেবে। জেলা পর্যায়ের আবেদন ও কার্যক্রমও এই লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে শুধু অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন করতে পারবেন। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকেই হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ছবি, নির্ধারিত আবেদন ফরম এবং স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র দিতে হবে।

এই কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা তরুণেরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ অথবা বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকতে হবে। তবে আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।

তরুণদের ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো জামানত। নতুন কর্মসূচিতে এ বাধা কমাতে সহায়ক জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে জমি, বাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদ জামানত দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকলে তরুণেরা অর্থায়নের সুযোগ পাবেন। তবে জামানত না থাকলেও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি শিথিল নয়। উদ্যোক্তা নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে ঋণ অনুমোদন করবে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তার ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে তা জানাতে হবে।

কর্মসূচিটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত করার ব্যবস্থা। নতুন উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা, প্রশিক্ষণ, মেন্টরের পরামর্শ এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বাজারের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগও থাকবে। অর্থাৎ ব্যবসা শুরুর জন্য শুধু অর্থ নয়, ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও বাজারসংযোগকেও কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট কোনো একটি খাতকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য, পশুপালন, হস্তশিল্প, পর্যটন, সেবা, হালকা প্রকৌশল, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে। এ ছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, এগ্রিটেক ও হেলথটেকের মতো নতুন খাতেও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

উদ্যোক্তা নির্বাচনে শুধু বয়স বা আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না। ব্যবসার ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত, পণ্য বা সেবার বাজার সম্ভাবনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, সফল উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

উদ্যোক্তার হাতে অর্থ দেওয়ার পরও ব্যাংককে ব্যবসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিক্রি, নগদ প্রবাহ, ঋণ পরিশোধ এবং কর্মসংস্থান তৈরির অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত নজরদারির আওতায় থাকবে।

বিশেষ করে অনুদানের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বা অনুদানের অর্থ অনুমোদিত কাজে ব্যবহার না করলে অনুদানের সমপরিমাণ অর্থও ঋণে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সরাসরি উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। অর্থের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ব্যবসা নিবন্ধন ও বাজারসংযোগের ব্যবস্থা থাকায় কর্মসূচিটি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ব্যবসা তৈরির একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।

তবে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই, দ্রুত অর্থ ছাড় এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকিই কর্মসূচিটির সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে ব্যাংক

আপডেট সময় : ১১:৩৮:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজে বের করে ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ ও সমপরিমাণ অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে। থাকছে প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ব্যবসা নিবন্ধন ও বাজারসংযোগের সহায়তাও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির আওতায় ২৮ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে অর্থায়ন করা হবে। কর্মসূচির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, উদ্যোক্তার ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের পাশাপাশি সমপরিমাণ অনুদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন ও ব্যয় পরিকল্পনা যাচাই করে।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে ব্যাংকের ভূমিকা শুধু ঋণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। সংশ্লিষ্ট উপজেলার সব তফসিলি ব্যাংকের শাখাকে স্থানীয়ভাবে প্রচার চালিয়ে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। আবেদন গ্রহণ থেকে শুরু করে উদ্যোক্তা নির্বাচনের প্রক্রিয়াতেও ব্যাংকগুলো যুক্ত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি উপজেলায় একটি তফসিলি ব্যাংককে লিড ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব দেবে। জেলা পর্যায়ের আবেদন ও কার্যক্রমও এই লিড ব্যাংকের মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। ফলে কেন্দ্রীয়ভাবে শুধু অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে উদ্যোক্তা তৈরির কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীরা সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় আবেদন করতে পারবেন। যে ব্যাংকে আবেদন করা হবে, সেখানে আগে থেকেই হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আবেদনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, ছবি, নির্ধারিত আবেদন ফরম এবং স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণপত্র দিতে হবে।

এই কর্মসূচিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা তরুণেরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ অথবা বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকতে হবে। তবে আগে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ নেওয়া ব্যক্তি, ঋণখেলাপি এবং সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।

তরুণদের ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো জামানত। নতুন কর্মসূচিতে এ বাধা কমাতে সহায়ক জামানত ছাড়াই ঋণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে জমি, বাড়ি বা অন্য কোনো সম্পদ জামানত দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলেও সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকলে তরুণেরা অর্থায়নের সুযোগ পাবেন। তবে জামানত না থাকলেও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া পুরোপুরি শিথিল নয়। উদ্যোক্তা নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে ঋণ অনুমোদন করবে।

চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উদ্যোক্তার ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংককে তা জানাতে হবে।

কর্মসূচিটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রস্তুত করার ব্যবস্থা। নতুন উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা, প্রশিক্ষণ, মেন্টরের পরামর্শ এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স ও টিআইএনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি বাজারের সঙ্গে উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ তৈরির উদ্যোগও থাকবে। অর্থাৎ ব্যবসা শুরুর জন্য শুধু অর্থ নয়, ব্যবসা পরিচালনার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও বাজারসংযোগকেও কর্মসূচির অংশ করা হয়েছে।

‘উদ্যোগ’ কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট কোনো একটি খাতকে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য, পশুপালন, হস্তশিল্প, পর্যটন, সেবা, হালকা প্রকৌশল, সৌরবিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারে। এ ছাড়া ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, এগ্রিটেক ও হেলথটেকের মতো নতুন খাতেও তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্যোগ বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

উদ্যোক্তা নির্বাচনে শুধু বয়স বা আবেদন করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না। ব্যবসার ধারণা কতটা বাস্তবসম্মত, পণ্য বা সেবার বাজার সম্ভাবনা, উদ্যোক্তার সক্ষমতা, আর্থিক পরিকল্পনা এবং কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক, সফল উদ্যোক্তা, ব্যাংকার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

উদ্যোক্তার হাতে অর্থ দেওয়ার পরও ব্যাংককে ব্যবসার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বিক্রি, নগদ প্রবাহ, ঋণ পরিশোধ এবং কর্মসংস্থান তৈরির অগ্রগতির তথ্য নিয়মিত নজরদারির আওতায় থাকবে।

বিশেষ করে অনুদানের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বা অনুদানের অর্থ অনুমোদিত কাজে ব্যবহার না করলে অনুদানের সমপরিমাণ অর্থও ঋণে পরিণত হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সরাসরি উদ্যোক্তা তৈরির সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। অর্থের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, ব্যবসা নিবন্ধন ও বাজারসংযোগের ব্যবস্থা থাকায় কর্মসূচিটি স্থানীয় পর্যায়ে নতুন ব্যবসা তৈরির একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করতে পারে।

তবে প্রকৃত উদ্যোক্তা বাছাই, দ্রুত অর্থ ছাড় এবং অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকিই কর্মসূচিটির সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।