ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়



ফটোকার্ড ডাউনলোড

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলেও কিছু এলাকায় এখনো সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট এলাকাগুলোতেও দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সাময়িক এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটসংলগ্ন জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের পূর্বাঞ্চলীয় অংশে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ বিপর্যয়ের ফলে তিন অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

গ্রিডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সঞ্চালন লাইনে হঠাৎ ট্রিপ করার পর গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে পড়ে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দেয়।

এদিকে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি জানিয়েছে, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁওয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রামের কিছু এলাকাও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারিগরি কারণ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি আরও জানিয়েছে, জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটলেও ঠিক কোন স্থানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বহালে কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রকৌশলীরা কারিগরি ত্রুটির উৎস শনাক্তের চেষ্টা করছেন। ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পরই বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

এদিকে রাজধানীর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে শুরু করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যান্ত্রিক ত্রুটিতে ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়

আপডেট সময় : ০৫:৩৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হলেও কিছু এলাকায় এখনো সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিদ্যুৎ বিভাগের এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনর্বহাল করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট এলাকাগুলোতেও দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

সাময়িক এ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটসংলগ্ন জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের পূর্বাঞ্চলীয় অংশে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ বিপর্যয়ের ফলে তিন অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

গ্রিডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সঞ্চালন লাইনে হঠাৎ ট্রিপ করার পর গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে একাধিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিট বন্ধ হয়ে পড়ে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় দেখা দেয়।

এদিকে পাওয়ার গ্রিড পিএলসি জানিয়েছে, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া মগবাজার, বনশ্রী ও খিলগাঁওয়ের পাশাপাশি চট্টগ্রামের কিছু এলাকাও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারিগরি কারণ এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রকৌশলীরা কাজ করছেন। ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

পাওয়ার গ্রিড পিএলসি আরও জানিয়েছে, জাতীয় লোড ডেসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয় ঘটলেও ঠিক কোন স্থানে ত্রুটি দেখা দিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনর্বহালে কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রকৌশলীরা কারিগরি ত্রুটির উৎস শনাক্তের চেষ্টা করছেন। ত্রুটি চিহ্নিত হওয়ার পরই বিপর্যয়ের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।

এদিকে রাজধানীর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হতে শুরু করেছে।