ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোগান্তিহীন এখন চট্টগ্রাম বন্দর: দ্রুততর আমদানি–রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক ইতিহাস। যেই বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ জটে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো, সেই ‘ওয়েটিং টাইম’ বা অপেক্ষার সময় এখন নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। চলতি বছরের গত তিন মাসে রেকর্ডসংখ্যক দিন কোনো জাহাজকেই বার্থিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। বন্দরের এই অভাবনীয় সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোও।

চট্টগ্রাম বন্দর- দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান গেটওয়ে। এক সময় জাহাজ জট আর দীর্ঘ অপেক্ষাই ছিল এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র। কিন্তু সেই চিত্র এখন পাল্টে গেছে আমূল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে যথাক্রমে ৯, ১৮ ও ১৯ দিন বহির্নোঙরে কোনো জাহাজকে অপেক্ষাই করতে হয়নি। জাহাজগুলো আসছে এবং সরাসরি জেটিতে ভিড়ছে, অর্থাৎ পাচ্ছে ‘অন-অ্যারাইভাল বার্থিং’ সুবিধা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই প্রায় ২৮.৫ লাখ টিইইউ কনটেইনার এবং সাড়ে ১১ কোটি টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর পেছনে মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন সংযোজন, ইয়ার্ড সম্প্রসারণ, অটোমেশন এবং কর্মকর্তা-শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

বন্দরের এই গতিশীলতায় মুগ্ধ আন্তর্জাতিক মহলও। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি ‘মায়ার্স্ক লাইন’ বন্দরের সেবার মান ও জট কমানোর পদক্ষেপে আনুষ্ঠানিক সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাহাজ ভাড়া ও ডেমারেজ চার্জ কমে আসায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে।

“আগে যেখানে একটি জাহাজকে ৭ থেকে ১০ দিন বসে থাকতে হতো, এখন তা শূন্যে নেমে এসেছে। এতে আমাদের ব্যবসার খরচ কমছে এবং লিড টাইম (Lead Time) বা পণ্য হাতে পাওয়ার সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে।”

চট্টগ্রাম বন্দরের এই সাফল্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়ন করা গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও লাভজনক ও দক্ষ করা সম্ভব। আর তাই, বন্দরের এই সাফল্যের পর এখন জোর দাবি উঠছে- দেশের রেলখাত, বিমানবন্দর এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার।

অর্থনীতিবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আদলে অথবা প্রয়োজনে বিদেশি দক্ষ সংস্থার হাতে এসব খাতের হ্যান্ডলিং ও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হলে, রেল ও বিমানের মতো লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

ভোগান্তিহীন এখন চট্টগ্রাম বন্দর: দ্রুততর আমদানি–রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় : ০৫:১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে নতুন এক ইতিহাস। যেই বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজ জটে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হতো, সেই ‘ওয়েটিং টাইম’ বা অপেক্ষার সময় এখন নেমে এসেছে শূন্যের কোটায়। চলতি বছরের গত তিন মাসে রেকর্ডসংখ্যক দিন কোনো জাহাজকেই বার্থিংয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। বন্দরের এই অভাবনীয় সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোও।

চট্টগ্রাম বন্দর- দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান গেটওয়ে। এক সময় জাহাজ জট আর দীর্ঘ অপেক্ষাই ছিল এখানকার নিত্যনৈমিত্তিক চিত্র। কিন্তু সেই চিত্র এখন পাল্টে গেছে আমূল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে যথাক্রমে ৯, ১৮ ও ১৯ দিন বহির্নোঙরে কোনো জাহাজকে অপেক্ষাই করতে হয়নি। জাহাজগুলো আসছে এবং সরাসরি জেটিতে ভিড়ছে, অর্থাৎ পাচ্ছে ‘অন-অ্যারাইভাল বার্থিং’ সুবিধা।

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসেই প্রায় ২৮.৫ লাখ টিইইউ কনটেইনার এবং সাড়ে ১১ কোটি টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর পেছনে মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে আধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন সংযোজন, ইয়ার্ড সম্প্রসারণ, অটোমেশন এবং কর্মকর্তা-শ্রমিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

বন্দরের এই গতিশীলতায় মুগ্ধ আন্তর্জাতিক মহলও। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিপিং কোম্পানি ‘মায়ার্স্ক লাইন’ বন্দরের সেবার মান ও জট কমানোর পদক্ষেপে আনুষ্ঠানিক সন্তোষ প্রকাশ করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জাহাজ ভাড়া ও ডেমারেজ চার্জ কমে আসায় এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে।

“আগে যেখানে একটি জাহাজকে ৭ থেকে ১০ দিন বসে থাকতে হতো, এখন তা শূন্যে নেমে এসেছে। এতে আমাদের ব্যবসার খরচ কমছে এবং লিড টাইম (Lead Time) বা পণ্য হাতে পাওয়ার সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে।”

চট্টগ্রাম বন্দরের এই সাফল্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক ব্যবস্থাপনা ও আধুনিকায়ন করা গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানকেও লাভজনক ও দক্ষ করা সম্ভব। আর তাই, বন্দরের এই সাফল্যের পর এখন জোর দাবি উঠছে- দেশের রেলখাত, বিমানবন্দর এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনাতেও আমূল পরিবর্তন আনার।

অর্থনীতিবিদ ও সচেতন মহল মনে করছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের আদলে অথবা প্রয়োজনে বিদেশি দক্ষ সংস্থার হাতে এসব খাতের হ্যান্ডলিং ও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হলে, রেল ও বিমানের মতো লোকসানি প্রতিষ্ঠানগুলোও ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।