ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘চোক্ষের সামনে কৃষকরার ধান ডুইব্বা যাইতাছে, কিচ্ছু করার নাই’

‘চোক্ষের সামনে কৃষকরার ধান ডুইব্বা যাইতাছে, কিচ্ছু করার নাই’

নেত্রকোনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে কংস নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা হাওরাঞ্চলের বোরো ফসলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নেত্রকোনায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অব্যাহত এই বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কংস নদ ছাড়াও ধনু, উব্দাখালী, সোমেশ্বরীসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জেলার খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দার হাওরগুলোতে পানি ঢুকে বোরো ধান তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

হাওর এলাকার কৃষকরা এখন অকাল বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, অধিকাংশ জমিতে হাঁটুর ওপর পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটার হার্ভেস্টার যন্ত্র চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, বৃষ্টির সাথে ঘন ঘন বজ্রপাত হওয়ায় শ্রমিকরা মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছেন। গত এক মাসেই বজ্রপাতে হাওরাঞ্চলে ৫ জন প্রাণ হারানোয় এই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। চড়া মজুরি দিয়েও অনেক কৃষক ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওরাঞ্চলেই রয়েছে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত মাত্র ৫২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান ইতিমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চোখের সামনে কষ্টের ফসল ডুবে গেলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা কিছুই করতে পারছেন না। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফসলহানির স্মৃতি মনে করে তারা এখন দিশেহারা।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বৃষ্টি ও ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটে বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফসল রক্ষা বাঁধগুলো এখনো অক্ষত থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও পাউবো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, কৃষকরা যাতে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারেন সে বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাঁধ রক্ষায় পিআইসি কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় স্থানে জিও ব্যাগ ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

‘চোক্ষের সামনে কৃষকরার ধান ডুইব্বা যাইতাছে, কিচ্ছু করার নাই’

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

নেত্রকোনা জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর উজানের পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে কংস নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা হাওরাঞ্চলের বোরো ফসলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত নেত্রকোনায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অব্যাহত এই বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কংস নদ ছাড়াও ধনু, উব্দাখালী, সোমেশ্বরীসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে জেলার খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দার হাওরগুলোতে পানি ঢুকে বোরো ধান তলিয়ে যেতে শুরু করেছে।

হাওর এলাকার কৃষকরা এখন অকাল বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের দেওয়া তথ্যমতে, অধিকাংশ জমিতে হাঁটুর ওপর পানি জমে যাওয়ায় ধান কাটার হার্ভেস্টার যন্ত্র চালানো সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে, বৃষ্টির সাথে ঘন ঘন বজ্রপাত হওয়ায় শ্রমিকরা মাঠে নামতে ভয় পাচ্ছেন। গত এক মাসেই বজ্রপাতে হাওরাঞ্চলে ৫ জন প্রাণ হারানোয় এই আতঙ্ক আরও বেড়েছে। চড়া মজুরি দিয়েও অনেক কৃষক ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না।

চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু হাওরাঞ্চলেই রয়েছে ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত মাত্র ৫২ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির পাকা ধান ইতিমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, চোখের সামনে কষ্টের ফসল ডুবে গেলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তারা কিছুই করতে পারছেন না। ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় ফসলহানির স্মৃতি মনে করে তারা এখন দিশেহারা।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, বৃষ্টি ও ভারতের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটে বৃষ্টিপাতের কারণে নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফসল রক্ষা বাঁধগুলো এখনো অক্ষত থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে উপজেলা প্রশাসন ও পাউবো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, কৃষকরা যাতে দ্রুত ফসল ঘরে তুলতে পারেন সে বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বাঁধ রক্ষায় পিআইসি কমিটি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় স্থানে জিও ব্যাগ ব্যবহারের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।