ঢাকা ০৬:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে বৃষ্টির বাধায় বোরো কাটা-মাড়াই, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষকরা

মৌলভীবাজারে বৃষ্টির বাধায় বোরো কাটা-মাড়াই, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষকরা

মৌলভীবাজারে টানা দুই দিনের বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বোরো ধান কাটা এবং মাড়াইয়ের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাকা ফসল ঘরে তোলা নিয়ে জেলার কৃষকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার ঝুঁকি রয়েছে, যা মাঠের পাকা ধান নষ্ট হওয়ার বড় কারণ হতে পারে।

চলতি বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই হাকালুকি, কাউয়াদিঘী ও হাইল হাওরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটার উৎসব শুরু হয়েছিল। তবে গত দুদিন ধরে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে সেই উৎসবে ভাটা পড়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির ফলে যারা ইতিমধ্যে ধান কেটে ফেলেছেন তারা মাড়াই করতে পারছেন না এবং রোদের অভাবে ধান শুকাতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মাঠের পাকা ধান কাটতেও হিমশিম খাচ্ছেন শ্রমিকরা।

চাষাবাদ ও বর্তমান পরিস্থিতি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী:

  • মোট চাষাবাদ: ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি।

  • ধান কাটার অগ্রগতি: হাওর অঞ্চলে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কৃষক রইছ মিয়া জানান, ৫০ শতক জমিতে বোরো চাষ করতে তার প্রায় ১৬-১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন আশানুরূপ না হলেও এখন বৃষ্টির মধ্যে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে পানি থেকে ধান কাটতে হচ্ছে।

একই চিত্র কাউয়াদিঘী হাওরেও। কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “গতকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হাওরে পানি বেড়ে গেলে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক কষ্ট আর অর্থ ব্যয় করে ফসল ফলিয়েছি, কিন্তু ঘরে তোলার মুহূর্তে আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, হাওর এলাকার অধিকাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। বিশেষ করে কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তিনি আরও বলেন, “আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করে আমরা আগেই কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছিলাম। অতিবৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কম। তবে যে সব উপজেলায় ধান কাটা বাকি আছে, সেখানে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

মৌলভীবাজারে বৃষ্টির বাধায় বোরো কাটা-মাড়াই, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষকরা

আপডেট সময় : ০১:১৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারে টানা দুই দিনের বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে বোরো ধান কাটা এবং মাড়াইয়ের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাকা ফসল ঘরে তোলা নিয়ে জেলার কৃষকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও আগাম বন্যার ঝুঁকি রয়েছে, যা মাঠের পাকা ধান নষ্ট হওয়ার বড় কারণ হতে পারে।

চলতি বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই হাকালুকি, কাউয়াদিঘী ও হাইল হাওরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটার উৎসব শুরু হয়েছিল। তবে গত দুদিন ধরে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাত ও বৃষ্টির কারণে সেই উৎসবে ভাটা পড়েছে।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বৃষ্টির ফলে যারা ইতিমধ্যে ধান কেটে ফেলেছেন তারা মাড়াই করতে পারছেন না এবং রোদের অভাবে ধান শুকাতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে, বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে মাঠের পাকা ধান কাটতেও হিমশিম খাচ্ছেন শ্রমিকরা।

চাষাবাদ ও বর্তমান পরিস্থিতি

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী:

  • মোট চাষাবাদ: ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি।

  • ধান কাটার অগ্রগতি: হাওর অঞ্চলে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৭ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কৃষক রইছ মিয়া জানান, ৫০ শতক জমিতে বোরো চাষ করতে তার প্রায় ১৬-১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন আশানুরূপ না হলেও এখন বৃষ্টির মধ্যে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়ে পানি থেকে ধান কাটতে হচ্ছে।

একই চিত্র কাউয়াদিঘী হাওরেও। কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, “গতকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। হাওরে পানি বেড়ে গেলে ধান কাটা অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক কষ্ট আর অর্থ ব্যয় করে ফসল ফলিয়েছি, কিন্তু ঘরে তোলার মুহূর্তে আবহাওয়া প্রতিকূল হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন জানান, হাওর এলাকার অধিকাংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। বিশেষ করে কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তিনি আরও বলেন, “আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করে আমরা আগেই কৃষকদের দ্রুত ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছিলাম। অতিবৃষ্টি না হলে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা কম। তবে যে সব উপজেলায় ধান কাটা বাকি আছে, সেখানে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”