ঢাকা ১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফা হামলা, ১৪০ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফা হামলা, ১৪০ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান সম্পন্ন করেছে, যেখানে দেশটির প্রায় ১৪০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইরানের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুশেহর প্রদেশের পাঁচটি শহরসহ দেশটির একাধিক এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

হামলার কারণ কী

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে সাম্প্রতিক আক্রমণের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌবাহিনীর স্থাপনা, অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুতাগার, যোগাযোগ কাঠামো এবং উপকূল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

এক সপ্তাহে তিন দফা অভিযান

মার্কিন বাহিনীর ভাষ্যমতে, বিগত এক সপ্তাহে চালানো তিন দফা অভিযানে ইরানের ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এসব অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ইরানি সক্ষমতা সীমিত করা।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ৮০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে সহায়তা করেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।

কোন কোন এলাকায় হামলা

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, বুশেহর প্রদেশের আসালুয়েহ, দেইর, বুশেহর, দাশতি ও তাঙ্গেস্তান শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ ইরানের এই প্রদেশটি চলমান সংঘাতের সময় একাধিকবার হামলার মুখে পড়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এ সপ্তাহের আগের হামলাগুলোতে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা ও কিছু বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের ভেইসিয়ান শহরের উপকণ্ঠেও দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। প্রদেশটির রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক উপপ্রধান সাঈদ পুরআলি জানিয়েছেন, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

এ ছাড়া ইরনা আরও জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের খোন্দাব শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, রোববার সকালে সংঘটিত এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও সম্ভাব্য হতাহতের পরিমাণ এখনো যাচাই করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, ত্রাণ-চিকিৎসায় গুরুত্বারোপ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দফা হামলা, ১৪০ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু

আপডেট সময় : ০২:৫৫:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে টানা তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান সম্পন্ন করেছে, যেখানে দেশটির প্রায় ১৪০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে ইরানের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বুশেহর প্রদেশের পাঁচটি শহরসহ দেশটির একাধিক এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে।

হামলার কারণ কী

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে সাইপ্রাসের পতাকাবাহী একটি জাহাজে সাম্প্রতিক আক্রমণের জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

সেন্টকমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এই হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি, নৌবাহিনীর স্থাপনা, অস্ত্র-গোলাবারুদ মজুতাগার, যোগাযোগ কাঠামো এবং উপকূল পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রসহ প্রায় ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

এক সপ্তাহে তিন দফা অভিযান

মার্কিন বাহিনীর ভাষ্যমতে, বিগত এক সপ্তাহে চালানো তিন দফা অভিযানে ইরানের ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এসব অভিযানের প্রধান লক্ষ্য হলো, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ইরানি সক্ষমতা সীমিত করা।

সেন্টকম আরও জানিয়েছে, মে মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন বাহিনী ৮০০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে সহায়তা করেছে। এসব জাহাজে প্রায় ৪০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল।

কোন কোন এলাকায় হামলা

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, বুশেহর প্রদেশের আসালুয়েহ, দেইর, বুশেহর, দাশতি ও তাঙ্গেস্তান শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ ইরানের এই প্রদেশটি চলমান সংঘাতের সময় একাধিকবার হামলার মুখে পড়েছে।

ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এ সপ্তাহের আগের হামলাগুলোতে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকা ও কিছু বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের লোরেস্তান প্রদেশের ভেইসিয়ান শহরের উপকণ্ঠেও দুটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। প্রদেশটির রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক বিষয়ক উপপ্রধান সাঈদ পুরআলি জানিয়েছেন, এই হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

এ ছাড়া ইরনা আরও জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের খোন্দাব শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিতেও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, রোববার সকালে সংঘটিত এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতি ও সম্ভাব্য হতাহতের পরিমাণ এখনো যাচাই করা হচ্ছে।