ঢাকা ১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও খুচরায় স্বস্তি নেই

পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও খুচরায় স্বস্তি নেই

ঢাকার বাজারে সবজির দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারে থাকা ১৬ ধরনের সবজির মধ্যে ১২টিরই কেজিপ্রতি দাম ৮০ টাকা বা তার বেশি। এর মধ্যে পাঁচ ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা বা তার ওপরে।

গত কয়েক সপ্তাহে সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দামে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সার্বিকভাবে বাজার এখনো স্বস্তিদায়ক নয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুরের টাউন হল কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

৮০ টাকার নিচে মাত্র চার সবজি

বাজারে ৮০ টাকার কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কেবল চার ধরনের সবজি। এর মধ্যে সবচেয়ে সস্তা পেঁপে, প্রতি কেজি ৪০ টাকা।

অন্যদিকে দামের শীর্ষে রয়েছে গোল বেগুন, যা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজিতে। লম্বা বেগুনের দাম ১২০ টাকা এবং টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বরবটি, ঝিঙে ও করলা প্রতিটি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বর্ষাকালেও কমেনি মৌসুমি সবজির দাম

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, ধুন্দুল, কচুমুখি ও কচুর লতির সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে এ সময় এসব সবজির দাম কম থাকার কথা।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গতকাল এসবের বেশির ভাগই বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজিতে। শসার দামও ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

সারা বছর পাওয়া যায় এমন লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও চালকুমড়ারও দাম বেশ চড়া। মাঝারি আকারের একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা কেজিতে।

কাঁচা মরিচে কিছুটা স্বস্তি

কাঁচা মরিচের বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এর দাম ৪০০ টাকা কেজি ছাড়িয়েছিল, সেখানে গতকাল খুচরায় বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে কাঁচা মরিচ পাওয়া গেছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়ার মতে, ভারতীয় কাঁচা মরিচের চালান আসার পরই এই দরপতন হয়েছে।

ডিম-আলুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

ডিমের দাম আগের উচ্চমূল্যেই স্থির রয়েছে। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আজমল মিয়া জানান, তাঁরা এখন ফার্ম থেকে ১০০টি ডিম কিনছেন ১ হাজার ২২০ টাকায়।

আলুর দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। তবে কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে পাঁচ কেজি আলু পাওয়া যাচ্ছে ১৩০ টাকায়।

পেঁয়াজের দামে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। খুচরায় মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

মুরগি ও চালের বাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজিতে এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায়। মিনিকেট চাল ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ছে

উচ্চমূল্যের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের সংসারে। গতকাল হাতিরপুল বাজারে কথা হয় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সিফাত শারমিনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, বেশি দামের কারণে কম পরিমাণে সবজি কিনতে হচ্ছে তাঁকে। আগে যেখানে এক কেজি কিনতেন, এখন কিনছেন আধা কেজি। পাশাপাশি রান্নায় বেশি ঝোল দিয়ে সবজির পরিমাণ কম রাখার কৌশল নিয়েছেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাইকারি বাজারে সবজির দাম কমলেও খুচরায় স্বস্তি নেই

আপডেট সময় : ০২:১১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকার বাজারে সবজির দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বাজারে থাকা ১৬ ধরনের সবজির মধ্যে ১২টিরই কেজিপ্রতি দাম ৮০ টাকা বা তার বেশি। এর মধ্যে পাঁচ ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা বা তার ওপরে।

গত কয়েক সপ্তাহে সরবরাহ সংকটের কারণে কিছু সবজির দাম ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় দামে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। তবে সার্বিকভাবে বাজার এখনো স্বস্তিদায়ক নয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হাতিরপুল ও মোহাম্মদপুরের টাউন হল কাঁচাবাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

৮০ টাকার নিচে মাত্র চার সবজি

বাজারে ৮০ টাকার কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কেবল চার ধরনের সবজি। এর মধ্যে সবচেয়ে সস্তা পেঁপে, প্রতি কেজি ৪০ টাকা।

অন্যদিকে দামের শীর্ষে রয়েছে গোল বেগুন, যা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজিতে। লম্বা বেগুনের দাম ১২০ টাকা এবং টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে। এছাড়া বরবটি, ঝিঙে ও করলা প্রতিটি ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

বর্ষাকালেও কমেনি মৌসুমি সবজির দাম

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে কাঁকরোল, ঢ্যাঁড়স, পটোল, ধুন্দুল, কচুমুখি ও কচুর লতির সরবরাহ বেড়ে যায়। ফলে এ সময় এসব সবজির দাম কম থাকার কথা।

কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গতকাল এসবের বেশির ভাগই বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা কেজিতে। শসার দামও ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

সারা বছর পাওয়া যায় এমন লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও চালকুমড়ারও দাম বেশ চড়া। মাঝারি আকারের একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়, চালকুমড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকা কেজিতে।

কাঁচা মরিচে কিছুটা স্বস্তি

কাঁচা মরিচের বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। দুই সপ্তাহ আগে যেখানে এর দাম ৪০০ টাকা কেজি ছাড়িয়েছিল, সেখানে গতকাল খুচরায় বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকায়।

কারওয়ান বাজারে পাইকারি দরে কাঁচা মরিচ পাওয়া গেছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা কেজিতে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল মিয়ার মতে, ভারতীয় কাঁচা মরিচের চালান আসার পরই এই দরপতন হয়েছে।

ডিম-আলুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

ডিমের দাম আগের উচ্চমূল্যেই স্থির রয়েছে। প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। টাউন হলের ডিম বিক্রেতা আজমল মিয়া জানান, তাঁরা এখন ফার্ম থেকে ১০০টি ডিম কিনছেন ১ হাজার ২২০ টাকায়।

আলুর দামও গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজিতে। তবে কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে পাঁচ কেজি আলু পাওয়া যাচ্ছে ১৩০ টাকায়।

পেঁয়াজের দামে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। খুচরায় মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

মুরগি ও চালের বাজারও তুলনামূলক স্থিতিশীল। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজিতে এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায়। মিনিকেট চাল ৭৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়ছে

উচ্চমূল্যের প্রভাব সরাসরি পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের সংসারে। গতকাল হাতিরপুল বাজারে কথা হয় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সিফাত শারমিনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, বেশি দামের কারণে কম পরিমাণে সবজি কিনতে হচ্ছে তাঁকে। আগে যেখানে এক কেজি কিনতেন, এখন কিনছেন আধা কেজি। পাশাপাশি রান্নায় বেশি ঝোল দিয়ে সবজির পরিমাণ কম রাখার কৌশল নিয়েছেন তিনি।