চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা বড় আকারে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কৃষি ও পল্লী খাতে এবার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ৩৯ হাজার কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানেই লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৫৪ শতাংশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণা করেন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সময় তিনি চলতি অর্থবছরের কর্মসূচিও তুলে ধরেন।
গত তিন বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনা
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এরপর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা এক হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়। তবে এবার লক্ষ্যমাত্রা আরও ২১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে সরাসরি ৬০ হাজার কোটি টাকায় নেওয়া হয়েছে।
এতে বোঝা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবার কৃষি খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনতে চাইছে।
কেন বাড়ানো হলো লক্ষ্যমাত্রা
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, কৃষি খাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দারিদ্র্য কমানোর লক্ষ্যেও ঋণের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, কৃষি ও পল্লী খাতে পর্যাপ্ত অর্থের জোগান নিশ্চিত হলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়বে। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। এছাড়া এই উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কৃষকদের জন্য নতুন সুযোগ
নতুন নীতিমালায় কৃষকদের ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ আরও সহজ করা হয়েছে। উপরন্তু কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তাই আগামী দিনে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।




















