ঢাকা ০৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত, যেকোনো সময় ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, যেকোনো সময় নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসতে পারে। সচিব কমিটি ইতোমধ্যে পে স্কেলের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে।

বেতন বাড়ানোর বড় প্রস্তাব

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগের পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব কার্যকর হতে পারে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে আংশিক বাস্তবায়ন শুরু করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তবে কত ধাপে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

কেন নতুন পে স্কেল প্রয়োজন?

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক ধরে নতুন কোনো বেতন কাঠামো হয়নি। এ সময়ে সরকারি কর্মচারীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে।

মুখ্য সচিবের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে বেতন সমন্বয় করা এখন জরুরি।

অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ

মুখ্য সচিব বলেন, সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে অর্থনীতি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এখন অপেক্ষা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের

পে স্কেলের খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত হলেও বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন। বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা সমাধানে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটিও কাজ করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত, যেকোনো সময় ঘোষণা: প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, যেকোনো সময় নতুন বেতন কাঠামোর ঘোষণা আসতে পারে। সচিব কমিটি ইতোমধ্যে পে স্কেলের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করেছে।

বেতন বাড়ানোর বড় প্রস্তাব

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

আগের পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব ছিল।

দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

নতুন পে স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব কার্যকর হতে পারে।

চলতি বছরের জুলাই থেকে আংশিক বাস্তবায়ন শুরু করে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পুরো কাঠামো বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। তবে কত ধাপে এটি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।

কেন নতুন পে স্কেল প্রয়োজন?

২০১৫ সালে অষ্টম পে স্কেল কার্যকর হওয়ার পর প্রায় এক দশক ধরে নতুন কোনো বেতন কাঠামো হয়নি। এ সময়ে সরকারি কর্মচারীরা নিয়মিত ইনক্রিমেন্ট পেলেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফলে প্রায় ১৮ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জোরালো হয়েছে।

মুখ্য সচিবের মতে, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি হলেও সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানের সঙ্গে বেতন সমন্বয় করা এখন জরুরি।

অর্থনীতি ও জ্বালানি সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ

মুখ্য সচিব বলেন, সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমানে অর্থনীতি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলার চেষ্টা চলছে।

এ ছাড়া গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও চীন থেকে বহুমুখী সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এখন অপেক্ষা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের

পে স্কেলের খসড়া নীতিগতভাবে চূড়ান্ত হলেও বাস্তবায়নের আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন। বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত কিছু জটিলতা সমাধানে সাত সদস্যের বিশেষ কমিটিও কাজ করছে।