ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি বাড়লেও কারখানার কাজে এখনো পিছিয়ে

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি বাড়লেও কারখানার কাজে এখনো পিছিয়ে

চীনের জনসংখ্যা দিন দিন কমছে এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে শ্রমঘন শিল্পে মানুষের ঘাটতি পূরণ করতে যন্ত্রকে দক্ষ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনে তৈরি রোবটের নাচ ও কুংফু প্রদর্শনী বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এসব প্রদর্শনীর আড়ালে আসল সত্য ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। বাস্তবিক কারখানার কাজের জন্য এসব হিউম্যানয়েড রোবট এখনো অনেক ধীরগতির।

বর্তমানে দক্ষিণ চীনের একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১০০টিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট অনুশীলন করছে। মানুষের সহায়তা নিয়ে রোবটগুলো কফি তৈরি ও বাক্স বাছাইয়ের মতো সহজ কাজ শিখছে। কিন্তু অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের একটি সাধারণ কাজ শেখাতে অন্তত ৫০ বার চেষ্টা করতে হয়। অন্যদিকে নতুনদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ৩০০ বার পর্যন্ত গড়ায়।

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট
চীনে হিউম্যানয়েড রোবট

বাজারে ভর্তুকি ও সরকারের ব্যাপক বিনিয়োগ

চীনে বর্তমানে দেড় শতাধিক হিউম্যানয়েড রোবট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এই সংখ্যা দেশটির বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি ব্র্যান্ডের চেয়েও অনেক বেশি।

চলতি ২০২৬ সালের শুরুতেই স্থানীয় ও রাজ্য সরকারগুলো এই খাতে প্রায় ২৩ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া গবেষণা সংস্থা বিওএফএ জানায়, বেইজিং চলতি বছরেই ১ লাখের বেশি রোবট তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এসব রোবটের ব্যবহার ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে।

তবে বাজারের বাস্তব চাহিদার চেয়ে সরকারি সহায়তার কারণেই মূলত বিক্রয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাবলম্বী না হয়ে কেবল সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করে টিকে রয়েছে। এমনকি শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রোবটগুলোর বুদ্ধিমত্তা এখনো কাজের উপযোগী নয়।

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট
চীনে হিউম্যানয়েড রোবট

প্রথাগত রোবোটিক আর্মের চেয়ে কম সক্ষমতা

উৎসাদন খাতে কাজের গতি ও দক্ষতার বিচারে প্রথাগত রোবোটিক আর্ম এখনো অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান শাওমির ইভি কারখানায় অধিকাংশ জটিল কাজ এই অটোমেটেড হাত দিয়েই করা হয়।

সেখানে হিউম্যানয়েড রোবট কেবল নাট-বল্টু লাগানোর মতো একদম সাধারণ কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে, এই যন্ত্রগুলো মানুষের মাত্র ২০ শতাংশ গতিতে কাজ করতে পারে।

তবে ফার্মেসি খাতে গ্যালবটের তৈরি রোবট কিছুটা সফলতা দেখিয়েছে। সেখানে প্রায় ৯৫ শতাংশ নিখুঁতভাবে ওষুধ সরবরাহে এই প্রযুক্তি সহায়তা করছে।

২০২৭ সালের মধ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তির বাজারে একটি বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে। এতে অলাভজনক ও ভর্তুকিনির্ভর অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিশ্ব উৎপাদন খাতে চীন তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদে তারা শিল্প ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর।

জনপ্রিয় সংবাদ

টাঙ্গুয়ার হাওরে গোসলে নেমে পর্যটকের মৃত্যু, লাশ উদ্ধার

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি বাড়লেও কারখানার কাজে এখনো পিছিয়ে

আপডেট সময় : ০৪:০২:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চীনের জনসংখ্যা দিন দিন কমছে এবং প্রবীণ মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে শ্রমঘন শিল্পে মানুষের ঘাটতি পূরণ করতে যন্ত্রকে দক্ষ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনে তৈরি রোবটের নাচ ও কুংফু প্রদর্শনী বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এসব প্রদর্শনীর আড়ালে আসল সত্য ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। বাস্তবিক কারখানার কাজের জন্য এসব হিউম্যানয়েড রোবট এখনো অনেক ধীরগতির।

বর্তমানে দক্ষিণ চীনের একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১০০টিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট অনুশীলন করছে। মানুষের সহায়তা নিয়ে রোবটগুলো কফি তৈরি ও বাক্স বাছাইয়ের মতো সহজ কাজ শিখছে। কিন্তু অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের একটি সাধারণ কাজ শেখাতে অন্তত ৫০ বার চেষ্টা করতে হয়। অন্যদিকে নতুনদের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া ৩০০ বার পর্যন্ত গড়ায়।

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট
চীনে হিউম্যানয়েড রোবট

বাজারে ভর্তুকি ও সরকারের ব্যাপক বিনিয়োগ

চীনে বর্তমানে দেড় শতাধিক হিউম্যানয়েড রোবট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এই সংখ্যা দেশটির বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি ব্র্যান্ডের চেয়েও অনেক বেশি।

চলতি ২০২৬ সালের শুরুতেই স্থানীয় ও রাজ্য সরকারগুলো এই খাতে প্রায় ২৩ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এছাড়া গবেষণা সংস্থা বিওএফএ জানায়, বেইজিং চলতি বছরেই ১ লাখের বেশি রোবট তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এসব রোবটের ব্যবহার ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে।

তবে বাজারের বাস্তব চাহিদার চেয়ে সরকারি সহায়তার কারণেই মূলত বিক্রয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাবলম্বী না হয়ে কেবল সরকারি ভর্তুকির ওপর নির্ভর করে টিকে রয়েছে। এমনকি শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রোবটগুলোর বুদ্ধিমত্তা এখনো কাজের উপযোগী নয়।

চীনে হিউম্যানয়েড রোবট
চীনে হিউম্যানয়েড রোবট

প্রথাগত রোবোটিক আর্মের চেয়ে কম সক্ষমতা

উৎসাদন খাতে কাজের গতি ও দক্ষতার বিচারে প্রথাগত রোবোটিক আর্ম এখনো অনেক এগিয়ে রয়েছে। বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান শাওমির ইভি কারখানায় অধিকাংশ জটিল কাজ এই অটোমেটেড হাত দিয়েই করা হয়।

সেখানে হিউম্যানয়েড রোবট কেবল নাট-বল্টু লাগানোর মতো একদম সাধারণ কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে দেখা গেছে, এই যন্ত্রগুলো মানুষের মাত্র ২০ শতাংশ গতিতে কাজ করতে পারে।

তবে ফার্মেসি খাতে গ্যালবটের তৈরি রোবট কিছুটা সফলতা দেখিয়েছে। সেখানে প্রায় ৯৫ শতাংশ নিখুঁতভাবে ওষুধ সরবরাহে এই প্রযুক্তি সহায়তা করছে।

২০২৭ সালের মধ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই প্রযুক্তির বাজারে একটি বড় ধরণের পরিবর্তন আসবে। এতে অলাভজনক ও ভর্তুকিনির্ভর অনেক প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবেই বন্ধ হয়ে যাবে।

তবে এসব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বিশ্ব উৎপাদন খাতে চীন তার শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদে তারা শিল্প ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনতে বদ্ধপরিকর।