ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে পারস্য উপসাগরে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

ইরান যুদ্ধে পারস্য উপসাগরে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

চলমান ইরান যুদ্ধে পারস্য উপসাগরে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ও বিস্ফোরিত তেলের ট্যাংক থেকে সমুদ্রে মারাত্মক দূষণ ছড়াচ্ছে। আবুধাবিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল নিউজের এক বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

তেল ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে সামুদ্রিক ক্ষতি

পারস্য উপসাগরীয় সমুদ্রপথটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ। তবে এই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো বড় ধরনের তেল দুর্ঘটনা দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে মাছ ও প্রবালপ্রাচীরসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর বাসস্থান সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে পারে।

অতীতের ইতিহাসও এই আশঙ্কাকে সত্যি বলে প্রমাণ করে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে সমুদ্রে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ফেলা হয়। এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল বিপর্যয় ছিল। বর্তমান সংঘাতের ফলে আবারও তেমন ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

জাহাজে হামলা ও নতুন সংকট

ইরানের যুদ্ধকৌশল এই পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। সম্প্রতি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (অ্যাডনক) বেশ কিছু ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ২০টি জাহাজে আক্রমণ চালানো হয়েছে।

সংকট কেবল পারস্য উপসাগরেই সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৩ সাল থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে ২০২৪ সালের মার্চে রাসায়নিক সার ও তেলবাহী ‘এমভি রুবিমার’ জাহাজটি ডুবে যায়। সমুদ্রে কেমিক্যাল মিশে বিষাক্ত শৈবাল তৈরি হচ্ছে, যা সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য প্রাণঘাতী।

সুপেয় পানি সরবরাহে মারাত্মক হুমকি

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই পারস্য উপসাগরের প্রকৃতি নানা কারণে চাপের মধ্যে ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানির তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি নদী থেকে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় সংকট তৈরি হচ্ছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো ব্যবহারের পানির জন্য সমুদ্রের পানি শোধনাগারের উপর নির্ভরশীল। অনেক দেশে আবাসিক চাহিদার ৮৬ থেকে ১০০ শতাংশ পানি আসে এসব প্ল্যান্ট থেকে। সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়লে কেবল মাছ নয়, মানুষের পানীয় জলের সরবরাহও পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে। অথচ এই যুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি একেবারেই গুরুত্ব পাচ্ছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

কৃষি ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা: ডেপুটি স্পিকার

ইরান যুদ্ধে পারস্য উপসাগরে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

চলমান ইরান যুদ্ধে পারস্য উপসাগরে চরম পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজ ও বিস্ফোরিত তেলের ট্যাংক থেকে সমুদ্রে মারাত্মক দূষণ ছড়াচ্ছে। আবুধাবিভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনাল নিউজের এক বিশ্লেষণে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে।

তেল ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে সামুদ্রিক ক্ষতি

পারস্য উপসাগরীয় সমুদ্রপথটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথ। তবে এই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো বড় ধরনের তেল দুর্ঘটনা দ্রুত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে মাছ ও প্রবালপ্রাচীরসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর বাসস্থান সম্পূর্ণ ধ্বংস হতে পারে।

অতীতের ইতিহাসও এই আশঙ্কাকে সত্যি বলে প্রমাণ করে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে সমুদ্রে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ফেলা হয়। এটি ইতিহাসের দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল বিপর্যয় ছিল। বর্তমান সংঘাতের ফলে আবারও তেমন ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

জাহাজে হামলা ও নতুন সংকট

ইরানের যুদ্ধকৌশল এই পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। সম্প্রতি আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (অ্যাডনক) বেশ কিছু ট্যাংকার হামলার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের প্রায় ২০টি জাহাজে আক্রমণ চালানো হয়েছে।

সংকট কেবল পারস্য উপসাগরেই সীমাবদ্ধ নেই। ২০২৩ সাল থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা চালাচ্ছে। এর ফলে ২০২৪ সালের মার্চে রাসায়নিক সার ও তেলবাহী ‘এমভি রুবিমার’ জাহাজটি ডুবে যায়। সমুদ্রে কেমিক্যাল মিশে বিষাক্ত শৈবাল তৈরি হচ্ছে, যা সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য প্রাণঘাতী।

সুপেয় পানি সরবরাহে মারাত্মক হুমকি

যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই পারস্য উপসাগরের প্রকৃতি নানা কারণে চাপের মধ্যে ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পানির তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা দ্রুত বাড়ছে। পাশাপাশি নদী থেকে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় সংকট তৈরি হচ্ছে।

উপসাগরীয় দেশগুলো ব্যবহারের পানির জন্য সমুদ্রের পানি শোধনাগারের উপর নির্ভরশীল। অনেক দেশে আবাসিক চাহিদার ৮৬ থেকে ১০০ শতাংশ পানি আসে এসব প্ল্যান্ট থেকে। সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়লে কেবল মাছ নয়, মানুষের পানীয় জলের সরবরাহও পুরোপুরি বন্ধ হতে পারে। অথচ এই যুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের বিষয়টি একেবারেই গুরুত্ব পাচ্ছে না।