ঢাকা ১২:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলমাকান্দায় ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিনিধি সভা: রেশন ও মজুরির দাবি



ফটোকার্ড ডাউনলোড

পলাশ সাহা, নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর দুইটায় উপজেলা সিপিবি কার্যালয়ে এই সভা আয়োজন করা হয়।

সমিতির উপজেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে নেতারা রেশন, পেনশন ও সারা বছর কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

প্রতিনিধি সভা ও শোভাযাত্রা

বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কলমাকান্দা উপজেলা শাখা এই সভার আয়োজন করে। সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কমিটির সভাপতি সুবাশ হাজং। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কমরেড রঞ্জন কুমার সাহা।

আলোচনা সভা শেষে নেতৃবৃন্দ উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। সেখানে উপস্থিত কর্মীরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত স্লোগান দেন।

প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি অধিকার আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আলকাছ উদ্দিন মীর বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে আরও বক্তব্য দেন জেলা ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমরেড হাবিবুর রহমান।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের একাধিক বামপন্থী নেতা সভায় তাদের মতামত তুলে ধরেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সভাটি বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ক্ষেতমজুরদের জীবনযাত্রার সংকট

বক্তারা বলেন, কৃষির ভিত্তি হলেও ক্ষেতমজুরেরা সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। বর্তমান বাজারে তাদের ন্যায্য মজুরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফলশ্রুতিতে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। তাই রেশনিং ব্যবস্থা ও ষাটোর্ধ্বদের জন্য পেনশন চালুর দাবি জানানো হয়।

অর্থনৈতিক বৈষম্য ও প্রতিকারের আহ্বান

ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়েছে। অথচ স্বাধীনতার এতদিন পর তারা ন্যায্য সম্মান পায় না।

কৃষি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকের পাশাপাশি শ্রমিকেরাও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে খেটে খাওয়া মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

অতএব, শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে মেহনতি মানুষকে বামপন্থী পতাকাতলে আসার অনুরোধ জানানো হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল তাদের নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো

কলমাকান্দায় ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিনিধি সভা: রেশন ও মজুরির দাবি

আপডেট সময় : ১১:০০:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬


ফটোকার্ড ডাউনলোড

পলাশ সাহা, নেত্রকোণা প্রতিনিধি: নেত্রকোণার কলমাকান্দায় ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর দুইটায় উপজেলা সিপিবি কার্যালয়ে এই সভা আয়োজন করা হয়।

সমিতির উপজেলা শাখা এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে নেতারা রেশন, পেনশন ও সারা বছর কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

প্রতিনিধি সভা ও শোভাযাত্রা

বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি কলমাকান্দা উপজেলা শাখা এই সভার আয়োজন করে। সভার সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কমিটির সভাপতি সুবাশ হাজং। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কমরেড রঞ্জন কুমার সাহা।

আলোচনা সভা শেষে নেতৃবৃন্দ উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। সেখানে উপস্থিত কর্মীরা বিভিন্ন দাবি সম্বলিত স্লোগান দেন।

প্রধান ও বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কমরেড ডা. দিবালোক সিংহ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি অধিকার আদায়ে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া সিপিবি জেলা সাধারণ সম্পাদক কমরেড আলকাছ উদ্দিন মীর বিশেষ অতিথি ছিলেন। এতে আরও বক্তব্য দেন জেলা ক্ষেতমজুর সমিতির সাধারণ সম্পাদক কমরেড হাবিবুর রহমান।

উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের একাধিক বামপন্থী নেতা সভায় তাদের মতামত তুলে ধরেন। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সভাটি বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ক্ষেতমজুরদের জীবনযাত্রার সংকট

বক্তারা বলেন, কৃষির ভিত্তি হলেও ক্ষেতমজুরেরা সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত। বর্তমান বাজারে তাদের ন্যায্য মজুরি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফলশ্রুতিতে খেটে খাওয়া মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। তাই রেশনিং ব্যবস্থা ও ষাটোর্ধ্বদের জন্য পেনশন চালুর দাবি জানানো হয়।

অর্থনৈতিক বৈষম্য ও প্রতিকারের আহ্বান

ডা. দিবালোক সিংহ বলেন, দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়েছে। অথচ স্বাধীনতার এতদিন পর তারা ন্যায্য সম্মান পায় না।

কৃষি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকের পাশাপাশি শ্রমিকেরাও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ফলে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে খেটে খাওয়া মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

অতএব, শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে মেহনতি মানুষকে বামপন্থী পতাকাতলে আসার অনুরোধ জানানো হয়। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল তাদের নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব।