নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের তিন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতি লাখ কোটি টাকা ছাড়ানোর মুখে পড়েছে।
আমদানিনির্ভর জ্বালানি কাঠামোর কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি), পেট্রোবাংলা এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছানো এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে জটিলতায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে ভর্তুকির চাপ অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে। সংকট সামাল দিতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালাচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা ও ফার্নেস অয়েলের চড়া দামের প্রভাবে পিডিবির আর্থিক সংকটের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে প্রাথমিক লোকসান ৪৫ হাজার কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা ৬০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কারণে গত ছয় মাসে পেট্রোবাংলার ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৯ কার্গো এলএনজি কেনার বিপরীতে সংস্থাটির আর্থিক ক্ষতি হবে আরও প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা। যুদ্ধের আগে প্রতি কার্গো এলএনজির খরচ ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা এক হাজার ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত ছয় মাসে ৬২ কার্গো এলএনজি আমদানিতে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। বর্তমানে দেশে মিশ্রিত গ্যাসের প্রতি ইউনিটের ক্রয় ও সরবরাহ ব্যয় পড়ছে ৪৫ টাকা, যা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৩ দশমিক ৯০ টাকায়।
বেশি দামে কিনে অভ্যন্তরীণ বাজারে কম দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ করায় আগস্ট পর্যন্ত বিপিসির পুঞ্জীভূত লোকসান ২২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে ক্ষতি হয়েছে ২০ হাজার ৫৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে জ্বালানি পণ্য আমদানিতে বিপিসির প্রয়োজন হবে ২৮ হাজার ৮৭৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম না কমলে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু ডিজেল খাতেই সরকারকে লিটারপ্রতি ৫৭ টাকার বেশি ভর্তুকি গুনতে হতে পারে।



















