ঢাকা ০২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-পেমেন্ট ক্রেডিট: মিলবে ১০ হাজার টাকা ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-পেমেন্ট ক্রেডিট: মিলবে ১০ হাজার টাকা ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগে চালু হতে যাচ্ছে ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সেবা। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ডিজিটাল ঋণ পাবেন। মূলত নগদ টাকার সাময়িক সংকট দূর করতেই ব্যাংকটি এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে সাধারণ মানুষ আরও উৎসাহিত হবেন।

ই-পেমেন্ট ক্রেডিট সুবিধার মূল ক্ষেত্রসমূহ

এই ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে এই অর্থ গ্রাহক কখনোই নগদ আকারে তুলতে পারবেন না। ব্যাংক হিসাব বা এমএফএস ওয়ালেটেও এই টাকা জমা করার সুযোগ নেই।

বরং অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা সরাসরি সেবাদাতার কাছে চলে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ, গ্যাস বা ইউটিলিটি বিল পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্রমণ খরচ চালানো যাবে। এর বাইরে সরকারি ফি, বিমার প্রিমিয়াম এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধেও এই সুবিধা মিলবে।

সেবা ফি ও মেয়াদ

গ্রাহকেরা ঋণ পরিশোধের জন্য ৭, ১৫ ও ৩০ দিন পর্যন্ত মেয়াদ পাবেন। তবে ব্যাংক এই ঋণে কোনো অতিরিক্ত সুদ আরোপ করবে না। এর বদলে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত পরিমাণে সেবা ফি আদায় করবে।

  • ৫০ থেকে ২৫০ টাকা ঋণে ফি: ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা।

  • ৭,০০১ থেকে ১০,০০০ টাকা ঋণে ফি: ৭ দিনের জন্য ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা।

সময়মতো অর্থ ফেরত দিলে কোনো অতিরিক্ত বাড়তি ফি দিতে হবে না। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলে জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। তবে এই জরিমানার পরিমাণ দৈনিক সেবা ফির চেয়ে বেশি হবে না।

বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো অন্তত ছয় মাস এটি পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করবে। পরবর্তীতে পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনা করে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করা হবে। সম্পূর্ণ কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন আবশ্যক।

এদিকে পুরো ঋণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি এবং দুই বা একাধিক স্তরের যাচাই পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে। তদুপরি ব্যাংকগুলো এমএফএস ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারত্ব করতে পারবে।

সমগ্র উদ্যোগটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক সুরক্ষা নীতিমালার অধীনে থাকবে। ফলে গ্রাহকেরা নিরাপদ প্রক্রিয়ায় সহজেই এই ঋণ পাবেন। এর ফলে দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

#বাংলাদেশব্যাংক #ইপেমেন্টক্রেডিট #ডিজিটালঋণ #অর্থবাণিজ্য #ব্যাংকিংসংবাদ

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষার্থীদের পুঁজিবাজার সচেতনতা বাড়াতে লংকাবাংলা ও এক্সিলেন্স বাংলাদেশের চুক্তি

বাংলাদেশ ব্যাংকের ই-পেমেন্ট ক্রেডিট: মিলবে ১০ হাজার টাকা ঋণ

আপডেট সময় : ১২:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন উদ্যোগে চালু হতে যাচ্ছে ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সেবা। এর ফলে জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহকেরা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ডিজিটাল ঋণ পাবেন। মূলত নগদ টাকার সাময়িক সংকট দূর করতেই ব্যাংকটি এই বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। এছাড়া এর মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে সাধারণ মানুষ আরও উৎসাহিত হবেন।

ই-পেমেন্ট ক্রেডিট সুবিধার মূল ক্ষেত্রসমূহ

এই ব্যবস্থার আওতায় যোগ্য গ্রাহকেরা ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। তবে এই অর্থ গ্রাহক কখনোই নগদ আকারে তুলতে পারবেন না। ব্যাংক হিসাব বা এমএফএস ওয়ালেটেও এই টাকা জমা করার সুযোগ নেই।

বরং অনুমোদিত ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে টাকা সরাসরি সেবাদাতার কাছে চলে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ, গ্যাস বা ইউটিলিটি বিল পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবেন। পাশাপাশি মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভ্রমণ খরচ চালানো যাবে। এর বাইরে সরকারি ফি, বিমার প্রিমিয়াম এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধেও এই সুবিধা মিলবে।

সেবা ফি ও মেয়াদ

গ্রাহকেরা ঋণ পরিশোধের জন্য ৭, ১৫ ও ৩০ দিন পর্যন্ত মেয়াদ পাবেন। তবে ব্যাংক এই ঋণে কোনো অতিরিক্ত সুদ আরোপ করবে না। এর বদলে প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত পরিমাণে সেবা ফি আদায় করবে।

  • ৫০ থেকে ২৫০ টাকা ঋণে ফি: ৭ দিনের জন্য ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা।

  • ৭,০০১ থেকে ১০,০০০ টাকা ঋণে ফি: ৭ দিনের জন্য ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা।

সময়মতো অর্থ ফেরত দিলে কোনো অতিরিক্ত বাড়তি ফি দিতে হবে না। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলে জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। তবে এই জরিমানার পরিমাণ দৈনিক সেবা ফির চেয়ে বেশি হবে না।

বাস্তবায়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো অন্তত ছয় মাস এটি পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা করবে। পরবর্তীতে পাইলট প্রকল্পের ফলাফল পর্যালোচনা করে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করা হবে। সম্পূর্ণ কার্যক্রম চালুর ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন আবশ্যক।

এদিকে পুরো ঋণ প্রক্রিয়াটি ডিজিটালভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওটিপি এবং দুই বা একাধিক স্তরের যাচাই পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে। তদুপরি ব্যাংকগুলো এমএফএস ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারত্ব করতে পারবে।

সমগ্র উদ্যোগটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক সুরক্ষা নীতিমালার অধীনে থাকবে। ফলে গ্রাহকেরা নিরাপদ প্রক্রিয়ায় সহজেই এই ঋণ পাবেন। এর ফলে দেশে ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যবহার বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

#বাংলাদেশব্যাংক #ইপেমেন্টক্রেডিট #ডিজিটালঋণ #অর্থবাণিজ্য #ব্যাংকিংসংবাদ